নিয়োগে জালিয়াতি

সরকারি কর্মকর্তাসহ ৯ জন সিআইডির হাতে ধরা

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিসিএস পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, ব্যাংক ও সরকারি চাকরির নিয়োগে ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগে সরকারি কর্মকর্তাসহ ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগÑ সিআইডি। বুধবার রাতে রাজধানীতে অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মোল্যা নজরুল ইসলাম। রাজধানীর মালিবাগের সিআইডি সদর দফতরে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মোল্যা নজরুল বলেন, কয়েক বছরে জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও সরকারি চাকরিতে শতাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছে। জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া বেশ কয়েকজনের তথ্য পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত পাঁচ দিনের সাঁড়াশি অভিযানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ডিজিটাল প্রশ্ন ফাঁস চক্রের মাস্টার মাইন্ড বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাস, বিএডিসির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, ৩৬তম বিসিএসে নন-ক্যাডার পদে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক হিসেবে সুপারিসপ্রাপ্ত ইব্রাহিম এবং ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিতে উত্তীর্ণ আইয়ূব আলী বাঁধনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া কেন্দ্রে পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে প্রশ্ন সরবরাহের অভিযোগে রাজধানীর অগ্রণী স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক গোলাম মোহাম্মদ বাবুল, পিওন আনোয়ার হোসেন মজুমদার, নুরুল ইসলাম এবং ধানমন্ডি গভ. বয়েজ স্কুলের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক হোসনে আরা বেগম ও পিওন হাসমত আলী শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নজরুল বলেন, অলিপ কুমার বিশ্বাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জালিয়াতির মাস্টারমাইন্ড। কয়েক বছরে সে জালিয়াতির মাধ্যমে তিন কোটি টাকা আয় করেছে। ইব্রাহিম, মোস্তফা ও বাঁধন বিসিএস পরীক্ষাসহ সকল নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির মূলহোতা। এদের চারজনের প্রায় ১০ কোটি টাকার নগদ অর্থ ও সম্পদের সন্ধান পেয়েছে সিআইডি।

অলিপ, ইব্রাহিম, বাঁধন ও মোস্তফাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি আরো বলেন, কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন ফাঁসের পর আলিয়া মাদরাসা এবং ঢাবির এফ রহমান হলের দুটি কক্ষে বসে অভিজ্ঞদের দিয়ে সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের সরবরাহ করত তারা।

আসামিদের মধ্যে ইব্রাহিম বিলাসী জীবনযাপন করতেন। মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের ইব্রাহিম যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৬তম বিসিএসে নিয়োগের জন্য সুপারিসপ্রাপ্ত হন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হলেও তার খুলনা এলাকায় চার তলা বাড়ি ও নড়াইলে ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে। রাজধানীতে রূপালী মানি এক্সচেঞ্জ নামে তার একটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মোল্যা নজরুল বলেন, গত ১৯ অক্টোবর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি হলে অভিযান চালানো হয়। এরপর বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে নাটোরের ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসানসহ এ পর্যন্ত ৩৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

"