শাহজাহানের হত্যাকারীকে খুঁজছে পুলিশ

মামলা : ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির ঘটনাস্থল পরিদর্শন

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৮, ০০:০০

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাংবাদিক, কবি, প্রকাশক ও ব্লগার শাজাহান বাচ্চু হত্যাকা-ের ঘটনায় মামলা হয়েছে। সিরাজদিখান থানার ওসি মো আবুল কালাম জানান, এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী আফসানা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ের চারজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া গত সোমবার রাত সাড়ে ১২টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন পি পি এম। তিনি নিহতের স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গেও কথা বলেন।

ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি গত সোমবার রাত ১টার দিকে শাহজাহানের দ্বিতীয় স্ত্রী আফসানা, মেয়ে আচল ও ছেলে বিলাশের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের কথা শোনেন। এ সময় সঙ্গে ছিলেন মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পি পি এম, সিরাজদিখান সার্কেল সিনিয়র এএসপি আসাদুজ্জামান, ওসি ডিবি ইউনুচ আলী, ওসি টঙ্গিবাড়ি থানা মো. ইয়ারদৌম হাসান, ওসি সিরাজদিখান মো. আবুল কালাম এবং ঢাকা থেকে কাউন্টার ট্যারিজমের একটি টিম।

এর আগে রাত ১০টায় ঢাকা থেকে তার প্রথম স্ত্রী কানন মেয়ে দূর্বা সিরাজদিখান থানায় আসেন। তাদের সঙ্গে ডিআইজি কথা বলেন।

শাজাহান বাচ্চুর মেয়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলার ছাত্রী দূর্বা জাহান (২০) জানান, ‘লাশ দেখার আগ পর্যন্ত বিশ^াস করতে পারর না যে বাবা মৃত। জানি না কারা মারতে পারে। কে করেছে সেটা যেহেতু আমি জানি না। তদন্ত সাপেক্ষে যেটা হবে।’

শাজাহান বাচ্চুর মেয়ে আচল জানান, ‘আমাদের খবর দেওয়া হয়, বাবা অসুস্থ। প্রথম ভাবলাম হাই প্রেশার ছিল। গিয়ে দেখি অনেক মানুষের ভিড়। আরো কাছে গিয়ে জানতে পারি বাবার গুলি লেগেছে। লাশটা আমাদের দেখতে দেওয়া হয়নি।’

ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি চৌধূরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আপনাদের সামনে কথা হয়েছে, আলাদাভাবেও জিজ্ঞেস করেছি। ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে এসপি, ওসি এবং আমিও এসেছি। ঢাকা থেকে কাউন্টার ট্যারিজম টিম এসেছে। আমরা সবাই মিলে এখানে কাজ করছি।’

তিনি আরো জানান, ‘সন্ধ্যার আগে শাহজাহান একটা ফার্মেসি থেকে বের হন, এর পরপরই তার ওপর আক্রমন হয়। তাকে হত্যা করা হয়েছে।’

‘সর্বাত্মক প্রচেষ্টা দিয়ে সকল ইউনিট এ বিষয়ে যারা কাজ করছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। হত্যাকা-ে যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে এই রহস্যের উদঘাটন করব।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘আমরাও শুনেছি একজন অফিসার ছিল, সে জানিয়েছে বলে অন্যান্য জায়গায় জানানো হয়েছে। এরপরও যদি কোন ত্রুটি বিচ্যুতি থাকে সেটা আমরা দেখব ও ত্রুটি থাকলে ব্যবস্থা নিব। আমি যেটা শুনেছি এখানে অনেক রাস্তা আছে মানুষ যে কোন দিকে যেতে পারে। এরপরও যদি কারো ত্রুটি থাকে কোনোভাবে এটা ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।’

উল্লেখ্য, পূর্ব কাকালদী (মুন্সীগঞ্জ-শ্রীনগর সড়কের) তিন রাস্তার মোড়ে আনোয়ার হোসেনের ফার্মেসী থেকে বের হওয়ার পর শাহজাহান বাচ্চু খুন হন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে চারজন লোক এসে তাকে ধরে রাস্তায় নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় সিরাজদিখান থানার এএসআই মাসুম ওই রাস্তা দিয়ে মুন্সীগঞ্জ থেকে থানার দিকে যাচ্ছিলেন।

এ এস আই মাসুম জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে তিনি একটি বিকট আওয়াজ পান, সামনে এসে দেখেন একটি লোক পড়ে আছে। প্রথমে ভেবেছিলেন বিদ্যুতের তারে সমস্যা হয়েছে কিনা। পাশের রাস্তা থেকে তাকে উদ্দেশ্য করে বলছে, ‘সালাকে গুলি কর’। এমন সময় একজন ব্যাগ থেকে একটি ককটেল ছুড়ে দেয় তার দিকে। তখন তিনি দৌড়ে পিছিয়ে যান।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি পিস্তল বের করতেই আরেক জন তাকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছোড়ে। আমি বসে গুলি করার চেষ্টা করলে বিপরীত রাস্তায় সন্ত্রাসীরা দৌড়ে দুটি মোটরসাইকেলে চারজন পালিয়ে যায়।’

শাজাহান বাচ্চু উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম কাকালদি গ্রামের মরহুম মমতাজ উদ্দিনের ছেলে। সে জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি ছিলেন সাংবাদিক, কবি, প্রকাশক ও ব্লগার। ঢাকার বাংলাবাজারে বিশাকা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ও সাপ্তাহিক আমাদের বিক্রমপুর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন।

"