সিসিক নির্বাচন

আ.লীগে আচরণবিধি লঙ্ঘন বিএনপিতে গৃহদাহ

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

এম এ রউফ, সিলেট

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ। প্রতীক বরাদ্দ হবে ১০ জুলাই। ওইদিন থেকেই শুরু হবে ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। কিন্তু তত দূর অপেক্ষা করছেন কেউ। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রচার-প্রচারণা এবং গণসংযোগ শুরু করেছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। এ নিয়ে একাধিক প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনেরও অভিযোগ উঠেছে। এদিকে বিএনপিতে চলছে গৃহদাহ, জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতের প্রার্থীও আরেক দফা বিপাকে ফেলে বিএনপিকে।

মেয়রপ্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় আছেন চারজন। এদের একজন সাবেক মেয়র ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে থাকা কামরানের পক্ষে অনেকটাই সংহত আওয়ামী পরিবার।

নেতারা কামরানকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়ে ‘ভোট পর্যন্ত’ তার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দল ও জোটের আগাম সমর্থন ও কর্মতৎপরতায় অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন কামরান।

অপরদিকে, মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সদ্য সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম আর জোটের শরিক জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকা এই দুই প্রার্থী নিয়ে অনেকটা বিপাকে পড়েছে বিএনপি।

বিশেষ করে আরিফ ও সেলিমকে নিয়ে বিএনপিতে নতুন করে বিভেদ-বিভাজনও সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির বড় একটি অংশ অবস্থান নিয়েছে আরিফের বিরুদ্ধে। দলের শীর্ষস্থানীয় কয়েক নেতাকে আরিফের পাশে দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তারা থাকবেন কিনা এ নিয়েও সংশয় ও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে অ্যাডভোকেট জুবায়েরকে নিয়ে প্রচারণায় নেমেছে তার সমর্থকরা।

এদিকে, দলের বিদ্রোহী ও জামায়াত প্রার্থীকে বসে আনতে বিএনপির পক্ষ থেকে দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো সুফল মিলছে না। নির্বাচনী সিদ্ধান্তে সেলিম-জুবায়ের অটল থাকায় বিএনপির সব প্রচেষ্ঠাই ব্যর্থ হচ্ছে।

আজ ৯ জুলাই মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। অনেকেই অপেক্ষায় আছেন। সেলিম ও জুবায়ের শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন কিনা। তবে কোনো চাপ বা প্রলোভনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন না বলে সাফ জানিয়েছেন দুই মেয়রপ্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

এ প্রসঙ্গে বদরুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই প্রত্যাহারের জন্য চাপ আসছে। দলের কয়েকজন নেতা দফায় দফায় আমার বাসায় এসে বৈঠক করছেন। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে পুরস্কৃত করার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। দেখানো হচ্ছে শাস্তির ও বহিষ্কারের ভয়। মনোনয়ন জমা দিয়েছি প্রত্যাহারের জন্য নয়।’

মেয়রপ্রার্থী ও মহানগর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট এহছানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘কেন্দ্রের সিদ্ধান্তেই মেয়র প্রার্থী হয়েছি। আশা করি ২০ দলীয় জোট আমাকে সমর্থন জানাবে। জোটের সমর্থন না পেলেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রশ্নই আসে না।’

তিনি বলেন, ‘বরিশাল ও রাজশাহীর প্রার্থীকে ২০ দলীয় জোটের সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিলেট উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি খোলসা করা হবে।’

"