ভিড় বাড়ছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৮, ০০:০০

খালিদ হাসান

গতবারের মতো এবারও ঈদে নৌপথের যাত্রা নিরাপদ ও আরামদায়ক হবেÑ এমনটাই আশা করছেন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল প্রশাসন। সদরঘাট নৌটার্মিনালের ঈদ প্রস্তুতি সম্পর্কে এমন আশ্বাস দিয়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তা, মালিক সমিতি ও কর্মচারীরা জানান, ঈদযাত্রায় দেশের প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলমুখী নৌযানগুলোতে স্বাভাবিক অবস্থা থেকে মাত্রাতিরিক্ত সব ধরনের চাপ সামাল দিতে প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা নদীবন্দর ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। ঢাকা নদীবন্দর ও বিআইডব্লিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নৌপথে ঈদ যাত্রায় সব

ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সামগ্রিক কাজকে সহজতর করতে যাবতীয় কাজকে দুই ভাগে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। একাংশে থাকছে যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তা বিধান এবং অন্য অংশে থাকছে নৌযান চলাচল। শেষের অংশ দিয়ে যাত্রীরা যাতে নিরাপদে নৌযানে উঠতে ও নৌযানগুলো নিরাপদে টার্মিনাল ছেড়ে যেতে পারেÑ সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইতোমধ্যেই যাত্রীদের সব ধরনের তথ্য সহজে জানাতে ও যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে টার্মিনালের প্রবেশমুখে একটি বড় পর্দা স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনা ও সচেতনতামূলক ভিডিও ও তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এ ছাড়া সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সামলাতে কাজ করছে র‌্যাব, ডিএমপি ও নৌপুলিশ। ৬০ জন বিএনসিসি ক্যাডেট রয়েছে যাত্রীদের তথ্য সহায়তার জন্য। বিএনসিসি ও ডিপিডিসি সদস্যরা অসুস্থ যাত্রীদের হুইল চেয়ার বা যেভাবে প্রয়োজন সেভাবে চলাচলে সহায়তা করছে। এ ছাড়া যাত্রী চাপ বেড়ে গেলে বিভিন্ন গেট বন্ধ ও খোলার কাজও করছে সব নিরাপত্তাকর্মী ও ক্যাডেটরা।

বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক আরিফ উদ্দিন বলেন, যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। রাস্তার যানজট এড়াতে টার্মিনালে যাত্রী ছাড়া কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিআইডব্লিউটিএর স্পেশাল ক্যাডেট, ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিশেষ বাহিনী লঞ্চঘাটের বিভিন্ন স্থানের নিরাপত্তা এবং দুর্ভোগ এড়াতে সর্বদা তৎপর। এ ছাড়া সদরঘাট টার্মিনাল এখন স্থায়ীভাবে হকারমুক্ত। আগে যেমন চুরি, ছিনতাই ও মলমপার্টির খপ্পরে অনেকে সর্বস্ব হারাত, এখন আর এসব নেই। টার্মিনাল এখন এসব অপরাধমুক্ত।

লঞ্চের ভাড়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না, সরকার নির্ধারিত ভাড়াই নিতে হবে। এ নির্দেশ মানা হচ্ছে। তবে ঈদের মৌসুম ছাড়া অন্য সময় ভাড়া অনেক কম নেওয়া হয়। তাই ঈদের সময় নির্ধারিত ভাড়া নিলে যাত্রীরা মনে করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু মোটেও তা অতিরিক্ত নয়।

গতকাল বুধবার সরেজমিনে সদরঘাট টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় কিছুটা বেড়েছে। শবেকদরের ছুটি থাকায় অনেকেই গতকাল বাড়ি ফিরেছে। তবে আজ বৃহস্পতিবার থেকে যাত্রীর চাপ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, গার্মেন্টসকর্মীদের আজ থেকেই ছুটি।

ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম-পরিচালক (ট্রাফিক) আলমগীর কবির প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ঈদে আমাদের অবশ্যই অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করতে হবে। কারণ, ঈদে ২০-৩০ লাখ মানুষ হয়। কিন্তু আমাদের লঞ্চের সংখ্যা ব্যক্তি মালিকানাধীন ২০৯টি ও বিআইডব্লিউটিএর ছয়টি। এই স্বল্পসংখ্যক নৌযান দিয়ে কোনোভাবেই এত বেশি যাত্রী স্বাভাবিকভাবে পরিবহন সম্ভব নয়। তাই আমরা বেশ কয়েকটি করণীয় ঠিক করেছি। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী হলেও তা যেন স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে, সেদিকে আমরা খেয়াল রাখব। প্রতিটি লঞ্চকে ওয়ান ওয়েতে কনভার্ট করে ঢাকা থেকে যাত্রী পরিবহনে যুক্ত করা হবে। এতে আমাদের লঞ্চ সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যাবে এবং অধিক যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে।

"