সেমিতে ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া

ক্রোয়েশিয়া ২(৪) - ২(৩) রাশিয়া, সুইডেন ০ - ২ ইংল্যান্ড

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

একটি আদর্শ ফুটবল ম্যাচের প্রায় সব উপদানই ছিল। আক্রমণ-পাল্টাআক্রমণ, গোলপোস্টের নাটকীয়তা, দর্শক উন্মাদনা। চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালটা যে এভাবে উত্তেজনার রেণু ছড়াবে সেটা ছিল কল্পনারও বাইরে। রীতিমতো থ্রিলার একটা লড়াই উপহার দিল সামারা এরিনা। স্নায়ুক্ষয়ী যুদ্ধটা শেষ অবধি অমীমাংসিত থাকল নির্ধারিত দেড় ঘণ্টায় (১-১), পরের আধা ঘণ্টায়ও নির্ধারণ হলো না ম্যাচের ভাগ্য।

তুমুল উত্তেজনার ম্যাচটার সমাপ্তি টানতে শেষ অবধি আশ্রয় নেওয়া হলো টাইব্রেকারের। যেখানে পেনাল্টি শুট আউটে বাজিমাত করল ক্রোয়েশিয়া। রুশ রূপকথা থামিয়ে ক্রোটরা টাইব্রেকে জিতল ৪-৩ গোলে। আগামী বুধবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে রাটিকিচ-মডরিচদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।

অথচ এমন ম্যাচে শুরুতে এগিয়ে ছিল রাশিয়া। ৩১ মিনিটে রাশানদের এগিয়ে দেন ডেনিশ চেরিশেভ। ৮ মিনিটের ব্যবধানে ক্রামারিচ সমতায় ফেরান ক্রোয়েশিয়াকে। এরপর নির্ধারিত বাকি সময়ে গোলের দেখা পায়নি কোনো দলই। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। ১০০ মিনিটে এবার ক্রোটদের এগিয়ে দেন ভিদা। শেষ বাঁশির ৫ মিনিট আগে অতিথিদের জালে বল জড়িয়ে ম্যাচের উত্তেজনা বৃহস্পতির তুঙ্গে পাঠিয়ে দেন ফার্নান্দেজ। ম্যাচ ড্র হলো ২-২ গোলে।

দুই ম্যাচের দুই হলুদ কার্ড নিষেধাজ্ঞার খড়্গ পড়িয়ে দিয়েছে মিকায়েল লাস্টিগকে। কোয়ার্টার ফাইনাল শুরুর আগে যেটা বড় ধাক্কা হয়েই এসেছে সুইডেনের কাছে। লাস্টিগের শূন্যতাটাই শেষ অবধি কাল হয়ে দাঁড়াল সুইডিশদের জন্য। ইংল্যান্ডের কাছেই থেমে গেল নীল-হলুদ শিবিরের পথ চলা। কাল সামারা এরিনায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সুইডেনকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেছে ইংল্যান্ড। বুধবার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে থ্রি লায়নদের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া। যারা কিনা নক আউট পর্বের দুটো ম্যাচেই বেঁচে গেছে টাইব্রেকারে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে সুইডেনকে কখনো হারাতে পারেনি ইংল্যান্ড। এমনকি বাছাই পর্বের ম্যাচেও দলটা ইংল্যান্ডের কাছে একটা ‘জুজু’র নাম হয়ে উঠেছিল। অবশেষে সুইডেন ভূতটা তাড়াল ইংল্যান্ড। দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর ম্যাচটা জিতে নিল গ্যারেথ সাউথগেটের দল। এই জয়ে শুধু তারা জুজুই কাটায়নি দীর্ঘ ২৮ বছর পর ইংল্যান্ড উঠে গেছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। এই সাফল্যের জন্য ইংল্যান্ড সমর্থকরা ধন্যবাদ দিতে পারেন দুই তরুণ প্রতিভাবান ফুটবলার হ্যারি ম্যাগুয়ার ও ডেলে আলি। এ মানিকজোড়ের দুইটি হেডই সর্বনাশ করে দিয়েছে সুইডেনের। বলে দুর্দান্তভাবে মাথা ছুঁয়ে গেল করেছেন ম্যাগুয়ার ও আলি। এই দুই গোলে ম্যাচটা জিতে নিল ইংল্যান্ড। তবে ইংলিশদের দ্বিতীয় গোলটায় লেগে থাকল বিতর্কের ছোঁয়া। ৫৮ মিনিটে আলির গোলটা অফসাইড হলেও তা এড়িয়ে যায় রেফারির চোখ। ভিএআরের আবেদন করেও লাভ হলো না সুইডেনের। ম্যাচটা এক অর্থে শেষ হয়ে গেছে ওখানেই।

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কাছে সুইডেন এত দিন ছিল বড় এক ধাঁধার নাম! সব মিলিয়ে ইংল্যান্ড ও সুইডেনের মুখোমুখি লড়াইয়ে জয়-পরাজয়ে সমতা থাকলেও বিশ্বকাপে হিসাবটা অন্যরকম। বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে যে কখনোই সুইডেনকে হারাতে পারেনি ইংল্যান্ড। অবশ্য বিশ্বকাপে মাত্র দুইবারই মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব? সেখানেও সমতা, দুই ম্যাচের একটিতেও একে অন্যের জালে বল ঢোকাতে পারেনি ইংল্যান্ড ও সুইডেন। অবশেষে স্বস্তি পেল ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে সুইডেনকেও হারাতে পারে তারা।

স্কোর লাইন ২-০ দেখলে মনে হতে পারে, ম্যাচটা একপেশে হয়েছে। আসলে কিন্তু তা নয়। বল দখলের লড়াই ও আক্রমণে হ্যারি কেনের দল এগিয়ে থাকলেও প্রতি আক্রমণ থেকে বারবার ইংলিশদের পরীক্ষা নিয়েছে সুইডিশরা। মূলত পরাজিত দলের সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। এদিন গোলপোস্টের নিচে দুর্দান্ত খেলেছেন এই গোলরক্ষক।

"