জমকালো উদ্বোধন

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৮, ০০:০০

আমির হোসেন

চার বছরের অপেক্ষার পালা শেষ। মাঠে গড়িয়েছে বিশ্বকাপের একবিংশ আসর। গতকাল বৃহস্পতিবার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আতশবাজির ঝলকানির মধ্য দিয়ে পর্দা উঠেছে রাশিয়া বিশ্বকাপ-২০১৮। গতকাল সন্ধ্যায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরুর আগে বিশ্বকাপ উপলক্ষে তৈরি করা একটি ভিডিও দেখানো হয়। সেখানে গ্রাফিকস আর নজরকাড়া দৃশ্যায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

এরপর ইকার ক্যাসিয়াস এসে শোকেস থেকে রাশিয়া বিশ্বকাপের ট্রফি উন্মোচন করেন। ট্রফি উন্মোচনের পর মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে করতালি এবং হর্ষধ্বনির মধ্য দিয়ে প্রবেশ করেন ব্রাজিলের হয়ে দুই- দুইবার বিশ্বকাপজয়ী তারকা রোনালদো। তিনি বল তুলে দেন রাশিয়া বিশ্বকাপের মাসকট জাবিভাকার হাতে। এটাই ছিল বিশ্বকাপের অফিশিয়াল কিক অফ। রোনালদোর পর মাঠে প্রবেশ করেন গ্লোবাল মিউজিক আইকন রবি উইলিয়ামস। গান গাইতে গাইতে তিনি মঞ্চে ওঠেন। নানা ঢংয়ে নাচেন সহশিল্পীদের সঙ্গে। এর অল্প কিছুক্ষণ পরই নানা রঙে রঙিন পাখির ওপরে চড়ে সুর তুলে মঞ্চের দিকে আসেন রাশিয়ার তরুণ অপেরা শিল্পী আইদা গারিফুলিনা। তাকে মঞ্চে স্বাগত জানান রবি। তারপর দুজন মিলে পারফর্ম করেন।

তাদের পর্ব শেষে স্বাগত বক্তব্য দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। পুতিন তার বক্তব্যে বলেন, ‘ফুটবলকে এখানকার মানুষজন সত্যিকার অর্থেই খুব ভালোবাসে। এটাকে বলা যায় প্রথম দর্শনেই প্রেম। যা শুরু হয়েছে ১৮৯৭ সালে আমাদের এখানে অনুষ্ঠিত প্রথম ফুটবল ম্যাচ থেকেই। আশা করছি দলগুলো ও ভক্তরা রাশিয়ায় তাদের অবস্থানকালীন সময়টুকু বেশ উপভোগ করতে পারবে। রাশিয়ানরা মুক্তমনা, অতিথিপরায়ণ ও বন্ধুবৎসল। তাদের রয়েছে সব সংস্কৃতির প্রতি সম্মান। ফুটবল আমাদের সকলকে এক দলে একত্রিত করেছে। আকর্ষণীয় খেলা ফুটবলে আমরা আজ একত্রিত।’

পুতিনের পর বক্তব্য দেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফানতিনো। তিনি আয়োজক রাশিয়া ও অন্যদের ধন্যবাদ জানান। এরপর সৌদি আরব ও রাশিয়ার জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। জাতীয় সংগীত শেষে কিক অফের বাঁশি বাজান আর্জেন্টিনার রেফারি নেস্তর পিতানা। এর মধ্য দিয়ে মাঠে গড়ায় রাশিয়া বিশ্বকাপ।

ফুটবল আজ একই সুঁতায় বেঁধেছে গোটা বিশ্বকে। একত্রিত করেছে নানা জাতি ও নানা বর্ণকে। আগামী এক মাস জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-উঁচু-নিচু-উত্তম-অধম বিভেদ ভুলে ফুটবলে বুঁদ হয়ে থাকবে গোটা বিশ্ব। প্রিয় দলের শক্তি-সামর্থ্য আর সম্ভাবনা নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় তুলবে নিয়মিত। মাসব্যাপী এই উৎসাহ-উদ্দীপনা, তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনা শেষ হবে ফাইনালের মধ্য দিয়ে। দিন শেষে কেউ হাসবে। কেউবা কান্নাকে সঙ্গী করে অপেক্ষার প্রহর গুনতে শুরু করবে পরবর্তী বিশ্বকাপের।

"