ঈদের আগাম টিকিট

উপচে পড়া ভিড় বাস টার্মিনালে

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

কয়েকদিনের অচলাবস্থার পর স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে রাজধানীর সড়কের চিত্র। আবার সেই যানজটের চিরচেনা চেহারায় ফিরেছে সড়ক। বাস টার্মিনাল থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে দূরপাল্লার বাস ছেড়ে গেছে। তবে সিটিং সার্ভিসের সংখ্যা ছিল কম। এদিকে, ঈদের আগাম টিকিট নিতে বাস টার্মিনালগুলোয় উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আর শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘটের পর রাজধানীর সড়কে শুরু হয়েছে যান

চলাচল। তবে, অন্য যেকোনো স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় রাস্তায় গণপরিবহনের সংখ্যা ছিল কম। আর তাই কাক্সিক্ষত বাসের দেখা পেতে কাউকে দেখা যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে। আবার কেউবা পিকআপ বা ট্রাকে করে রওনা হন নির্দিষ্ট গন্তব্যে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

গতকাল মঙ্গলবারও রাজধানীতে আসা এবং ছেড়ে যাওয়া যানবাহনগুলোর কাগজপত্রসহ গাড়ির ফিটনেস চেক করছে পুলিশ। আর এই অজুহাতে অনেক পরিবহন মালিক বাস নামাননি। তবে সকাল থেকেই রাজধানীর সায়েদাবাদসহ অন্য বাস টার্মিনালগুলো থেকে স্বাভাবিকভাবেই ছেড়ে গেছে দূরপাল্লার বাস।

ভোররাত থেকেই অনেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ২০ আগস্টের টিকিটের জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে বিক্রি শুরুর দুই ঘণ্টার মধ্যেই টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করছেন প্রত্যাশীরা। প্রতি বছরই টিকিট নিয়ে হাহাকার এবং এক রকম ‘যুদ্ধাবস্থা’ থাকে। এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে সে রকম চিত্র দেখা যাচ্ছে না। যদিও অধিকাংশ যাত্রীর অভিযোগ, কাক্সিক্ষত রুটে কাক্সিক্ষত তারিখের টিকিট মিলছে না। এসি বাসের টিকিট চাইলেও মিলছে না।

মুগ্ধ নামে বগুড়ার এক যাত্রী জানান, ৩ ঘণ্টা কল্যাণপুরের শ্যামলী কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকতেই শুনতে পাচ্ছিলাম ২০ তারিখের টিকিটের হাহাকার। ১৮ তারিখের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। ২০ তারিখের টিকিট মিললেও তা বাসের পেছনে। বাধ্য হয়ে ১৯ তারিখের টিকিট কেটেছেন তিনি।

তবে শ্যামলী কাউন্টারের ম্যানেজার আলমগীর হোসেন জানান, এবার শ্যামলী পরিবহনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে কল্যাণপুর, শ্যামলী ও আসাদগেট কাউন্টার থেকে। সব রুটের সব দিনের পর্যাপ্ত টিকিট রয়েছে শ্যামলী পরিবহনে। কাউকে ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। তবে ২০ আগস্টের টিকিটের চাহিদা বেশি।

গাবতলী হানিফ এন্টারপ্রাইজের জেনারেল ম্যানেজার মোশাররফ হোসেন বলেন, চাকরিজীবীরা ২০ তারিখ রাতের টিকিট চাচ্ছেন বেশি। সবাই যদি একই তারিখের টিকিট চান তবে তা পূরণ করা কঠিন। আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে টিকিট দেওয়ার।

এসআর ট্রাভেলসের ম্যানেজার মো. আমিন নবী জানান, টিকিটের দাম বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত। যারা বগুড়ার টিকিট পাচ্ছেন না কিংবা ভালো মানের টিকিট চাচ্ছেন, তাদের একই রুটের অন্য জেলার টিকিট দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এবার কাউন্টারে চাপ কম। অনলাইনেই বেশি টিকিট বিক্রি হচ্ছে। সীমিতসংখ্যক বাসের কারণে এবারও ঈদ সেবায় বেশি টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

গাইবান্ধা রুটের বাস আল হামরার ম্যানেজার দেলওয়ার হোসেন বলেন, প্রত্যাশিত দিনের টিকিটপ্রত্যাশীরা কিনে ফেলেছেন। চাপ বেশি বলে জানান তিনিও। একই অবস্থা ডিপজল, নাবিল, টিআর ট্রাভেলস, দেশ ট্রাভেলস, ন্যাশনাল ট্রাভেলস, শাহজাদপুর ও পাবনা এক্সপ্রেসে।

 

"