রোহিঙ্গাদের নতুন বিপদ পাহাড়ি ঢল

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

কক্সবাজার ও উখিয়া প্রতিনিধি

নিজ দেশ মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা এখন অতি বৃষ্টি, ঢল, ভূমিধস আর ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে দিন-রাত পার করছে। তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আর তাদের প্রতিদিনের মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানোর চ্যালেঞ্জ ছাপিয়ে এ বিষয়টি মাথাব্যথার বড় কারণ হয়ে উঠেছে। আর রোহিঙ্গাদের কাছে নতুন বিপদ হয়ে তাদের মহাদুর্ভোগের বার্তা দিয়ে যাচ্ছে। টেকনাফের বালুখালী ক্যাম্পের একটি ঝুপড়ি ঘর এখন আলতাফ হোসেন ও তার পরিবারের আশ্রয়।

তিনি জানালেন, তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচজন। কোনো কোনো ঘরে ৮-৯ জন মানুষও থাকছে। এই বর্ষা তাদের কষ্ট বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। ভারী বৃষ্টি হলে পানি তো ঢুকছেই, ঘরগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন ক্যাম্পে সেভাবে রাস্তাঘাট তৈরি না হওয়ায় পিচ্ছিল পথে চলাফেরাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

গত বছর আগস্টে রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর বাংলাদেশ সীম৬ান্তে রোহিঙ্গাদের ঢল নামলে তাদের আশ্রয়ের জন্য অল্প সময়ের মধ্যে বিশাল এলাকাজুড়ে এই ক্যাম্প গড়ে ওঠে। পাহাড়ের ওপরে, ধার ঘেঁষে ও নিচে মাটি ও গাছ কেটে তৈরি করা হয় ঝুপড়ি ঘর। কিন্তু যেভাবে পাহাড় কেটে এই ঘরগুলো তৈরি হয়েছে তাতে আলগা মাটি বেরিয়ে আসছে। এরই মধ্যে ছোটখাটো ভূমিধসের খবর পাওয়া গেছে। ঘরের দেয়ালধসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আর ঘূর্ণিঝড় হলে এসব ঝুপড়ি ঘরের কী দশা হতে পারে তা কল্পনা করা কঠিন নয়।

সম্প্রতি ক্যাম্পগুলো সফর করে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস বলেছেন, চলতি বর্ষায় এবং ঘূর্ণিঝড়ের কবল থেকে বাঁচাতে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গাকে এই ক্যাম্প থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

ব্র্যাকের মানবিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির প্রধান মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, সামনে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা আছে। ভূমিধসেরও আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে এরই মধ্যে ক্যাম্প থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানান সরকারের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. আবুল কালাম। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুরুতে যখন তারা আসে তখন যে কোনোভাবে তারা ঘর তৈরি করেছে। তবে এ বিষয়ে তাদের সচেতন করা হচ্ছে।

ঝুঁকির কথা জানানোর পরও এই মানুষদের সরানো কঠিন হচ্ছে জানিয়ে ব্র্যাক কর্মকর্তা সালাম বলেন, নতুন জায়গায় গিয়ে আবার কী হয়Ñ এই শঙ্কায় তারা সরতে চাচ্ছে না। তাদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে জায়গারও অভাব রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া অর্থের অভাবও একটা কারণ।

জাতিসংঘ মহাসচিব গত সপ্তাহে ক্যাম্প পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তার মাত্র ২৬ শতাংশ পাওয়া গেছে। সাগরে তীরের ?কক্সবাজারের যদি সাইক্লোন আঘাত হানে তাহলে কী অবস্থা হবে ক্যাম্পগুলোতে?

ব্র্যাকের মানবিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির প্রধান সালাম বলেন, সে রকম ঘূর্ণিঝড় হলে একটা ঘরও থাকবে না। ক্যাম্পের বেশিরভাগ ঘরই পলিথিন দিয়ে ছাওয়া। কোনো কোনো ঘরে রয়েছে টিনের চাল। একটু ভারী বৃষ্টি হলেই ঘরের ছাদ ফুটো হয়ে বৃষ্টি পড়তে শুরু করে। ভারী বৃষ্টিপাত হলে পানির চাপে ঘরের চাল যেন ভেঙে না পড়ে সেজন্য ছাদ ফুটো করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় রোহিঙ্গাদের। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবকদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

"