মেয়র হলে যা করবেন ৭ প্রার্থী

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

সিলেট প্রতিনিধি

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৭ মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে একটি আলোচনা সভা করেছে ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন’। সেখানে মেয়র প্রার্থীরা তাদের নিজেদের ভাবনার কথা তুলে ধরেন। গতকাল বুধবার নগরীর রিকাবিবাজারে মোহাম্মদ আলী জিমনেশিয়ামে ‘জনগণের মুখোমুখি মেয়র প্রার্থীরা’ শিরোনামে আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন’ সিলেট জেলা শাখা।

সুজন সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সুজনের সদস্য সচিব ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নাগরিকরা মেয়র প্রার্থীদের কাছে নগরীর বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ধরেন।

সভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, মেয়রের কাজ শুধুমাত্র সড়ক ও কালভার্ট উন্নয়ন নয়। একজন নাগরিক সকালে ঘর থেকে বের হয়ে রাতে যাতে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে এটি নিশ্চিত করাও মেয়রের দায়িত্ব। আমি এই নগরবাসীর সুখে দুঃখে অতীতেও যেমন পাশে ছিলাম আগামীতেও থাকব।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমি কেবল স্বপ্ন দেখাই না, স্বপ্ন বাস্তবায়ন করি। আমি যা বলি তাই করি। এই নগরীতে ২০১০ সালে একটি মাস্টার প্লান হয়েছিল যা একেবারেই অবাস্তব ও অনুপযোগী। আগামীতে এটি সংশোধন করে আরো পরিকল্পিত উন্নয়নে সচেষ্ট থাকব।

নাগরিক কমিটির প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম বলেন, সিলেট নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন করে পরিকল্পিত তিলোত্তমা নগরী গড়ে তুলতে আমি কাজ করব। স্বতন্ত্র প্রার্থী মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সিলেটকে দেশের একটি সুন্দরতম শহর হিসেবে দেখতে চাই। আমি নির্বাচিত হলে এ ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ নেব। ইসলামী শাসনতন্ত্রের প্রার্থী ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমি মেয়র নির্বাচিত হলে একটি করে ম্যাটার্নিটি সেন্টার ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র চালু করব।

সিপিবি-বাসদের প্রার্থী আবু জাফর বলেন, আমি বাসযোগ্য একটি নগরী গড়তে কাজ করব। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সবুজ নগরী গড়ে তোলতে সব ধরনের উদ্যোগ নেব। স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসানুল হক তাহের বলেন, আমি স্বপ্ন দেখাই নাই, আমি বাস্তবতায় বিশ্বাস করি। মেয়র নির্বাচিত হলে আমি যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। এবার সিলেট সিটি নির্বাচনে ৭ মেয়র প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত বদর উদ্দিন আহমদ কামরান (নৌকা প্রতীক), বিএনপির মনোনীত আরিফুল হক চৌধুরী (ধানের শীষ প্রতীক), নাগরিক কমিটির প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম (বাসগাড়ি প্রতীক), মহানগর জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের (টেবিল ঘড়ি প্রতীক), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন (হাতপাখা প্রতীক), সিপিবি-বাসদ মনোনীত প্রার্থী আবু জাফর (মই প্রতীক) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসানুল হক তাহের (হরিণ প্রতীক)।

সিলেটে প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে ব্যস্ত সময় পার করেছেন সিলেট সিটি (সিসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী। বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে নগরীর কোর্ট পয়েন্টে, ক্বীন ব্রিজ ও বন্দবাজার এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। আর আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান দুপুরে নগরীর রিকাবিবাজার পয়েন্টে গণসংযোগ করেন। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে কোর্ট পয়েন্ট থেকে আরিফুল নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। দুপুরে নগরীর রিকাবিবাজার পয়েন্টে গণসংযোগ করেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।

দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরসহ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ শুরু করেন আরিফুল হক চৌধুরী। জেলা পরিষদের সামনে যাওয়ার পর খন্দকার মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরীর সামনেই নেতাকর্মীরা হাতাহাতি শুরু করেন। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা। পরে সিনিয়র নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এছাড়া নগর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট এহসান মাহবুব জুবায়ের, নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী ডা. মোয়াজ্জেম নগরের পৃথক পৃথক স্থানে গণসংযোগ করেন।

"