ঈদযাত্রা

২৫০০ টাকার বিমানভাড়া ১০ হাজার!

প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদে বাড়ি যেতে সড়ক, রেল ও নৌপথে পোহাতে হয় বিভিন্ন বিড়ম্বনা ও ভোগান্তি। আর তাই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঈদযাত্রায় আকাশপথকে বেছে নিচ্ছেন সচ্ছল যাত্রীরা। বাড়তি এই চাহিদার অজুহাতে এরই মধ্যে বিমান ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে দেশের বেসকারি বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো। এয়ারলাইনসগুলোর দাবি, ঈদযাত্রার সব টিকিট বুকড হয়ে গেছে। ট্যুর অপারেটরদের অভিযোগ, আসন ব্লক করে রাখায় যাত্রীদের বাড়তি দামে টিকিট কিনতে হচ্ছে। এদিকে, চাহিদা থাকায় ঈদে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বেশ কিছু রুটে অতিরিক্ত ফ্লাইট দিচ্ছে বিমান সংস্থাগুলো। ঈদযাত্রায় উড়োজাহাজের একটি দুই হাজার ৫০০ টাকার টিকিট এখন বিক্রি হচ্ছে ১০ হাজার টাকায়।

এই মুহূর্তে আকাশপথে তিন গুণ দামেও মিলছে না উড়োজাহাজের টিকিট। বাস-ট্রেনের মতো আকাশপথেও ঈদের টিকিট নিয়ে চলছে কাড়াকাড়ি। দুই হাজার ৫০০ টাকার টিকিট এখন ১০ হাজার টাকায়ও মিলছে না। অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী উড়োজাহাজ কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু রোজার ঈদ নয়, আগামী কোরবানির ঈদের টিকিটও বিক্রি প্রায় শেষ। ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার, রিজেন্ট এয়ার ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১০ জুন থেকে শতাধিক অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করবে। তারপরও চাপ সামলাতে পারছে না তারা।

ঈদের আগের তিন দিন ও পরের কয়েক দিনের আকাশপথের টিকিট নেই নিয়মিত ফ্লাইটের। অতিরিক্ত ফ্লাইটে দু-একটি টিকিট মিললেও দাম তিন গুণের বেশি। বেশি দামেই সোনার হরিণ আকাশপথের টিকিট কিনছেন মানুষ। চড়া দামের এ টিকিট নিয়েও চলছে রীতিমতো কাড়াকাড়ি। এরপরও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে যাত্রীদের। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সৈয়দপুর, যশোর, বরিশাল ও রাজশাহী রুটে নিয়মিত ফ্লাইটের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে দেশের অন্যতম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা, রিজেন্ট এয়ার, বিমান বাংলাদেশ ও নভোএয়ার।

চিকিৎসক ডা. খালিদ হোসেন সপরিবারে ঢাকায় থাকেন। তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহী। আপনজনের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপনে আগে যেতেন বাস অথবা ট্রেনে। এখন ছোট ছেলেমেয়েরা এই গরমে দীর্ঘ ভ্রমণ করতে পারবে না। তাই আকাশপথে যাত্রার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু উড়োজাহাজেরও টিকিট সংকট। অবশেষে একটি ট্রাভেল এজেন্সিকে তিন গুণ বেশি দাম দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করেছেন। আকাশপথে এ রকম পরিস্থিতি প্রায় সবার ক্ষেত্রে। বিমানে দাদুবাড়ি গিয়ে ঈদ করার বায়না ধরেছে সৌহার্দ। গত কয়েক দিন ট্রাভেল এজেন্সি ঘুরেও টিকিট পাচ্ছেন না ব্যবসায়ী জহির উদ্দিন।

বিমান টিকিট নিতে আসা একজন জানান, সাধারণত এই টিকিটের দাম দুই হাজার ৫০০ টাকা। ওই টিকেটগুলো বিক্রি হয়েছে আট হাজার ২০০ টাকায়। ইতোমধ্যে এ ভাড়ার টিকিট বিক্রিও শেষ। এ ছাড়াও যে ভাড়াটা অন্য সময়ে আট হাজার টাকা ছিল, সেটা এখন ১২ হাজার টাকা। এ জিনিসগুলো আমাদের জন্য সহনীয় নয়।

এদিকে, ট্যুর অপারেটরদের অভিযোগ, বাড়তি দামে টিকিট বিক্রির জন্য, এয়ারলাইনসগুলো ঈদের আগে ও ছুটির পরের কয়েক দিনের অধিকাংশ আসন ব্লক করে রাখায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। দি সিটি হলিডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুভাষ চন্দ্র দাশ বলেন, ঈদের সময় সব এয়ারলাইনস একই নিয়মে চলে। তারা ব্লক আউট ডেট দিয়ে রাখে। ঈদের আগের তিন দিন ঈদের পরের তিন দিন। এ জন্যই অতিরিক্ত দামে টিকিট কিনতে হচ্ছে। তবে এয়ারলাইনসের কর্মকর্তাদের দাবি, বাড়তি চাহিদা ও ফিরতি ফ্লাইটে আসন খালি থাকায় খরচ উঠাতে দাম বেশি রাখা হয়। তবে, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গে অতিরিক্ত ফ্লাইট দিচ্ছে বাংলাদেশ বিমানসহ অন্যান্য এয়ারলাইনস।

রিজেন্ট এয়ারওয়েজের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা বলেন, ঈদ করতে অনেক মানুষ বাড়ি যায়। কিন্তু ফিরতে ফ্লাইটে যাত্রী থাকে না। সেক্ষেত্রে ফ্লাইট ওয়ানওয়ে হয়ে যায়। এ কারণে দাম বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ সাতটি রুটে বর্তমানে চারটি এয়ারলাইনস গড়ে প্রতিদিন সাত হাজার যাত্রী পরিবহন করাতে সক্ষম। ঈদের সময় তা বেড়ে দাঁড়ায় দ্বিগুণ।

ইউএস-বাংলার জেনারেল ম্যানেজার কামরুল ইসলাম জানান, ঈদে ইউএস-বাংলার নিযমিত ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি প্রায় শেষ। যশোর, রাজশাহী, সৈয়দপুর ও বরিশাল রুটে প্রায় ৩৫টি অতিরিক্ত ফ্লাইট বাড়ানোর জন্য সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চেয়েছেন তারা। এর পরও যাত্রীদের প্রচন্ড চাপ রয়েছে।

নভোএয়ারের মার্কেটিং অ্যান্ড সেলসের সিনিয়র ম্যানেজার এ কে এম মাহফুজুল আলম জানান, আগামী ১২ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন নিয়মিত ফ্লাইটের পাশাপাশি সৈয়দপুর, যশোর ও রাজশাহী রুটে অতিরিক্ত দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে নিয়মিত ফ্লাইটের টিকিট প্রায় ৯০ শতাংশ বিক্রি হয়ে গেছে।

"