ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা কাটেনি

সড়কপথে এবারও দুর্ভোগ

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৮, ০০:০০

হাসান ইমন

স্বজনের সঙ্গে ঈদ করতে সড়কপথে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে ঢাকার মানুষ। অগ্রিম টিকিটে গত বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়েছে ঈদযাত্রা। তবে মূল স্রোত এখনো নামেনি পথে। অথচ এরই মধ্যে পথে পথে দেখা দিয়েছে দুর্ভোগ। ঢাকা থেকে বের হতেই যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে যানজটের মুখে। ভাঙাচোরা রাস্তা। কোথাও সংস্কারের কাজ চলছে। তিন লেনের মধ্যে দুই লেনই বন্ধ। বাসগুলো চলছে ধীরগতিতে। এরই মধ্যে বিকল হয়ে পড়া গাড়ি আরো তীব্র করে তুলছে যানজট। এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে তিন-চার ঘণ্টায়। সবমিলে এবারও যে ঈদযাত্রা সুখের হবে না- এমন আশঙ্কা নিয়েই পথে নামছেন ঈদে ঘরমুখো মানুষ।

বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যানজট ইতোমধ্যেই তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে গাজীপুর, এলেঙ্গা ও মির্জাপুর হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ওঠার আগ পর্যন্ত সড়ক জুড়ে যানজট লেগেই রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিটাগাং রোড, কাঁচপুর, কুমিল্লার দাউকান্দি ও মেঘনা সেতু এলাকা এবং ফেনীর মহিপাল এলাকায় যানজটের খবর পাওয়া গেছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও যানজট দেখা দিচ্ছে।

অবশ্য মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে বের হওয়া গাড়িগুলোকে ঢাকা ছাড়তেই দুই-তিন ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালকরা। তারা বলেন, গাবতলী ও মহাখালী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত যেতে যেখানে সময় লাগার কথা ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা, সেখানে যানজটের কারণে তিন ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। কারণ হিসেবে তারা এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে ও ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ এবং স্থানে স্থানে সড়কের সংস্কার কাজকে দায়ী করেন। চালকরা বলেন, এসবের কারণে সড়কগুলো দিয়ে যানবাহনগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে না।

গত বৃহস্পতিবার থেকে সড়ক পথে ঈদ যাত্রা শুরু হলেও টার্মিনালগুলোতে এখনো তেমন ভিড় শুরু হয়নি। গতকাল বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনো ঈদ ছুটি শুরু না হওয়ায় কর্মজীবী মানুষ আগেভাগেই পরিবারের সদস্যদের বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছেন। বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরাও। ফলে রাজধানীর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলোতে প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে। তবে মূল স্রোত নামবে মঙ্গলবার থেকেই। কারণ বুধবার শবে কদরের ছুটি থেকেই ঈদের ছুটি শুরু। ফলে মঙ্গলবার কোনোমতে, অফিসে উপস্থিত হয়েই বাড়ি ফিরতে শুরু করবে মানুষ।

ঢাকা থেকে বের হওয়ার তিন প্রধানমুখ ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-উত্তরবঙ্গগামী বাসের চালকরা এসব সড়কে যানজটের তথ্য জানিয়েছেন। কারণ হিসেবে তারা বলেন, যাত্রাবাড়ী থেকে চিটাগাং রোড এলাকার শিমরাইল মোড় পর্যন্ত আট লেনের হলেও কাঁচপুর সেতু দুই লেন হওয়ায় যানবাহনগুলোকে চলতে হচ্ছে ধীর গতিতে। এখানে যানজট থেকেই যাচ্ছে। এ ছাড়া সেতুতে ভারী যানবাহন উঠতে গিয়ে বিকল হওয়ার কারণেও যানজট হচ্ছে। বর্তমানে কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুর নির্মাণকাজ চলায় রাস্তার ত্রুটির কারণেও যানজটে পড়তে হচ্ছে গাড়িগুলোকে। মেঘনা সেতুর টোল আদায়ে ধীরগতি এবং দুই লেনের সেতুর কারণে এ পয়েন্টে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। অপরদিকে, একই সমস্যা কুমিল্লা দাউদকান্দি সেতু ও আশপাশ সড়কেও।

চট্টগ্রামগামী শ্যামলী পরিবহনের চালক মোবারক হোসেন জানান, ঈদের সময় যানবাহনের চাপ বেশি হলেও মূলত কাঁচপুর ও মেঘনা সেতুর টোলপ্লাজায় টোল আদায়ে ধীরগতির কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। এবারও যানজট হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বর্ষার মৌসুম হওয়ায় যেকোনো সময় বৃষ্টি হলে যানজটের তীব্রতাও বেড়ে যেতে পারে।

শিমরাইল মোড়ে ঢাকা-ফেনীগামী স্টারলাইন কাউন্টারের পরিচালক মো. নাছির উদ্দিন জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট অনেক সময় কাঁচপুর সেতুতে অথবা মদনপুর, মেঘনা টোলপ্লাজা বা দাউদকান্দিতেও হতে পারে। এমন যানজট গতবারও ছিল। এবারও এসব পয়েন্টে যানজট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ইতোমধ্যেই যানজট দেখা দিতে শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা-গাউছিয়া অংশে। গাড়ি চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাউছিয়া পয়েন্টে বহুদিন ধরে যানজট হয়ে আসছে। এই পয়েন্টে রয়েছে দেশের বৃহত্তম পাইকারি কাপড় মার্কেট। এ মার্কেটে এত লোকের সমাগম হয়, যা মহাসড়কের অনেকাংশ দখলে থাকে। ফলে এখানে যানজট তীব্র হয়। এ ছাড়া বর্তমানে ভুলতা থেকে গাউছিয়া পর্যন্ত ফ্লাইওভার কাজ চলার কারণে এই সড়কে গাড়ি চলাচলের লেন সরু হয়ে গেছে। তাই ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের চাপে ইতোমধ্যেই যানজট শুরু হয়েছে।

ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের বাড়ি ফিরতে এবার বেশ বেগ পোহাতে হবে বলে জানালেন এই সড়কে চলাচলরত বিভিন্ন পরিবহন চালকরা। এর কারণ হিসেবে তারা ঢাকা-গাজীপুর মহাসড়ককে দায়ী করেন। তারা জানান, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের কাজ চলায় টানা বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায় গাজীপুর চৌরাস্তা, বাইপাসসহ আশপাশের সড়ক। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ঈদে এই রুট ব্যবহাকারী যাত্রীদের ভোগান্তির মাত্রা বাড়াবে কয়েকগুণ। এ ছাড়া এলেঙ্গা, টাঙ্গাইল বাইপাস, মির্জাপুর ও কালিয়াপুর এলাকায় যানজটের আকার ইতোমধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে।

মহাখালী থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শাহ ফাতেহ আলী পরিবহন চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, গাজীপুরের বোর্ড বাজার থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক পর্যন্ত কয়েকশ মিটারের মধ্যে আছে চারটি ইন্টারসেকশন। সড়কের এমন অব্যবস্থাপনায় তীব্র হচ্ছে যানজট। আর কালিয়াপুর, এলেঙ্গা, টাঙ্গাইল বাইপাস ও মির্জাপুর এলাকায় প্রতিদিনই যানজট লেগেই থাকছে। এ ছাড়া মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে গাজীপুর পার হতেই কয়েক ঘণ্টা লাগছে। সব মিলিয়ে ঢাকা থেকে বগুড়া পৌঁছতে এখনই সময় লাগছে ৯-১০ ঘণ্টা। এখন যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে ২৭ রমজান থেকে কি অবস্থা হবে?

"