টাকা ফেরত নিতে সুপারিশ

মিনি ডাস্টবিনের সুফল মেলেনি

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে রাজধানীর সড়কগুলোতে প্রায় ১১ হাজার মিনি ডাস্টবিন বা ময়লা ফেলার পাত্র বসিয়েছিল সিটি করপোরেশন। স্থাপনের পর এসব বিনের অধিকাংশই উধাও হয়ে গেছে। শহর ঘুরে দেখা গেছে, স্থাপন করার পর বেশির ভাগ বিন চুরি হয়েছে। কিছু ডাস্টবিন ব্যবস্থাপনার অভাবে অকেজো হয়ে পড়েছে। টিকে আছে যে বিনগুলো, সেগুলোর অবস্থাও জরাজীর্ণ। মেরামত বা পুনঃস্থাপন করার কয়েক দিন পরই হয় সেগুলো ভেঙে যায়, না হয় চুরি হয়ে যায়। আবার ভালো বিনগুলোতে ফেলা ময়লা পরিষ্কারও করা হয় না। ফলে বিনগুলো কোনো কাজেই আসছে না। বরং মেরামত আর পুনঃস্থাপনে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগরজুড়ে এসব বিন স্থাপনের আগে এর সুফল বা কুফল নিয়ে মাঠ পর্যায়ের জরিপ পরিচালনা করা হয়নি। পরিকল্পিতভাবেও লাগানো হয়নি এসব বিন। ক্রয়েও ছিল না স্বচ্ছতা। এ অবস্থায় সরকারের রাজস্ব অডিট অধিদফতরও এই ক্রয়ে অনিয়মের আপত্তি জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে এই ক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ থেকে আপত্তিকৃত অর্থ আদায় করে চালানের মাধ্যমে করপোরেশনের তহবিলে জমা দিতে।

ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ২০১৬ সালে রাজধানীর সড়কগুলোতে এক যোগে প্রায় ১১ হাজার মিনি ডাস্টবিন বসানো হয়। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০০টি করে মোট পাঁচ হাজার ৭০০ মিনি বিন বসানো হয়। উত্তর সিটি করপোরেশনেও বসানো হয় সম পরিমাণ বিন।

দুই সিটি করপোরেশনে বিনগুলো বসানোর কয়েক দিন পরই সেগুলোর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন নগরবাসী। তাদের অভিযোগ, বিনগুলো পরিষ্কার করা হয় না বলেই তারা সেগুলোতে খুব একটা ময়লা ফেলেন না। ফলে অধিকাংশ বিনই খালি পড়ে থাকে। ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে বিনের নিচে ও আশপাশে। নগরবাসীর অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। অনেক বিনেই কয়েক দিনের ময়লা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তাছাড়া অনেক বিনই চুরি হয়ে গেছে। কয়েকবার সংস্কার ও চুরি হওয়ার পর দুই সিটি করপোরেশনে বসানো অনেক ডাস্টবিন পুনঃস্থাপন করতে হয়েছে।

সম্প্রতি ফুটপাতের এসব মিনি ডাস্টবিন নিয়ে জরিপ চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শকদের দিয়ে চালানো এ জরিপে দেখা গেছে, সংস্থার ৫ হাজার ৭০০টি বিনের মধ্যে ৫১ শতাংশ বিন রয়েছে। বাকি ২৭ শতাংশ বিন এখন মেরামতযোগ্য, আর ২২ শতাংশ বিনের কোনো হদিস নেই। একই চিত্র ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেও (ডিএনসিসি)। সংস্থাটি এ নিয়ে জরিপ না চালালেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, মিনি বিনের এই বেহাল দশার অন্যতম কারণ ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। ফুটপাতে দোকান বসানোর জন্য অনেক বিন ভেঙে ফেলেছেন তারা। কখনো কখনো কোথাও কোথাও ভাঙতে না পেরে বিনের মুখ উল্টো করে রাখা হয়, যেন কেউ বিনে ময়লা না ফেলে। অনেক সময় বিনের মুখ পলিথিন বা অন্য কিছু দিয়েও বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান ভা-ার ও ক্রয় কর্মকর্তা মো.সাখাওয়াৎ হোসেন বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বলেন, বিনগুলো ভা-ার ও ক্রয় বিভাগ থেকেই কেনা হয়েছে। এর সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ যুক্ত নয়। তবে আমরা বিনগুলো স্থাপনের মাধ্যমে আমরা নগরবাসীকে সচেতন করতে চেয়েছি। তার দাবি, অডিটের আপত্তি যুক্তিসঙ্গত নয়।

"