তিন নেতার দিল্লি সফর

বিএনপির ভারতনীতি নিয়ে বক্তব্যে তোলপাড়

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত সংবাদে এক বিএনপি নেতার বক্তব্য নিয়ে দলের অভ্যন্তরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পত্রিকাটি গত ৮ জুন ‘বাংলাদেশে সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনের জন্য বিএনপি ভারতের সহযোগিতা চায়’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। এতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমানের উপদেষ্টা বিএনপির আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয় বিএনপির ভ্রান্তনীতি এবং নির্বুদ্ধিতার কারণে দুটি দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। তিনি বলেন, আমরা পেছনের দিকে না তাকিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। ৮০ ও ৯০ দশকের রাজনৈতিক চিন্তাধারা এখন অচল। গত সপ্তাহে ভারত সফরে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইসচেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তারেক রহমানের উপদেষ্টা বিএনপির আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির। ওই সফরে তারা ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি, বিরোধী দল কংগ্রেস, সে দেশের তিনটি এনজিও, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে গতকাল দিনভর দলের ভেতরে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া এতটাই বেশি কোথাও কোথাও এ নিয়ে আলোচনায় উত্তাপ ছড়িয়েছে। নেতারা হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথাও বলেছেন। দলের নেতারা বলেন, এ বক্তব্যের মাধ্যমে দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়া ও জোট সরকারকে ‘অসম্মান’ করা হয়েছে। ওই উপদেষ্টার এ ধরনের মন্তব্য করার এখতিয়ার নেই। দলের ভেতর অভ্যন্তরীণ আলোচনায় এ বিষয়ে বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বিদেশনীতি ভ্রান্ত ও নির্বুদ্ধিতা ছিল না। এগুলো যারা বলছেন, তারাই ভ্রান্ত পথে আছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্য এক উপদেষ্টা বলেন, কোনো সরকারের বিদেশনীতি শতভাগ ঠিক থাকে না। রাষ্ট্রের বিষয়টি চিন্তা করে নীতি গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছিল, ওই সময়ের প্রেক্ষাপট কী ছিল তা জানতে হবে। শুধু ‘সহানুভূতি’ পাওয়ার জন্য মন্তব্য করলে তাতে দলের মর্যাদাকে ক্ষুণœ হবে।

দ্য হিন্দুর ওই প্রতিবেদনে হুমায়ুন কবিরকে উদ্ধৃত করে এমনও বলা হয়, ‘তারেক রহমান ভারতের সঙ্গে থাকতে চায় এবং দুই দেশের তরুণদের আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি।’

দলের স্থায়ী কমিটিসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি। তবে তারা বলেছেন, এমন বক্তব্য দেওয়ার মতো ব্যক্তি হুমায়ুন কবির নন। তাদের মতে, এসব বিষয়ে নীতিনির্ধারকের বক্তব্য আসা উচিত। এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত দলে হয়নি।

এ ব্যাপারে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপির কোন প্রতিনিধি দল ভারত সফরে গেছে বলে তো আমি জানি না। ভারত সফরের ব্যাপারে কোনো দলীয় সিদ্ধান্তের কথাও আমি জানি না। এটা দলের মহাসচিব বলতে পারবেন। কোথায় কে কি বলল, আর কোথায় কি সংবাদ প্রকাশিত হলো তা দিয়ে তো দলের নীতি নির্ধারণ হয় না।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্চর চন্দ্র রায় বলেন, রাজনীতিতে এ ধরনের কথা বলা বেমানান। রাজনীতিতে ভুল স্বীকারের অনেক শব্দ আছে। কূটনীতিক ভাষা আছে। কিন্তু এমন সাদামাটা ভাষায়, এটা বেমানান। তবে আমি জানি না বিএনপির কোনো প্রতিনিধি দল ভারত সফরে গেছে কি না। বিএনপির কোনো নেতা এ ধরনের কথা বলেছেন কি না। কোনো পত্রিকায় কিছু বক্তব্য ছাপা হলেই যে সেটা সত্য হবে, এমন তো নয়।

দলীয় নেতাদের ভারত সফর সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে নওশাদ জমির বলেন, ভারত কিছুদিন আগে সকল দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। হয়তো তারই ধারাবাহিকতায় নেতারা গেছেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সকল দেশের কাছে আমাদের একটিই চাওয়া। তারা নীতিগতভাবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পক্ষে থাকবেন। বিএনপি নেতাদের মধ্যে অনেকে এখন পূর্বমুখী অর্থাৎ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরো দৃঢ় করার পক্ষে। বিদেশনীতির পরিবর্তন করে পূর্বমুখী করতে দলের ভেতরে চাপ রয়েছে।

"