থাই গুহার সবাই উদ্ধার

‘এটা কি কোনো অলৌকিক ঘটনা’

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চরম ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে থাইল্যান্ডের গুহায় আটকা পড়া সবাইকে বাইরে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছেন ডুবুরিরা। চূড়ান্ত উদ্ধার অভিযান শুরু করার পর গতকাল মঙ্গলবার ১২ ফুটবলার ও কোচকে উদ্ধার করা হলো। এর আগে গত রোববার চারজনকে উদ্ধার করে ১০ ঘণ্টার জন্য অভিযানে বিরতি দেওয়া হয়। সোমবার আরো চারজনকে উদ্ধার করা হয়। সবশেষ গতকাল বাকি চার কিশোর ও তাদের কোচ উদ্ধার হয়। এদিকে, থাম লুয়াং গুহার ভেতরের এই অভিযান বিশ্বব্যাপী সবার মনোযোগ কেড়েছে। তবে উদ্ধার কিশোরদের কাউকেই জনসমক্ষে আনা হয়নি। তবে তারা প্রত্যেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ আছে বলে জানানো হয়েছে। আর ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচকে উদ্ধারের পর দেশটির

নৌবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই অভিযান নিয়ে পোস্ট দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আমরা নিশ্চিত নই, এটা কী কোনো অলৌকিক ঘটনা, কল্পবিজ্ঞান নাকি অন্যকিছু।

প্রায় ১৭ দিন আগে থাইল্যান্ডের উত্তরের প্রদেশ চিয়াং রাইয়ের ওই গুহায় প্রবেশের পর আটকা পড়ে গিয়েছিল কিশোর ফুটবল দলটি। গত সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা থেকে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করেন ডুবুরিরা। রোববারের তুলনায় সোমবার ও গতকাল উদ্ধারকাজের জন্য ডুবুরির সংখ্যা আরো বাড়ানো হয়। যদিও ১৩ জন বিদেশি এবং পাঁচজন থাই ডুবুরিই গুহা থেকে কিশোরদের বের করে আনার মূল কাজটি করেছেন।

থাই কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কিশোরদের এখনো বাবা মায়ের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। ওই কিশোররা জাউ ভাত খেতে পারছে। তারা মাংস ও চকোলেট খেতে চাইলেও হজমে সমস্যা হতে পারে এমন আশঙ্কায় তাদের সেটা দেওয়া হচ্ছে না। কেননা তারা প্রত্যেকেই কয়েকদিন ধরে না খেয়ে ছিল।

যেভাবে তাদের উদ্ধার করা হলো : ৯০ জন দক্ষ ডুবুরির একটি দল; যাদের ৪০ জন থাইল্যান্ডের এবং বাকিরা বিভিন্ন দেশের। তারা ওই গুহায় উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন। তারা থাম লুয়াং গুহার ডুবে যাওয়া অন্ধকার সংকীর্ণ পথ দিয়ে কিশোরদের দিকনির্দেশনা দিয়ে প্রবেশমুখে নিয়ে এসেছেন।

অভিযানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই কিশোরদের একটি ক্লান্তিকর যাত্রাপথ পাড়ি দিতে হয়। যেটা কি না অভিজ্ঞ ডুবুরির জন্যও ভীষণ ক্লান্তিকর ছিল। এই অভিযান প্রক্রিয়া জুড়ে ছিল হাঁটা, পানির ওপর দিয়ে চলা, বেয়ে ওঠা এবং পানিতে ডুব দিয়ে দড়ি ধরে এগিয়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। সব ডুবুরি বাড়তি সতর্কতার জন্য মুখজুড়ে মাস্ক ব্যবহার করেন। প্রতিটি কিশোরকে দুইজন করে ডুবুরি সাহায্য করেছেন। তারা ওই কিশোরের অক্সিজেন সরবরাহের ট্যাঙ্কও বহন করেন।

তবে গুহার সবচেয়ে জটিল অংশটি হলো অর্ধেক পথের ‘টি-জংশন’। যেটা এতটাই সংকীর্ণ যে তার ভেতর দিয়ে যাওয়ার জন্য ডুবুরিদের অক্সিজেন ট্যাঙ্কটি খুলে ফেলতে হয়েছে। সেখানে কিশোররা বাকি পথ পাড়ির দেওয়ার আগে কিছু সময় জিরিয়ে নিতে পারে। পরে তারা হেঁটে সহজেই প্রবেশমুখে পৌঁছে যায়। সেখান থেকে তাদের চিয়াং রায়ের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

উদ্ধার অভিযানে অংশ দেওয়া দলের প্রধান বলেন, অভিযানের দ্বিতীয় দিনটি প্রথম দিনের তুলনায় আরো মসৃণভাবে পরিচালিত হয়েছে। প্রতিবার ডুবুরিদের দুই ঘণ্টারও কম সময় লেগেছে।

একটি বিশাল পাম্পিং মেশিন দিয়ে গুহার ভেতরের পানির স্তর নিচে নামিয়ে আনা হয়। যা পুরো যাত্রাকে আরো সহজ করে তোলে।

"