ওরা আধুনিক যুগের রোমিও-জুলিয়েট

ইবির দুই শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

ইবি প্রতিনিধি

ওদের প্রেম ছিল গভীর। ওদের ভালোবাসায় জন্ম নিয়েছিল রোমিও-জুলিয়েটের আত্মা। এমন এক প্রেমের কুসুম কাননে হানা দেয় সংসার ও সামাজের নানা হিসাব-কিতাবের টানাপড়েন। না ওরা সংসারের কীটবৎ কুটিল চিন্তার শিকার হতে চাননি। ওরা বেছে নিয়েছেন পৃথিবী ছাড়ার নিষ্ঠুর অভিমানী পথ। ইসলামী বিশ^দ্যিালয়ের (ইবি) এই দুই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাত্রীটি গলায় ফাঁসি নিয়ে এবং অন্যজন (ছাত্র) ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান। রোকনুজ্জামান রোকন ও মুমতা হেনা আফরোজ নামের ওই দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মাস্টার্স একই বর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। এই দুই শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী। ক্যাম্পাসে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহপাঠীদের চোখ ভাসছে দুঃখের জলে। ছাত্র রোকনুজ্জামান রোকন এবং তার সহপাঠিনী মুমতা হেনা আফরোজ মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নিজেদের সম্পর্কে টানাপড়েনের কারণে হেনা গতকাল সন্ধ্যায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। প্রেমিকার এমন আত্মহত্যার কথা শুনে প্রেমিক রোকনও রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মতি মিয়া রেলগেট নামক স্থানে শাটল ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুমতা হেনা আফরোজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফুল ইসলামের মেয়ে। তার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায়। এ ছাড়া রোকনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলায়। রোকন কুষ্টিয়ার পেয়ারাতলার একটি ছাত্রাবাসে থাকতেন।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ এমদাদুল হক এ বিষয়ে বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ঝিনুক টাওয়ারের পঞ্চম তলায় শয়নকক্ষ থেকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস নেওয়া ইবি ছাত্রীর উদ্ধার লাশ করা হয়েছে। এখনো আত্মহত্যার কারণ জানা যায়নি, তদন্ত চলছে।’

কুষ্টিয়া পোড়াদহ জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আজিজ জানান, ‘পোড়াদাহ থেকে ছেড়ে যাওয়া গোয়ালন্দগামী শাটল ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলায়। লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি গতকাল রাত ৮টার দিকে বিষয়টি জানতে পারি। আত্মহত্যাকারী দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে হঠাৎ দুজনই কি কারণে এমন আত্মহুতির সিদ্ধান্ত নিলেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।’

এদিকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ওই শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম শাহিনুর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা। গতকাল শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ দফতরের সহকারী রেজিস্ট্রার রাশেদুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বার্তায় তারা এ শোক ও সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় তারা বলেন, ‘রোকনুজ্জামান এবং হেনার পরিবারের সঙ্গে আজ আমরাও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা শোকাহত ও ব্যথিত। জীবনে চলার পথে ঘাত-প্রতিঘাত এবং যে কেন সমস্যা আসতেই পারে। কিন্তু আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। এ ধরনের অকালমৃত্যু কারো কাম্য নয়।’

 

"