কোটি টাকার জালনোট গ্রেফতার ১০

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদবাজারে পাঁচ কোটি টাকার জালনোট ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিল প্রতারক চক্রটি। তার আগেই চক্রের ১০ সদস্যকে রাজধানীর কদমতলী থেকে গ্রেফতার করে ফেলেন গোয়েন্দারা। তাদের কাছ থেকে কোটি টাকার জালনোট জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া প্রতারকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানা গেছে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) দেবদাস ভট্টাচার্য্য জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কদমতলীর বউবাজার এলাকার একটি বাড়ি থেকে জালনোট ছাপার সঙ্গে জড়িত চক্রের ১০ জনকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগ। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেনÑ রফিক, জাকির, হানিফ, রাজন শিকদার, খোকন, রিপন, মনির, সোহরাব, জসিম ও লাবণী।

তাদের কাছ থেকে এক কোটি টাকার জালনোট, জালনোট তৈরির সরঞ্জাম, নিরাপত্তা সুতা, প্রিন্টার, ল্যাপটপ, কাগজ ও কালি জব্দ করা হয়েছে। তাদের কদমতলী থানায় করা এক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। দেবদাস ভট্টাচার্য্য জানান, ঈদবাজারে পাঁচ কোটি টাকার জালনোট ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তারা এতে সফল হতে পারেনি। এ ধরনের আরো ৮-৯টি জালনোট তৈরির চক্র রয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, কয়েকটি গ্রুপ ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো জানান, যে পরিমাণ জালনোট তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে, তা দিয়ে আরো ৪-৫ কোটি টাকার জালনোট তৈরি করা সম্ভব। এসব টাকা পাইকারি বিক্রেতাদের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিত চক্রটি।

জালনোটের বাজারদর সম্পর্কে গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে দেবদাস ভট্টাচার্য্য জানান, এক লাখ টাকার জাল নোট তৈরিতে খরচ ১০ হাজার টাকা। পাইকারি বিক্রেতার কাছে এই এক লাখ টাকা বিক্রি করা হয় ১৪-১৫ হাজার টাকায়। পাইকারি বিক্রেতা এসব নোট খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করেন ২০-২৫ হাজার টাকায়। প্রথম খুচরা বিক্রেতা এক লাখ টাকা দ্বিতীয় খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করে ৪০-৫০ হাজার টাকায়। দ্বিতীয় খুচরা বিক্রেতা এক লাখ টাকার জাল নোট প্রায় সমপরিমাণ দামে মাঠপর্যায়ে বিক্রি করে থাকে।

এই জালনোট তৈরির প্রতারক চক্রটিকে আটকের অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবি উত্তরের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মহরম আলী জানান, এই চক্রের মূলহোতা রফিক। টাকার মধ্যে নিরাপত্তা সুতা বসানোসহ অন্যান্য সূক্ষ্ম কাজ করত জাকির। বাকিরাও জাল নোট তৈরির বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত থাকে। তারা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে জালনোট তৈরির কাজ করে আসছিল।

"