ঈদের আগাম ট্রেন-টিকিট

কমলাপুরে দীর্ঘ লাইন

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রথম দিন কমলাপুর স্টেশনে টিকিট প্রত্যাশীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। অন্যান্য বছর ঈদের টিকিট বিক্রির প্রথম দুই দিন তেমন একটা ভিড় থাকে না। ঈদের সরকারি ছুটি শুরুর আগের দিনের টিকিটের চাহিদা বেশি থাকে বলে ভিড়ের চাপ বেশি থাকে টিকিট বিক্রি শুরুর তৃতীয় দিন থেকে। তবে গতকাল বুধবার বিভিন্ন রুটের ট্রেনের টিকিটের জন্য আগের রাত থেকেই ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টারে অপেক্ষায় ছিলেন টিকিট প্রত্যাশীরা। কেউ এসে টিকিটের লাইনে দাঁড়িয়েছেন গত মঙ্গলবার রাতে, কেউ বা সেই লাইনে এসে সামিল হয়েছেন গতকাল ভোরের দিকে। সবারই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কাক্সিক্ষত টিকিটের অপেক্ষা। তবে এত দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে ট্রেনের এসি টিকিট পাননি বলে অভিযোগ জানিয়েছেন। নারী কাউন্টারের সামনে জুঁই নামে একজন বললেন, তিনি কমলাপুরে এসেছেন রাত ৯টায়। কিন্তু ১১ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রত্যাশা অনুযায়ী, এসি টিকিট পাননি। আমি রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের এসি টিকিট চেয়েছিলাম। লাইনে আমি সবার আগে। আমিই যদি এসি টিকিট না পাই তাহলে এসি টিকিট গেল কই?

সকাল ৮টায় কাউন্টার খোলার সময় লাইন দেখা যায় স্টেশনের মূল ফটক পর্যন্ত। ঈদের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করতে কমলাপুরে মানুষের ঢল নেমেছে। সূচি অনুযায়ী, বুধবার বিক্রি হয়েছে ১৭ আগস্টের বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেনের টিকিট। লাইনে সামনের দিকে যারা ছিলেন, প্রত্যাশিত টিকিট তারা পেয়েছেন। তবে পেছনে থাকা অনেককে টিকিট না পাওয়ার হতাশা নিয়েই প্ল্যাটফর্ম ছাড়তে হয়েছে।

হাফিজুর রহমান নামের একজন জানান, রাজশাহীর ট্রেনের টিকেটের জন্য গত মঙ্গলবার রাত ৮টায় কমলাপুর স্টেশনে আসেন তিনি। কাউন্টারের সামনে তার সামনে ছিলেন ২৯ জন। তারপরও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরার টিকিট পাননি তিনি।

হাফিজুর বলেন, এসি টিকিটের জন্য কালকে (আজ) আবার আসব। যদি না পাই পরের দিন আবার আসব। তাও টিকিট না পেলে এবার ঈদে বাড়িই যাব না।

ব্যাংক কর্মকর্তা আইনুল হক রাজশাহীর টিকিটের জন্য কাউন্টারে এসেছিলেন গত মঙ্গলবার রাত ১০টায়। সারা রাত অপেক্ষার পর বুধবার সকাল ৯টায় তিনি কাক্সিক্ষত টিডিকট হাতে পান।

আইনুল বলেন, আমি এমনিতে বাসেই যাই। কিন্তু ফোর লেনের কাজের জন্য এবার অনেক যানজট। সময়ও বেশি লাগছে। এ জন্য ট্রেনে যাব। চট্টগ্রামের ট্রেনের টিকিটের জন্যও কাউন্টারের সামনে বেশ ভিড় দেখা যায়। এ কাউন্টারের সামনে সাইফুজ্জামান শোভন নামে একজন বললেন, তিনি লাইনে দাঁড়িয়েছেন রাত ১০টায়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে টিকিট হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত শোভন বলেন, এসি টিকিট চেয়েছিলাম, পেয়ে গেছি। খুবই ভালো লাগছে। আরামে যাওয়া যাবে।

এদিন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটের ট্রেনের টিকিটের চাহিদা ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুরের ট্রেন নীলসাগর ও লালমনি এক্সপ্রেসের বেশিরভাগ টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে যায় বেলা সাড়ে ১০টার মধ্যে। একই অবস্থা দেখা যায় দেওয়ানগঞ্জের তিস্তা এক্সপ্রেসের টিকিটের ক্ষেত্রেও।

গতকাল বিভিন্ন আন্তনগর ট্রেনের ২৩ হাজার ৫৩৬টি অগ্রিম টিকিট দেওয়া হয়েছে জানিয়ে কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্ত্তী বলেন, মোটামুটি সুশৃঙ্খলভাবেই টিকিট দেওয়া হয়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত টিকিট না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসি টিকিটের চাহিদা বেশি। এ জন্য সবার প্রত্যাশা অনুযায়ী, টিকিট দেওয়া যায় না। তবে এখনো অনেক কাউন্টারে নন-এসি টিকেট পাওয়া যাচ্ছে।

"