আতঙ্কের নাম এমবাপ্পে

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

বল পেলেই ছুট দেন তিনি। বল পায়ে তোলেন গতির ঝড়। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেন। এমন গতির ফুটবলারকে রুখে দেওয়া কঠিন। রুখতে গেলেই ফাউল হবে। ডি-বক্সের মধ্যে হলে পেনাল্টি হবে। গতি, ড্রিবলিং আর স্কিলে প্রতিপক্ষের ত্রাসে পরিণত হয়েছেন ফ্রান্সের তরুণ স্ট্রাইকার কালিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে সবাই গ্রিজমান, পগবা ও জিরুডকে এগিয়ে রাখলেও ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতাচ্ছেন এমবাপ্পে। ৬ ম্যাচে তিনি ৬৬৬ মিনিট খেলেছেন। গোল করেছেন ৩টি। বল নিয়ে ১৭.৪ কিলোমিটার দৌড়েছেন। প্রতিভাবান এই ফুটবলারকে ভবিষ্যতের পেলে হিসেবে আখ্যা দিতে শুরু করেছেন কেউ কেউ।

মাঠে তিনি এমনভাবে গতির ঝড় তোলেন যে ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিন্যান্ড মজা করে বলেছেন, ‘এমবাপ্পের এমন গতিকে নিষিদ্ধ করা উচিত। একটা মানুষ কিভাবে এতটা গতিতে দৌড়াতে পারে?’

আসলে গতি সব সময় রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের জন্য সমস্যার কারণ। গতিময় তারকারা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য ত্রাস হয়ে ওঠেন। আতঙ্কে কারণ হয়ে দাঁড়ান। এমবাপ্পের বয়স মাত্র ১৯ বছর। আর এই বয়সেই তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তাকে থামানোর উপায়? যেসব খেলোয়াড়রা বল পায়ে দ্রুতবেগে আসেন তাদের যত কম জায়গা দেওয়া যায় ততো সুবিধা। তাদের বোতলবন্দি করে রাখতে পারলে তারা তাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারে না। সেটা করতে না পারলেই ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেন তারা।

বয়স কম হলেও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত এমবাপ্পে যথেষ্ট পরিপক্ব। এমনটাই মনে করছেন এমবাপ্পের সতীর্থ পল পগবা, ‘এমবাপ্পের বয়স কম। সেটা আমরা জানি। সেও জানে। কিন্তু খেলার মাঠে কিন্তু কোনো ছোট-বড় নেই। সে শিরোপা জিততে চায়। সে দাম্ভিক নয়। কিন্তু সে শিরোপা নিয়ে ঘুমাতে চায়। আর শিরোপা জিততে সে যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত। শিরোপা জেতার মতো তার ট্যালেন্ট রয়েছে। সে খুবই উচ্চাকাক্সক্ষী। এই বয়সে এমন আকাক্সক্ষা থাকাটা ইতিবাচক। সে প্রতিনিয়ত শিখছে। আস্তে আস্তে অভিজ্ঞ হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরো অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। সে এখনই তার বয়সের চেয়ে অভিজ্ঞতা ও বোঝার ক্ষমতার দিক দিয়ে এগিয়ে।’

এমবাপ্পে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জোড়া গোল করে ও গতির ঝড় তুলে আলোচনায় উঠে আসেন। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে তিনি অবশ্য অতটা আলোচনায় আসতে পারেননি। বেলজিয়ামের বিপক্ষেও তিনি ড্রিবলিং করে ফুটবলবোদ্ধাদের মুগ্ধ করেছেন। তার গতিময় ফুটবলের প্রেমের ফাঁদে ফেলেছেন ফুটবলপ্রেমীদের।

"