চট্টগ্রামে রোগীদের ভোগান্তির অবসান

চিকিৎসক ধর্মঘট স্থগিত

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মালিক সমিতির ডাকা ধর্মঘট গতকাল সোমবার দুপুরে সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সমিতির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী খান বলেন, প্রশাসন ও বিএমএ নেতাদের আশ্বাসে ধর্মঘট সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে গতকাল সোমবার সকালে প্রেস ক্লাবে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় দোষী চিকিৎসকদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সাংবাদিক নেতারা।

এর আগে অনিয়মের নমুনা পাওয়ার পর চট্টগ্রামের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালকে ১০ লাখ ও সিএসসিআরকে চার লাখ টাকা জরিমানা করেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। র?্যাবের এই অভিযানের প্রতিবাদে গত রোববার দুপুরে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এবং চিকিৎসকের প্রাইভেট প্র্যাকটিস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। এতে একাত্ম ঘোষণা করে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), চট্টগ্রাম। এই ধর্মঘট প্রত্যাহারের আগে গতকাল সোমবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ছুটছেন সরকারি হাসপাতালগুলোতে। সকাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীদের ভিড় সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বলে জানান চিকিৎসকরা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে শিশু রোগ বিভাগ। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের শয্যার সংকুলান না হওয়া ফ্লোরে বেড বিছিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এ বিভাগে সোমবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০০ শিশু ভর্তি হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মো. সেলিম বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল বন্ধ হওয়ায় শিশু বিভাগে রোগীর চাপ বেড়েছে। ভিড় বেশি হওয়ায় আমার ছেলের সঠিক চিকিৎসা হবে কি না, সেটা নিয়ে চিন্তায় আছি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টারে দায়িত্বরত কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে দৈনিক ৬০০ থেকে ৬৫০ রোগী জরুরি বিভাগে আসেন। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালে সেবা বন্ধ থাকায় রোববার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সময়ে ১১ শতাধিক রোগী মেডিকেলের জরুরি বিভাগে আসেন। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৫০০ রোগী আসেন জরুরি বিভাগে।

গতকাল সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. বহ্নি চক্রবর্তী বলেন, আউটডোর-ইনডোর মিলে সাড়ে চার হাজার রোগী দুপুর পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা নিতে এসেছেন। অন্যসময় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। রোগী বাড়লেও আমরা সেবা দিয়ে যাব।

গত ২৮ জুন বিকালে দৈনিক সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরোর স্টাফ রিপোর্টার রুবেল খানের আড়াই বছর বয়সী মেয়ে রাইফা গলায় ব্যথা নিয়ে ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ২৯ জুন রাতে তার মৃত্যু হয়। ভুল চিকিৎসায় তার মৃত্যুর অভিযোগ তদন্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটিও এ ঘটনার তদন্ত করে। সিভিল সার্জনের নেতৃত্বাধীন কমিটি গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের প্রতিবেদন দেয়, যাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা এবং গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। ওই প্রতিবেদন আসার পর শিশু ওয়ার্ডে সেদিন দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ সেনগুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেবকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

"