বিএনপির অভিযোগ রুটিনওয়ার্ক : লিটন

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিন এমপির বিরুদ্ধে আচারণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার বিকেলে রিটার্নিং অফিসারের কাছে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষে লিখিতভাবে এ অভিযোগ দেন তার নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট ও জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জাল হোসেন তপু।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মেয়রপ্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, আনুষ্ঠানিক প্রচারণার শুরুর দিন থেকেই আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিষোদগার শুরু করেছে বিএনপি। নির্বাচনে কমিশনে লিখিত অথবা মৌখিত অভিযোগ দায়ের তাদের রুটিনওয়ার্ক। বিএনপির প্রার্থী সবদিক দিয়েই ব্যর্থ। ভোটারদের সামনে যাওয়ার মুখ নাই। সে জন্য নির্বাচন বানচাল করা অথবা প্রশ্নবিদ্ধ করা অথবা নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার চিন্তা থেকেই এ সমস্ত কথা বলছে। শনিবার নগরীর ২০নং গণসংযোগের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব বলেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ দারা ও নাটোর-২ সদর আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় এসে নৌকা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ ও ভোট প্রার্থনা করেন। এতে সিটি নির্বাচনের আচরণবিধি ভঙ্গ হয়েছে।

এ ছাড়াও গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া ছয়জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার ও ভয়ভীতি দেখানোসহ আরো সাতটি অভিযোগ করা হয়েছে বুলবুলের পক্ষ থেকে। এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসার আমিরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ তদন্ত করা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করাসহ বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খায়রুজ্জামান লিটন আরো বলেন, নির্বাচনের আচরণবিধি মেনে নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রেখেছি। কেউ যদি শাস্তিপূর্ণ পরিবেশ অশান্ত করার অপচেষ্টা করে, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিহত করবে।

মুরাদ মোর্শেদের ১৬ দফা ইশতেহার : ‘পরিবর্তন সম্ভব, পরিবর্তন চাই’-এই সেøাগান নিয়ে ১৬ দফা ইশতেহার ঘোষণা করলেন রাজশাহী সিটি নির্বাচনের স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী মুরাদ মোর্শেদ। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি তার ইশতেহার ঘোষণা করেন। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন ও রাজশাহী গণমঞ্চ নামে দুইটি সংগঠন। ইশতেহার ঘোষণার সময় মুরাদ মোর্শেদ বলেন, আমি নির্বাচিত হলে নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হবে নগর সংস্থার প্রধান কাজ। মানুষ বিনা হয়রানিতে তার সেবা বুঝে নেবেন। একটা মানবিক, পরিচ্ছন্ন, প্রকৃতিবান্ধব, নারী ও শিশুর প্রতি দায়িত্বশীল এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের নগরী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।

মুরাদ মোর্শেদ তার ইশতেহারে বলেছেন, দুর্নীতিমুক্ত ও জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে নগর প্রশাসন পরিচালনা হবে সিটি করপোরেশনের মূলনীতি। প্রতিষ্ঠা করা হবে সব শ্রেণির নাগরিকের অধিকার। প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় আছে সুদুরপ্রসারি পরিকল্পনা। গণপরিবহন থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ করে যুক্তিসংগত ভাড়াও নির্ধারণ করতে চান তিনি। খাদ্যে ভেজাল ও বিষক্রিয়া রোধে থাকবে জোরালো পদক্ষেপ। এ ছাড়া নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য পরিসেবার ওপর নজর রেখে মানুষকে সুন্দর নগরী উপহার দিতে চান তিনি। নাগরিক সেবা নিশ্চিতে গঠন করা হবে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। পদ্মাপাড়ের এই শহরকে সংস্কৃতি ও বিনোদনের অঞ্চলে পরিণত করতে তিনি গ্রহণ করবেন নানামুখি পদক্ষেপ। প্রতিটি কাজের জন্য থাকবে জবাবদিহিতা। নগরবাসীর মতামত সংগ্রহ করে বিশেষজ্ঞ পর্ষদ গঠন করে কাজ করতে চান তিনি।

"