চুক্তিতে নয়, বেতনে বাস চালাবেন চালকরা

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে চালকরা চুক্তিভিত্তিক কোনো বাস চালাতে পারবেন না; দিন হিসেবে বাস চালানোর জন্য মালিকদের কাছ থেকে বেতন পাবেন তারা। আর আজ থেকে রাজধানীর প্রতিটি বাস টার্মিনালে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও চালকের লাইসেন্স পরিদর্শনে নামবেন বাস মালিকরা। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ মতিঝিলে পরিবহন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। তিনি বলেন, এত দিন ধরে ঢাকায় বাসচালকরা চুক্তিভিত্তিক বাস চালানোর জন্য নানা সমস্যা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে তারা চুক্তিভিত্তিক কোনো বাস চালাতে পারবেন না; দিন হিসেবে বাস চালানোর জন্য মালিকদের কাছ থেকে বেতন পাবেন চালকরা।

এনায়েত উল্যাহ বলেন, এই নির্দেশনা ঠিকমতো কার্যকর হচ্ছে কিনাÑ তা দেখার জন্য সমিতির নেতারা রাস্তায় থাকবেন। লাইসেন্সবিহীন চালক ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় যাতে নামতে পারে সেটি পরীক্ষার জন্য টার্মিনালে মালিক-শ্রমিকের প্রতিনিধির টিম থাকবে। সকালবেলা গাড়ি বের হওয়ার সময় লাইসেন্স ও ফিটনেস গাড়ি চলবে না।

তিনি বলেন, মালিক পরিবহন সমিতি আট বছর ধরে সড়ক পরিবহন আইনের বিরোধিতা করেছে। এখন এটি পাস হয়েছে। এই আইনের আমাদের পূর্ণ সমর্থন আছে তবে আইনের কিছু কিছু দিক খুব বেশি কঠোর। এগুলো কমানোর জন্য সুপারিশ জানাব।

এনায়েত উল্যাহ বলেন, আগে বাস কোম্পানিগুলো ক্ষতিপূরণ দিত না বললেই চলে। কিন্তু এই আইনে ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার সুযোগ নেই। ক্ষতিপূরণ দিতেই হবে।

তিনি আরো বলেন, চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চললে প্রতিযোগিতা বেশি হয়, দুর্ঘটনা বাড়ে। আমরা এটা করতে দেব না। যে কোম্পানি এটা মানবে না তার লাইসেন্স বাতিল করার জন্য আমরা সুপারিশ করব। আর আমাদের সমিতির আওতায় হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেব। আমরা প্রতিটি বাস টার্মিনালে চেক করব কোনো গাড়ি ফিটনেস সনদ, চালকের লাইসেন্স ছাড়া চলে কিনা। কারো (চালকের) কাগজপত্রের ঘাটতি থাকলে তাকে চলতে দেওয়া হবে না। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মালিকদের সময় দিচ্ছি তারা যেন এর মধ্যে সব কিছু ঠিক করে নেয়।

এ সময় তিনি চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চালানো বন্ধ করতে সড়কের পাশে টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থা রাখার জন্য সিটি করপোরেশনকে আহ্বান জানান।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মহাখালী বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালামসহ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বেপরোয়া বাসের পাল্লাপাল্লিতে চাপায় পড়ে দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এর প্রতিবাদে এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে সড়ক পরিবহন আইনও অনুমোদন করে। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতেই মালিক-শ্রমিক কর্তৃপক্ষ চুক্তির ভিত্তিতে গাড়ি রাস্তায় নামানোর পদ্ধতি থেকে সরে এলো বলে মনে করা হচ্ছে।

"