৫৭ ধারায় মামলা

আলোকচিত্রী শহিদুল ৭ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। রমনা থানায় দায়ের করা এই মামলায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ‘ভীতি ও সন্ত্রাস’ ছড়াতে ইন্টারনেটে ‘কল্পনাপ্রসূত উসকানিমূলক মিথ্যা’ তথ্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুলের বিরুদ্ধে। তাকে গত রোববার রাতে আটকের পর গতকাল সোমবার বিকেলে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন গোয়েন্দা পরিদর্শক আরমান আলী। এ বিষয়ে শুনানি করে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূর সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে শহিদুলকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কড়া নিরাপত্তা ও পুলিশি পাহারার মধ্যে খালি পায়ে শহিদুলকে এজলাসের সামনে আনা হয়। ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়–য়া, অ্যাডভোকেট প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস, জীবানন্দ চন্দ্র জয়ন্তসহ ১০-১২ জন আইনজীবী শহিদুলের পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানিতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল অধিকার আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত শনি ও রোববার জিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলতে বেশ কয়েকবার ফেসবুক লাইভে আসেন তিনি। ওই আন্দোলনের বিষয়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের কঠোর সমালোচনাও করেন। এরপর গত রোববার রাতে শহিদুল আলমকে তার ধানমন্ডির বাসা থেকে উঠিয়ে নেওয়া হয় বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়।

পরে গতকাল সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য’ তারা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গেছেন। শহিদুলকে কেন আটক করা হয়েছে সে বিষয়ে পুলিশ শুরুতে স্পষ্ট কিছু না বললেও গতকাল বিকেলে ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, আলোকচিত্রী শহিদুলের বিরুদ্ধে রমনা থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তিনিই একমাত্র আসামি। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় করা এ মামলায় ‘কল্পনাপ্রসূত তথ্যের’ মাধ্যমে জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে ‘মিথ্যা প্রচার’ চালানো, উসকানিমূলক তথ্য উপস্থাপন, সরকারকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকর’ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে উপস্থাপন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘অবনতি ঘটিয়ে’ জনমনে ‘ভীতি ও সন্ত্রাস ছড়িয়ে’ দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং তা বাস্তবায়নে ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ‘অপপ্রচারের’ অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্বখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে), অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ‘নিপীড়ন’ বন্ধেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনগুলো। তারা বলছে, শান্তিপূর্ণভাবে সভা সমাবেশসহ মত প্রকাশ করা এবং নিজেদের দাবি পেশ করা নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার। গত রোববার বিশ্বব্যাপী সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী মার্কিন সংগঠন সিপিজে তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায়। বাকি দুটি সংগঠন গতকাল সোমবার বিবৃতি দিয়ে শহিদুলের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে।

"