হলি আর্টিজানে হামলা

পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে পরোয়ানা

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনায় আট আসামির বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পলাতক দুইজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। তারা হলেন- শহীদুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন। গতকাল বুধবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মুজিবুর রহমান এই আদেশ দেন। আদেশে ওই দুই আসামিকে গ্রেফতারের বিষয়ে অগ্রগতি জানিয়ে আগামী ১৬ আগস্ট পুলিশকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার সুপারিশ অনুযায়ী, এই মামলায় কারাগারে থাকা নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমকে অব্যাহতি দিয়েছেন বিচারক।

দুই বছর তদন্ত শেষে এই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে পাঠানো হয়। এই ঘটনায় হাসনাত করিমের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে মামলার অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় ২১ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। যাদের মধ্যে পাঁচজন ওই দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হন। তারা হলেন- রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।

এ ছাড়া আরো আটজন পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে নিহত হন। তারা হলেন- তামীম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।

জীবিত বাকি আটজনের মধ্যে ছয়জন গ্রেফতারের পর কারাগারে রয়েছে। তারা হলেন- রাজীব গান্ধী, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাতকাটা সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর ও রাশেদ ইসলাম ওরফে আবু জাররা। বাকি দুইজন পলাতক। ওই ঘটনায় পাওয়া ৭৫টি আলামতও আদালতে পাঠানো হয়।

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে (স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ) হামলা চালানো হয়। এতে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। এর আগে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর গ্রেনেড হামলা চালায় জঙ্গিরা। গ্রেনেড হামলায় ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন আহমেদ নিহত হন। পরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। অভিযানে অংশ নেওয়া পাঁচ জঙ্গির সবাই নিহত হন।

হলি আর্টিজান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক তামিম আহমেদ চৌধুরীকে।

২০১৬ সালের ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় জঙ্গিবিরোধী এক অভিযানে দুই সহযোগীসহ নিহত হন তামিম। রায়হান কবির তারেক ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে আট সহযোগীসহ নিহত হন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর মিরপুরের রূপনগরে সিটিটিসির জঙ্গিবিরোধী অভিযানে মারা যান। হামলাকারীদের আশ্রয়দাতা তানভীর কাদেরী নিহত হন ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আজিমপুরে এক অভিযানে।

হামলার পরিকল্পনায় অন্যতম সহযোগী সরোয়ার জাহান মানিক ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর আশুলিয়ায় র‌্যাবের অভিযান চলাকালে পালাতে গিয়ে পাঁচ তলা থেকে নিচে পড়ে নিহত হন।

নুরুল ইসলাম মারজান ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় সিটিটিসি ইউনিটের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক সহযোগীসহ নিহত হন।

বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান নিহত হন ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সিটিটিসির অভিযানে।

"