৩৭৯৯০ হজযাত্রীর টিকিট সংগ্রহের নির্দেশ

কোটা পূরণে ৮ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সিদ্ধান্ত

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

হজযাত্রী নিয়ে জটিলতা নিরসনে আরো ৪ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশি হজযাত্রীর কোটা পূরণ করতে শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ জুলাই বিকাল ৫টার মধ্যে এজেন্সিকে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের আবেদন করতে হবে। তবে শর্তসাপেক্ষে এজেন্সিগুলো এই রিপ্লেসমেন্ট সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত শনিবার রাতে রাজধানীর বেইলি রোডের বাসভবনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মতিউর রহমান এসব তথ্য জানান।

ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মতিউর রহমান বলেন, চলতি হজে বাংলাদেশের নির্ধারিত কোটা যাতে অপূর্ণ না থাকে, কোটার সমসংখ্যক বাংলাদেশি হজযাত্রী যাতে হজ পালন করতে পারেন এবং সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে সরকার বেশকিছু শর্তসাপেক্ষে পূর্বের ৪ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট জায়গায় অতিরিক্ত আরো ৪ শতাংশ অর্থাৎ ৮ শতাংশ হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তিনি আরো বলেন, হজ এজেন্সিকে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ প্রতিস্থাপনের জন্য তার নিজস্ব প্যাডে হজ অফিসের পরিচালক বরাবরে আগামী ২৪ জুলাই বিকাল ৫টার মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদনটি অনলাইনেও নিশ্চিত করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রতিস্থাপনযোগ্য হজযাত্রীর গুরুতর অসুস্থতা অথবা মৃত্যুজনিত কারণে হজ পালন করতে পারবে না মর্মে উপযুক্ত চিকিৎসকের কাছে সনদ দাখিল করতে হবে। প্রতিস্থাপনের প্রাপ্তির জন্য এজেন্সির পক্ষ থেকে কোনো মিথ্যা তথ্য দেওয়া হচ্ছে না মর্মে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা আবেদনের সঙ্গে দাখিল করতে হবেÑ রিপ্লেসমেন্টের শর্তজুড়ে দেন মন্ত্রী। রিপ্লেসমেন্ট তালিকা ভুয়া হলে এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, হজ পরবর্তী এজেন্সির প্রতিস্থাপন তথ্য যাচাই করা হবে। যদি মিথ্যা প্রমাণ হয় তাহলে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, জাতীয় হজনীতি ও ওমরা নীতি ১৪৩৯ হিজরি অনুযায়ী মৃত্যুজনিত ও গুরুতর অসুস্থজনিত কারণে প্রতিটি এজেন্সি তার নিবন্ধিত হজযাত্রীদের মধ্য থেকে ৪ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট করতে পারে। হজনীতি অনুযায়ী এরই মধ্যে প্রায় সব এজেন্সি তাদের রিপ্লেসমেন্ট কোটা পূরণ করে ফেলেছে। সেই হিসাবে মোট ৪ হাজার ৬১৪ জন হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২১ জুলাই পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬ হাজার ৪২৭ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬১ হাজার ২৫ জনসহ মোট ৬৭ হাজার ৪৫২ জন হজযাত্রীর ভিসা পাওয়া গেছে। মোট ৫১১টি হজ এজেন্সির মোট ১ লাখ ৪৪২ জন হজযাত্রীর বিপরীতে বিমান বাংলাদেশ ও সৌদি এয়ারলাইন্সের অনুকূলে টিকিট প্রাপ্তির জন্য পে অর্ডার ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু এজেন্সিগুলো অবশিষ্ট ৩৭৯৯০ জন হজযাত্রীর জন্য এখনো টিকিট সংগ্রহ করেনি, পে-অর্ডারও ইস্যু করেনি। এ অবস্থায় তাদের পে অর্ডার ইস্যু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, হজ এজেন্সিগুলো তাদের হজযাত্রীদের সবার জন্য টিকিট সংগ্রহ করেনি। এনিয়ে এজেন্সিগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় হয় মন্ত্রণালয়ের। তাদের দাবি, টিকিট সংগ্রহ করা হলেও বাংলাদেশি কোটা অপূরণ রয়ে যাবে। অতিরিক্ত রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দেওয়া না হলে সেই কোটা পূরণ হবে না। তাই কোটা পূরণ করতে অতিরিক্ত রিপ্লেসমেন্ট সুযোগ দেওয়ার জোরালো আবেদন করে এজেন্সিগুলো। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোটা পূরণ করতেই শর্তসাপেক্ষে অতিরিক্ত আরো ৪ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

দুইটি ফ্লাইটের শিডিউল বিপর্যয় : এদিকে হজযাত্রার নবম দিনে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুইটি ফ্লাইটের শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছেন ৮ শতাধিক হজযাত্রী। গতকাল আশকোনা হজক্যাম্পে যাত্রার অপেক্ষায় থাকা মুসল্লিরা জানান, বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু বিমানটি যথা সময়ে না পৌঁছায় ফ্লাইট ছাড়ার সময় পিছিয়ে যায়।

এ বিমানে যাত্রীদের নিয়ে অপর একটি ফ্লাইট বিকাল ৩টার পরে ছাড়ার কথা থাকলেও আরো দেরি হওয়ার আশঙ্কায় আছেন মুসল্লিরা। এছাড়া আরেকটি ফ্লাইট বিকাল ৪টা ৩৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও বিমান ফিরতে দেরি হওয়ার কারণে সেটি রাত ১টার পর ছাড়বে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফ্লাইট দুইটির ৮ শতাধিক যাত্রীর হজযাত্রা বিলম্ব হচ্ছে।

"