সিটি নির্বাচন

এবার সরে দাঁড়াল খেলাফত, চাপমুক্ত বিএনপি

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

বরিশাল প্রতিনিধি

বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারকে সমর্থন জানিয়ে বরিশাল সিটি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক খেলাফত মজলিসের মেয়র প্রার্থী এ কে এম মাহবুব আলম। গত শনিবার রাতে বরিশাল নগরের পুলিশ লাইন রোডে একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁয় বিএনপি ও খেলাফত মজলিসের মতবিনিময় সভায় নিজের দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন এ কে এম মাহবুব আলম। একই সময় হেফাজত ইসলামের সমর্থন বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর সমালোচনা করা হয়।

এর আগে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারকে সমর্থন জানায় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। এর ফলে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটেরও একক প্রার্থী নিশ্চিত হলো।

বিএনপি থেকে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কমিশনে মনোনয়নপত্র দাখিল করে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াত ও খেলাফত মজলিস। এটা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের অন্যান্য শরিক দলের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত শরিক দুই দল থেকে মেয়র প্রার্থী প্রত্যাহার করায় অনেকটাই চাপমুক্ত বিএনপি।

সভায় মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচন এখন আর স্থানীয় সরকার নির্বাচন নয়। এটি এখন একটি রাজনৈতিক নির্বাচন। এই আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমাদের মধ্যকার বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রেখে আন্দোলনের আরো গভীরে যেতে হবে।’

অধ্যাপক এ কে এম মাহবুব আলম বলেন, ‘আমাদের আরো অনেকটা পথ একসঙ্গে পাড়ি দিতে হবে। কেন্দ্রের নির্দেশনা ছিল বিধায় বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হয়েছে। আবার কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের কারণেই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারকে খেলাফত মজলিসের সমর্থন জানানো হলো।’

অন্যদিকে অনুষ্ঠিত সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মাওলানা ওবায়েদুর রহমান মাহবুব হেফাজত ইসলামের আমিরের সমর্থন নিয়ে অপপ্রচারের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন খেলাফত মজলিসের নেতারা। হেফাজত ইসলামের কোষাধ্যক্ষ আলহাজ মাওলানা আবদুল কাদের বলেন, ‘ওবায়েদুর রহমান মাহবুব একজন শিক্ষক। কিন্তু নির্বাচনে হেফাজত ইসলামের আমিরের সমর্থন নিয়ে যে মিথ্যাচার তিনি করেছেন, সেটা তিনি মোটেই ভালো করেননি। তার এ ধরনের কর্মকা-ে গোটা ওলামা সমাজ বিব্রত হয়েছে।’

প্রার্থীর পাশে নেই বঞ্চিত নেতারা

সময় যতটাই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ততটাই সরব হচ্ছে। ভোটের জন্য মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছেন মেয়র থেকে শুরু করে ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তবে ভোটের মাঠে এখনো দেখা মিলছে না আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিতদের। দলের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর থেকেই তারা ভোটের মাঠে নিরুদ্দেশ। ফলে দলীয় ওই সব নেতা এবং তাদের অনুসারীদের ভোট নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না দুই দলের প্রার্থী ও সমর্থকদের। আগে যারা রাজনীতির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরব ছিলেন, নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আলোচনায় চলে এসেছিলেন, কিন্তু প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই দেখা মিলছে না তাদের।

বিএনপির বঞ্চিতদের মধ্যে দেখা মিলছে না বিসিসির বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামাল, বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিছ আক্তার জাহান শিরিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ এবায়েদুল হক চাঁন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ ও মহানগর বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুলকে। অবশ্য মজিবর রহমান সরোয়ারের বাসায় অনুষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেখা মেলে অ্যাডভোকেট বিলকিছ আক্তার জাহান শিরিনের।

একইভাবে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় পাশে ছিলেন না মনোনয়নবঞ্চিত খান আলতাফ হোসেন ভুলু, জাহিদ ফারুক শামীম, মাহমুদুল হক খান মামুন কিংবা মীর আমীন উদ্দিন আহমেদ মোহন।

এর কারণ জানতে চাইলে দুই দলের একাধিক নেতা বলেন, যারা মনোনয়নবঞ্চিত, তাদের দলীয় এবং ব্যক্তিগত ভোট রয়েছে। এরা যেদিকে বলবেন, সেদিকেই ঝুঁকতে পারেন সেসব ভোটার। এর ফলে দুই দলের প্রার্থীর ভোটের ফলাফলেই প্রভাব পড়তে পারে। তাই মনোনয়নবঞ্চিতদের কাছে ভেড়ানো জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই প্রার্থীর। কারণ তাদের ক্ষোভের সুযোগ অন্য দলের প্রার্থীরা ভোগ করতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

অভিজ্ঞ প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ সৌভাগ্যের ব্যাপার : সাদিক

আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ গত শনিবার রাতে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বিএনপির প্রার্থীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘অভিজ্ঞ প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ আমার জন্য একটি সৌভাগ্যের ব্যাপার। তিনি (সরওয়ার) বরিশালে চারবার এমপি ছিলেন, সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন, তার মতো একজন প্রার্থীর বিপক্ষে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি, এটা সৌভাগ্যের ব্যাপার।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের রাজনীতি মানুষের সেবার জন্য, আমাদের চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। বরিশালের মানুষের চিন্তাচেতনা তাদের চাওয়া-পাওয়াই আমার ইশতেহার।’

"