সংসদে আইনমন্ত্রী

আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগ শিগগিরই

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

সংসদ প্রতিবেদক

সংবিধান অনুযায়ী দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগের অধিকার একমাত্র রাষ্ট্রপতির। তবে আমি যতদূর জানি, রাষ্ট্রপতি এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছেন। আশা করি, শিগগিরই রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগে কয়েকজন বিচারক নিয়োগ করবেন। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক সংসদে এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ-সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মাহবুব আলী।

সরকারি দলের সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতির প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, সারা দেশের জেলা আদালতের পিপি, জিপি, অতিরিক্ত পিপি ও সহকারী পিপিদের জন্য নতুন সম্মানি স্ট্রাকচার তৈরি করা হচ্ছে। এতে বড় বড় জেলার পিপিরা সর্বোচ্চ মাসে ৪৫ হাজার টাকা বেতন পাবেন। কারোর বেতনই ২৫ হাজার টাকার নিচে হবে না। শিগগিরই প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য ফিরোজা বেগম চিনুর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করতে সরকার আরো ৫টি সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল, ৭টি সাইবার ট্রাইব্যুনাল ও ৮টি মানি লন্ডারিং ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হচ্ছে। এসব ট্রাইব্যুনালের পদ সৃজনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তিনি আরো জানান, বর্তমানে দেশের আদালতসমূহে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার ৬৪৯টি; যার মধ্যে দেওয়ানি মামলার সংখ্যা ১৩ লাখ ৯০ হাজার ২০৯টি ও ফৌজদারি মামলার সংখ্যা ১৯ লাখ ১৮ হাজার ৫২৭টি। অন্যান্য মামলার সংখ্যা ৮৬ হাজার ৯১৩টি। এ ছাড়া বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৫ লাখ ৩ হাজার ৫১২টি। এর মধ্যে আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১২ হাজার ২৪৬টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৫ হাজার ২৬৬টি। অধস্তন আদালতে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ২৮ লাখ ৯২ হাজার ১৩৭টি।

জাতীয় পার্টির সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আনিসুল হক জানান, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মামলাজট কমানোর জন্য ট্রাক অ্যালোকেশন সিস্টেম চালু আছে। এই সিস্টেমে মামলাগুলোকে স্মল ট্র্যাক, পাস্ট ট্র্যাক বা মাল্টি ট্র্যাকে ভাগ করা হয়ে থাকে। সাধারণত মামলার আর্থিক মূল্যমান এবং মামলার গুরুত্ব ও জটিলতা বিবেচনায় এটা করা হয়ে থাকে।

"