তীব্র খরতাপে তেতে উঠেছে রাজশাহী

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৮, ০০:০০

এস.এইচ.এম. তরিকুল, রাজশাহী

আগুনঝরা রোদে তেতে উঠেছে রাজশাহী। সূর্যের তাপে মহানগরবাসীর প্রাণ এখন ওষ্ঠাগত। বইছে গরম বাতাস। একটু শীতল পরশের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। যত দিন গড়াচ্ছে তাপমাত্রা ততই বাড়ছে। দিনভর সূর্যের তির্যক রশ্মি আর গরম হাওয়া, সন্ধ্যার পরও কমছে না গরম। সারা দিন অভুক্ত থাকার পর রোজাদার মানুষ ইফতারের পর খুঁজে পাচ্ছেন না একটু স্বস্তি। ইফতারের বেশির ভাগ সময় লোডশেডিং থাকায় অস্বস্তির মাত্রা বাড়ছে। মাঝে মধ্যে গভীর রাতে দু-চার ফোঁটা বৃষ্টির দেখা মিললেও দিনের বেলায় থাকছে ভ্যাপসা গরম। গরমে নাস্তানাবুদ রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ। প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে তাপমাত্রা। তবে চলতি সপ্তাহেই নিম্নচাপের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

গত বৃহস্পতিবার চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওইদিন সর্বনিম্ন ছিল ২৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল শুক্রবার ভোরে নগরীতে হালকা বৃষ্টিপাতের কারণে কিছুটা তাপমাত্রা কম ছিল। গতকাল তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ৩৩ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন ছিল ২৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সকালে বাতাসের আর্দ্রতা ৯৮ শতাংশ। তাপদাহের কারণে বেড়েছে লোডশেডিং। সাহরি, ইফতার ও তারাবির সময় বিদ্যুৎ না থাকায় রোজাদারদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। প্রকৃতির রুদ্রমূর্তিতে স্থবিরতা নেমে এসেছে জনজীবনে। জ্যৈষ্ঠের তাপদাহে খা খা করছে রাজশাহী নগরী। মানুষের পাশাপাশি কাহিল পশু-পাখিরাও। মাঠ-ঘাট, বাসা কিংবা অফিস-আদালত কোথাও নেই স্বস্তি। তাপদাহের ওপর অব্যাহত লোডশেডিংয়ে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নগরীতে আখের রস ছাড়াও ডাব, তরমুজ, বেলসহ রসালো ফলের চাহিদা বেড়েছে।

সূত্র মতে, ১৯৪৯ সাল থেকে বাংলাদেশে তাপমাত্রা রেকর্ড শুরু হয়। এরমধ্যে ১৯৭২ সালের ১৮ মে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। সম্প্রতি যেভাবে তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে, তাতে এ বছর সেই রেকর্ড ভাঙাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক নজরুল ইসলাম প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, মৌসুমী বায়ু ঢুকেছে বাংলাদেশে। যে কারণে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নিম্ন চাপের সম্ভাবনা রয়েছে। তখন তাপমাত্রা কমবে। তবে টানা কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাত না হলে এই তাপদাহ কমার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে, সূর্যের তাপে অনেকের শরীরের চামড়া পর্যন্ত পুড়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। একই সঙ্গে প্রকোপ বেড়েছে বিভিন্ন রোগবালাইয়ের। শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

"