আর নয় এমআরপি আসছে ই-পাসপোর্ট

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২০ সাল থেকে আর থাকবে না মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি)। এর বদলে আসছে ৩ কোটি ই-পাসপোর্ট। বর্তমান ব্যবস্থায় বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে ভ্রমণকারীদের দীর্ঘ সময় কিউতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু ই-গেট চালু করা হলে আর দীর্ঘ সময় কিউতে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। এই বিষয়ে এরই মধ্যে ই-পাসপোর্ট চালুর বিষয়ে জার্মানির সরকারি প্রতিষ্ঠান ভেরিডোস জেএমবিএইচের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

ভ্রমণ সুবিধা করতেই তিনটি বিমানবন্দরে ই-গেটও থাকবে। ই-গেটে থাকবে সার্ভার, রাউটার, সফটওয়ার ইনস্টলেশন, স্ক্যানার, ক্যামেরা ও ই-পাসপোর্ট রিডার আধুনিক মেশিন। ই-পাসপোর্টধারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিমানবন্দরে ই-গেটের মাধ্যমে ইমিগ্রেশনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন। শুধু পাসপোর্টটি ই-গেটের নির্দিষ্ট পয়েন্টে স্পর্শ করলেই ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়ে যাবে চোখের পলকে। ই-পাসপোর্টধারীর কোনো ঝামেলা থাকলে লালবাতি জ্বলে উঠবে ই-গেটে। তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তিনি আটকে যাবেন ইমিগ্রেশনে।

এখন দেশের প্রায় ২ কোটি মানুষ মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) মালিক। প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজার মানুষ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করছেন। সময়মতো পাসপোর্ট দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে পাসপোর্ট অফিসগুলো। ২০১০ সালে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) চালু হওয়ার সময় যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার হচ্ছিল সেগুলো দিয়েই এখনো কাজ চলছে। এসব যন্ত্রের অধিকাংশই বিকল। এক যন্ত্রের পার্টস অন্য যন্ত্রে বসিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে কাজ।

‘বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন’ প্রকল্পের আওতায় ৩ কোটি ই-পাসপোর্ট তৈরি করা হবে। ৩ কোটি ই-পাসপোর্ট তৈরির পাশাপাশি হযরত ঢাকা শাহ্?জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ই-গেট তৈরি করা হবে।

প্রকল্পটি প্রণয়নে দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ। বর্তমানে তিনি পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রকল্পটি যাতে করে আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় অনুমোদন পায় সেই বিষয়ে সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছেন তিনি।

ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ই-পাসপোর্ট এখন আন্তর্জাতিক চাহিদা। কারণ ২০২০ সালের পরে অনেক দেশ এমআরপি বন্ধ করে দেবে। সেজন্যই আমরা এটা চালু করতে যাচ্ছি। আশা করি, প্রকল্পটি মঙ্গলবার (কাল) অনুমোদনের পরই ই-পাসপোর্ট তৈরির কাজ শুরু হয়ে যাবে। এর পাশাপাশি তিনটি বিমানবন্দরেও শুরু হবে ই-গেট তৈরির কাজ। কারণ ই-পাসপোর্টধারীরা ই-গেটের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করবেন। ই-গেটে কোনো সময়ক্ষেপণ নয়। কয়েক মিনিটেই ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা যাবে। তবে যাদের হাতে তখনো এমআরপি পাসপোর্ট থাকবে তাদের ইমিগ্রেশনের কাজ বিদ্যমান পদ্ধতিতেই চলমান থাকবে।

তিনি আরো বলেন, ৩৮ ধরনের তথ্য থাকবে ই-পাসপোর্টে। বর্তমানে এমআরপি ডাটাবেজে যেসব তথ্য আছে তা ই-পাসপোর্টে নেওয়া হবে। পাসপোর্টের মেয়াদ হবে বয়সভেদে ৫ ও ১০ বছর। তবে ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এমআরপি পাসপোর্টটি বাতিল হয়ে যাবে না। তবে কারো পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তাকে এমআরপির বদলে ই-পাসপোর্ট নিতে হবে। এমআরপির মতোই বই আকারে ই-পাসপোর্ট তৈরি করা হবে। তবে বর্তমানে পাসপোর্ট বইয়ের শুরুতে ব্যক্তির তথ্য সংবলিত যে দুইটি পাতা আছে, ই-পাসপোর্টে তা থাকবে না। থাকবে পলিমারে তৈরি একটি কার্ড। এই কার্ডের মধ্যে থাকবে একটি চিপ। সেই চিপে পাসপোর্টের বাহকের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।

"