ইতিহাসের হাতছানি ক্রোয়েশিয়ার অপেক্ষা ঘোচাতে প্রস্তুত ইংল্যান্ড

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে শেষ সেমিফাইনালে উঠেছিল ১৯৯০ সালে। ক্রোয়েশিয়ার তখন জন্মই হয়নি। এর ঠিক এক বছর পর যুগোস্লাভিয়ার পতনের মধ্য দিয়ে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে উদ্ভব ঘটে ক্রোয়েশিয়ার। তারপর ১৯৯৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে ক্রোয়াটরা পৌঁছে যায় সেমিফাইনালে। অন্যদিকে ইংলিশদের ব্যর্থতার বৃত্তটা একটু একটু করে বেড়েছে প্রতি আসরে। এর মধ্যে পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ ২৮ বছর। ইংলিশরা অবশেষে দেখা পেয়েছে শেষ চারের। আর ক্রোয়াটদের অপেক্ষা ঘুচেছে ২০ বছর পর। আজ একই মঞ্চে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে দেখা হয়ে যাচ্ছে এই দুই ইউরোপিয়ানের। ১৫ জুলাই লুঝনিকির ফাইনালে কারা যাচ্ছে তা নির্ধারিত হবে মস্কোর এই লুঝনিকি স্টেডিয়ামেই।

দীর্ঘ ৫২ বছর পর ফাইনালে উঠার সুযোগ এসেছে ইংলিশদের সামনে। অন্যদিকে ক্রোয়াটরা স্বপ্ন দেখছে প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলার। সেমিফাইনালে উঠার পথে ক্রোয়েশিয়া একটি ম্যাচেও হারেনি। তার মধ্যে গ্রুপ পর্বেই তারা ৩-০ গোলে নাস্তানাবুদ করেছিল দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে। তবে নকআউট পর্বের দুইটি ম্যাচেই তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে টাইব্রেকার পর্যন্ত। ডেনমার্ক ও স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ নিয়ে গিয়েছিল টাইব্রেকারে। শেষ পর্যন্ত দুইবারই ক্রোয়াটদের ত্রাতার ভূমিকা পালন করেছেন গোলরক্ষক ড্যানিয়েল সুভেসিচ। আজকেও কোচ জøাতকো দালিচ ক্রোয়াটদের গোলপোস্ট পাহারা দেওয়ার জন্য নিয়োগ দেবেন তাকে। তবে গত ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় আজ কিছুটা ভুগতে হতে পারে গোল্ডেন গ্লাভসের তালিকায় থাকা সুভেসিচকে।

ইংলিশদের বিরুদ্ধে কোচ দালিচ আজ রণকৌশল সাজাতে পারেন ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে। এবারও তার মূল ভরসা দলের প্রধান অস্ত্র ও অধিনায়ক লুকা মডরিচ। গত চার ম্যাচে ওপরের দিকে খেললেও রাশিয়ার বিপক্ষে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের ভূমিকা পালন করতে হয়েছে এই রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারকে। আর মধ্য মাঠে মডরিচকে সাহায্য করার জন্য থাকবেন ইভান রাকিটিচ ও মাতেও কোভাচ্চি। আক্রমণভাগের নেতৃত্বে থাকবেন জুভেন্টাস ফরওয়ার্ড মারিও মানজুকিচ।

ক্রোয়াটদের অধিকাংশ ফুটবলার খেলেন রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, এসি মিলান, জুভেন্টাস এবং মোনাকোর মতো ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলোতে। অন্যদিকে থ্রি-লায়নসদের সবাই খেলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে। ঘরের ক্লাব লিভারপুল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি, টটেনহ্যাম, চেলসির মতো ক্লাবে খেলেই বেড়ে উঠেছেন হ্যারি কেন, রহিম স্টার্লিং, মার্কাশ রাশফোর্ড, ডেলে আলিরা।

খেলোয়াড় হিসেবে পারেননি, এবার কোচ হিসেবে ইংলিশদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন গ্যারেথ সাউথগেট। তার অধীনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে ইংল্যান্ড। রাশিয়া বিশ্বকাপে বেলজিয়াম ছাড়া আর কারো বিপক্ষে হারেনি দলটি। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সুইডেনকে হারিয়েছে ২-০ গোলে। তার আগে টাইব্রেকারের জুজু কাটিয়ে জয় পেয়েছে কলম্বিয়ার বিপক্ষে। রাশিয়া বিশ্বকাপে সাউথগেটের অন্যতম ভরসার নাম হ্যারি কেন। ইংলিশদের অধিনায়ক এরই মধ্যে আসরে সর্বোচ্চ ৬ গোল করে স্বপ্ন দেখছেন গোল্ডেন বুট জয়ের। আজকেও স্পটলাইটটা কেড়ে নিতে চাইবেন এই টটেনহাম ফরওয়ার্ড।

আজকের লড়াইটা সুভেসিচ বনাম জর্ডান পিকফোর্ডেরও। কারণ দলকে সেমিতে তুলতে সবচেয়ে বড় ভূমিকাটা পালন করেছেন এই দুই গোলরক্ষক। সুইডেনের বিপক্ষে তিনটি অসাধারণ সেভ করে গোল্ডেন গ্লাভসের দাবিদার হয়ে উঠেছেন ইংলিশ গোলরক্ষক পিকফোর্ড। অন্যদিকে সুভেসিচ টানা দুইবার পরীক্ষা দিয়ে এসেছেন টাইব্রেকারে।

বিশ্বকাপে দুই দলের এটি প্রথম সাক্ষাৎ। এর আগে প্রধান টুর্নামেন্টে একবারই দেখা হয়েছিল দুই দলের। ২০০৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সাক্ষাতে ২-০ গোলে জয় পেয়েছিল ইংলিশরা। সেবার টিনেজ বয়সে জোড়া গোল করেছিলেন ইংলিশ কিংবদন্তি ওয়েইন রুনি। চার বছর পরই প্রতিশোধটা নিয়ে নেয় ক্রোয়েশিয়া। ২০০৮ ইউরোর বাছাই পর্বে ওয়েম্বেলিতেই ইংলিশদের ৩-২ গোলের হার উপহার দেয় ক্রোয়াটরা। তবে ইতিহাসটা পক্ষে আছে ইংল্যান্ডের। নিজেদের শেষ সাক্ষাতে ক্রোয়াটদের ৫-১ গোলের লজ্জা উপহার দিয়েছিল ইংলিশরা।

ইতিহাস যতোই চোখ রাঙাক, নতুন ইতিহাস লেখার জন্যই আজ মাঠে নামবে মডরিচ-রাকিটিচরা। পূর্বসূরিদের অতৃপ্ত স্বপ্নটাকে আজ বাস্তবায়ন করতে চাইবে ক্রোয়েশিয়ার সোনালি প্রজন্মের দলটি। আর ইংলিশরা ঘুচাতে চাইবে দীর্ঘ ৫২ বছরের অপেক্ষা। তবে লুঝনিকিতে রাশিয়ার দর্শকরা কাদের পক্ষ নেয় তাই এখন দেখার বিষয়। কারণ দুই দেশের সঙ্গেই কূটনৈতিক ঝামেলা আছে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের।

"