পাকিস্তানে নির্বাচনী মিছিলে বোমা হামলা : নিহত ৮৫

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টির (বিএপি) এক নির্বাচনী প্রচার মিছিলে ভয়াবহ বোমা হামলায় পার্টির প্রার্থী নবাবজাদা সিরাজ সাইসানিসহ অন্তত ৮৫ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৮৫ জন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে বেলুচিস্তানের মাস্টাং জেলায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়েজ কাকার এ খবর নিশ্চিত করেছেন। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ খবর পাওয়া পর্যন্ত কেউ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগা উমর বুঙ্গালজাই জানান, হামলায় বিএপির প্রার্থী মির সিরাজ রাইসানি মারাত্মক আহত হন, হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। তাকে উদ্দেশ্য করেই এ হামলা চালানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এটা একটা আত্মঘাতী বোমা হামলা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের ডিস্ট্রিক্ট হেড কোয়ার্টার হাসপাতালসহ নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

নবাবজাদা সিরাজ রাইসানি হলেন বেলুচিস্তানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নবাব আসলাম রাইসানির ছোট ভাই। নবাবজাদা সিরাজ রাইসানি বেলুচিস্তান মুত্তাহিদা মাহাজ বিএমএম এর প্রধান ছিলেন। তিনি বেলুচিস্তানের মাস্টাং জেলার পিবি-৩৫ আসনের প্রার্থী ছিলেন। তিনি আপন ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী নবাব আসলাম রাইসানির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। সিরাজ রাইসানির কিশোর বয়সী ছেলে হাকমাল রাইসানিও ২০১১ সালের এক গ্রেনেড হামলায় নিহত হয়েছিলেন।

আগামী ২৫ জুলাই দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্থির হয়ে উঠেছে দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশ। এর আগে একইদিন খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী আকরাম খান দুররানীর গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই হামলায় চারজন নিহত এবং ৩২ জন নিহত হয়েছেন। তার আগের রাতে বেলুচিস্তানের খুজদারে আওয়ামী পার্টির কার্যালয়ের নিকটে এক বোমা হামলায় দুইজন আহত হন।

গত ১০ জুলাই পেশোয়ারের ইয়াকতুর এলাকায় একটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির নেতা হারুন বিলোরসহ ১৯ জন নিহত হন। তেহরিক ই তালিবান পাকিস্তান ওই হামলার দায় স্বীকার করে।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে পেশোয়ারে আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির (এএনপি) নির্বাচনী সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে ২১ জন নিহত হন। ওই হামলায় এএনপির নেতা ও নির্বাচনের প্রার্থী হারুন বিলার প্রাণ হারান। পরে ওই হামলার দায় স্বীকার করে কট্টরপন্থি সংগঠন তালেবান।

"