ফ্লোরিডায় বাংলাদেশের সিরিজ জয়

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

একদিন আগে পাঁচ ম্যাচ পর টি-টোয়েন্টিতে জয়ে ফিরেছিল বাংলাদেশ। ১২ রানের জিতে সমতায় ফিরেছিল টাইগাররা। কাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ১৯ রানে জিতে ইতিহাসই গড়ে ফেলল বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে ক্যারিবীয়দের কুড়ি ওভারের সিরিজে হারাল টাইগাররা। এর আগে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ক্ষুদ্রাকৃতির ক্রিকেট সিরিজে জিতেছিল বাংলাদেশ।

কাল ফ্লোরিডিয়ায় ডি/এল পদ্ধতিতে ১৯ রানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৮৪ রান তোলে বাংলাদেশ। লিটন করেন ৩২ বলে ৬১। ১৭.১ ওভারে বৃষ্টি বাধায় খেলা থেমে যাওয়ার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করে ৭ উইকেটে ১৩৫। মুস্তাফিজ নেন ৩১ রানে ৩ উইকেট।

১৮৫ রানের বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে স্বাচ্ছন্দ্যে এগোতেই পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টি-টোয়েন্টিতে সব সময়ই দুর্দান্ত, এমন পরিচিতি থাকা ক্যারিবীয়দের বড় বিবর্ণ দেখা গেল ফ্লোরিডায়। টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর ম্যাচ একটা সময় হয়ে গেল আন্দ্রে রাসেল বনাম বাংলাদেশ। একদিকে সতীর্থরা আত্মসমর্পণ করছেন, অন্যদিকে রাসেল চালিয়ে যাচ্ছেন। মুস্তাফিজুর রহমানের ফুলটস উড়িয়ে মারতে গিয়ে লংঅফে একেবারে সীমানার কাছে যখন আরিফুল হকের ক্যাচ হলেন ক্যারিবীয় বোলিং অলরাউন্ডার। ম্যাচটা বাংলাদেশের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে তাতেই।

২১ বলে ৪৭ রান করা রাসেল ফিরতেই ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টির পর আর খেলা হয়নি। ১৭.১ ওভারে ৭ উইকেটে ১৩৫ করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেমে গেল ওখানেই। তাতেই ডি/এল পদ্ধতিতে নির্ধারণ হলো ফল। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রথম সফরেই বাজিমাত বাংলাদেশের। এরই সঙ্গে শেষ হলো টাইগারদের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর।

কাল লিটন দাস দুর্দান্ত খেললে বাংলাদেশ যে উড়ন্ত শুরু পায়, সেটি গত মার্চে নিদাহাস ট্রফিতে দেখা গেছে। কাল লডারহিলে আরেকবার দেখা গেল। লিটন-তামিমের উদ্বোধনী জুটি যে অসাধারণ শুরু এনে দিয়েছে, সেটি কাজে লাগিয়ে উইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ পেয়েছে ৫ উইকেটে ১৮৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর।

দুর্দান্ত শুরু করা বাংলাদেশের সামনে ২০০ তোলা অসম্ভব ছিল না। প্রথম ১০ ওভারে ৩ উইকেটে ৯৭ করা বাংলাদেশ পরের ১০ ওভারে করেছে ২ উইকেটে ৮৭। ১৬.৩ ওভারে ১৫ মিনিটের বৃষ্টি-বিরতির পর রানের গতি কিছুটা কমে এলেও শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ২০ বলে ৩২ রানের ছোট্ট ঝড়টা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর গড়তে সহায়তা করেছে। এর আগে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ছিল ১ উইকেটে ১৭৯।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে অ্যাশলি নার্সেল শেষ তিন বলে ৬, ৬, ৪ মেরে রানরেট এক ঝটকায় ১২-র ওপরে নিয়ে গেলেন। উদ্বোধনী জুটির তরুণ সঙ্গীকে সাহস দিতে থাকা তামিম ইকবালও শুরু করলেন আক্রমণ। তৃতীয় ওভারে তামিম-লিটন দুইজনই ঝাঁপিয়ে পড়লেন রাসেলের ওপর। ওই ওভারে উঠল ১৯। ২২ বলে ৫০ পেরিয়ে গেল বাংলাদেশ, যেটি তাদের সবচেয়ে দ্রুত।

শুরুতেই বাংলাদেশের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করলেন কার্লোস ব্রাথওয়েট। তবে শর্ট ফাইন লেগে উইলিয়ামসের ক্যাচ বানিয়ে ১৩ বলে ২১ রান করা তামিমকে ফেরালেন তিনি। ভাঙল বাংলাদেশের ২৮ বলে ৬১ রানের উদ্বোধনী জুটি। নিজেকে হারিয়ে খোঁজা সৌম্য সরকার বাউন্ডারি দিয়ে শুরু করলেও টিকলেন মাত্র ৪ বল। কিমো পলের শিকার হয়ে আউট ৫ রান করে। তামিম-সৌম্যকে হারানোর পরও পাওয়ার প্লেতে ৭১ রান তুলেছে। এর মধ্যে ৪৫ রানই লিটনের (১৭ বলে)। লিটন ফিফটি ছুঁয়েছেন ২৪ বলে, সাদা বলে যেটি তার প্রথম ৫০ পেরোনো। লিটন ফিরলেন কেসরিক উইলিয়ামসকে তুলে মারতে গিয়ে। তার আগে করে গেলেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ৬১ রান।

লিটন-তামিমের পর আরেকটি বড় জুটি হয়নি বাংলাদেশের। লিটন-মুশফিকের তৃতীয় উইকেটে ৩১ রানের পর মাহমুদউল্লাহ-সাকিবের পঞ্চম উইকেটে ৩১ বলে ৪৪ রানের জুটি আরো বড় না হওয়ার আক্ষেপ জাগিয়েছে। অসাধারণ শুরুর পর বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জিং স্কোর পাবে কিনা, একটা সময় সে সংশয়ও জেগেছে। তবে মাহমুদউল্লাহ-আরিফুল হকের অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে যোগ করা ২৫ বলে ৩৮ রান বাংলাদেশ ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সর্বোচ্চ স্কোর গড়তে সহায়তা করেছে।

"