গতিহারা স্মার্টকার্ড প্রকল্প

দৈনিক উৎপাদন লাখের নিচে নেমেছে

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৮, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

ভোটার নাগরিকের সুবিধা সংবলিত স্মার্টকার্ড প্রকল্পটি হালে গতি পাচ্ছে না। নিজস্ব উদ্যোগে স্মার্টকার্ড উৎপাদন, মুদ্রণ ও বিতরণ করার মতো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এখন রীতিমতো খাবি খাচ্ছে আইডিয়া প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে কার্যক্রম ধীরে ধীরে বাড়ার কথা থাকলেও তা ক্রমান্বয়ে কমছে। প্রকল্পটির এখন গতিহারা অবস্থা।

কারণ হিসেবে জানা গেছে, স্মার্টকার্ড উৎপাদনে ব্যবহার হওয়া ১০টির ৪টি মেশিনই বিকল। ফলে দৈনিক প্রায় দেড় লাখ কার্ড উৎপাদনের কথা থাকলেও তা কমে ১ লাখে এসে ঠেকেছে। ফলে প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদে কাজ সম্পাদন করা নিয়ে যেমন জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। একইভাবে দৈনন্দিন অযৌক্তিক খরচ বাড়ছে।

এর আগে স্মার্টকার্ড উৎপাদনে ব্যর্থ হওয়ায় ফ্রান্সের ওবারর্থু টেকনোলজিকে প্রকল্প থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের কারণে ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হচ্ছে। আর প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী শর্তপূরণে ব্যর্থতার কারণে আইডিয়া প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায় বিশ্বব্যাংক। এখন সরকারি অর্থায়নে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলছে প্রকল্পটির কার্যক্রম।

মন্তব্য জানতে আইডিয়া প্রকল্পের পরিচালক ও এনআইডি ডিজি ব্রি. জে. মো. সাইদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্পের নির্ভরযোগ্য কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে জানান, স্মার্টকার্ড প্রকল্পের কাজটি নিজস্ব উদ্যোগে শুরুর পর সব ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু প্রকল্পের মাঝ পথে এসে হঠাৎ তিনটি মেশিনের অপারেটিং ম্যানেজমেন্টে সমস্যা দেখা দেয়। আর একটি মেশিনে একটি যন্ত্রাংশ না পাওয়ার কারণে সচল রাখা যাচ্ছে না। ওই কর্মকর্তা বলেন, স্মার্টকার্ড উৎপাদন, মুদ্রণ ও বিতরণ কার্যক্রমকে সমন্বয় করে চলার লক্ষ্যে ১০টি মেশিনে সব ধরনের কাজ চলছিল। এসব মেশিনে দৈনিক দেড় লাখের মতো কার্ড মুদ্রণ করা যেত। কিন্তু ৪টি বিকল থাকায় উৎপাদন সঙ্গতকারণেই লাখের কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। আরেক কর্মকর্তা বলেন, বিকল মেশিনগুলো সচল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দেখা যাক, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই সব জটিলতা কাটিয়ে পুরোদমে স্মার্টকার্ড মুদ্রণে ফেরা সম্ভব হবে, যোগ করেন ওই কর্মকর্তা।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, ভোটার নাগরিকদের প্রযুক্তিসম্পন্ন স্মার্টকার্ড দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ নিয়ে শুরুতে ব্যাপক ঢাকঢোল পেটায়। বিদেশ ভ্রমণ থেকে শুরু করে প্রকল্পের অবকাঠামোতে অর্থের অনেকটা ব্যয় হয়। বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্পের জন্য ১৩৭৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখে। এই টাকার মধ্যে স্মার্টকার্ড পরসোনালাইজেশনের পেছনে ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। লক্ষ্য ৯ কোটি ভোটারের হাতে প্রযুক্তিনির্ভর ওই কার্ড তুলে দেওয়া। এর ধারাবাহিকতায় ফ্রান্সের ওবারর্থু টেকনোলজির সঙ্গে একটি চুক্তি হয়। চুক্তিনুযায়ী গত বছরের জুনের মধ্যে সব কার্যক্রম শেষ করার কথা। কিন্তু তিন দফা সময় বাড়িয়েও লক্ষ্যমাত্রার ২০ শতাংশও পূরণ করতে পারেনি। পরে গত বছরের জুনে আরেক দফা সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও আইডিয়া প্রকল্প নতুন করে সময় না বাড়ানোয় ওবারর্থুর সঙ্গে সব সম্পর্ক ইতি ঘটে।

গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্বব্যাংক প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে সরকারি অর্থায়নে স্মার্টকার্ড মুদ্রণের কার্যক্রম হাতে নিয়ে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়। কিন্তু প্রকল্পের মাঝপথে এসে ১০ মেশিনের ৪টি বিকল হওয়ার কারণে যথাসময়ে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে কিনা এ নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে।

এদিকে, স্মার্টকার্ড বিতরণ নিয়েও নানা ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে সারা দেশ থেকে। প্রথম দিকে ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ ছাড়া এই দুর্লভ কার্ড না মিললেও এখন সেটিও লাগছে না। এমনকি কার্ডপ্রতি কিছু উৎকোচ নিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে এটি, যা নিয়ে খোদ জাতীয় পরিচয়পত্রের কর্মকর্তারা বিব্রত।

"