ডোপটেস্ট যুক্ত করে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশোধনী আসছে

প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদকবিরোধী অভিযানে সফলতা আসবে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (সুরক্ষা সেবা বিভাগ) ফরিদউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অভিযান সফল না হলে আমাদের উন্নত রাষ্ট্রের ভিশন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত তালিকার ভিত্তিতেই অভিযান করছি। তবে মাদকের ভয়াবহতা রোধ করতে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধন প্রয়োজন আছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলাপ করে আমরা একটি আইনের খসড়া দিয়েছি, শিগগিরই তা মন্ত্রিসভায় যাবে। সেই আইনে ডোপটেস্টকে যুক্ত করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে ঢাকায় আয়োজিত ‘মাদকবিরোধী অভিযান ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সচিব নাসিরউদ্দিন আহমদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ, জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সদস্য ডা. অরূপ রতন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট বাসেত মজুমদার, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী সিকদার (অব.), জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা, অভিনেতা পিযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, এফবিসিসিআই সাবেক সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে উল্লেখ করে সচিব ফরিদউদ্দিন আহমেদ বলেন, এখানে আলোচনায় উঠে এসেছে, সাপ্লাই বন্ধ করলে মাদক নির্মূল হবে। আসলে বিষয়টা সম্পূর্ণ ঠিক না। চাহিদা থাকলে সাপ্লাই আসবেই।

মাদকের বড় চালান পাশের দেশ মিয়ানমার থেকে আসছে বিভিন্ন সময়ের পরিসংখ্যান স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ফেনসিডিল বন্ধে ভারত সরকারের কাছ থেকে যেভাবে সহযোগিতা পেয়েছিলাম, মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা বন্ধে সেভাবে পাচ্ছি না। মিয়ানমার সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সে দেশে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।

সচিব বলেন, আমরা মিয়ানমার সরকারের কাছে সে দেশের মাদক কারখানা ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা দিয়েছি। তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বলা হয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সরাসরি এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। এ ছাড়া আমরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমানে ঢাকায় একমাত্র মাদক পরীক্ষাগার রয়েছে। এটাকে সব বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা করছি।

"