নতুন কমিটি নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ

লেজেগোবরে মহানগর উত্তর বিএনপি

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৮, ০০:০০

বদরুল আলম মজুমদার

বিএনপির মহানগর উত্তরের নতুন ঘোষিত কমিটিকে কেন্দ্র করে এখন লেজে-গোবরে অবস্থা বিরাজ করছে। মহানগর উত্তরের ২৫টি থানা ও ৫৮টি ওয়ার্ডের কমিটি মানা না মানা নিয়ে বিরোধ এখন তুঙ্গে। কমিটির পক্ষ-বিপক্ষ দুই গ্রুপই এখন মুখোমুখি অবস্থানে। যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা।

একদিকে অর্ধেকের বেশি নেতা নতুন ঘোষিত কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা এর বিহিত চেয়ে তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে। অন্যথায় তারা পাল্টা কমিটি গঠনসহ নতুন কমিটিকে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে নতুন নেতারা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাপোর্ট না পেয়ে অনেকটাই হতাশ। তাছাড়া নতুন নেতারা এখন নিজ নিজ থানায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন না পেয়ে বেহাল অবস্থায় পড়েছেন। নতুন নেতাদের প্রতি স্থানীয় নেতারা অনাস্থা জানানোর পাশাপাশি ভবিষ্যত আন্দোলন সংগ্রামে অংশ না নেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন। নতুন কমিটি গঠনের পর নেতারা প্রথম পরীক্ষায়ই অনুত্তীর্ণ হয়েছেন বলে মনে করছেন বিদ্রোহী নেতারা। তারা দাবি করেছেন, নতুন কমিটি জিয়ার মাজারে ফুল দিতে গিয়ে পর্যাপ্ত জমায়েত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। নতুন নেতারা দাবি করেছেন, তারা শিগগিরই ঘুরে দাঁড়াবেন। তবে এই ঘোষণার পর পরই তাদের ভাষানটেক থানার সুপার সেভেন কমিটির সভাপতিসহ পাঁচজন পদত্যাগ করেছেন। এর বাইরে পদত্যাগের অপেক্ষায় আছে আরো বেশ কয়েকটি থানার শতাধিক নেতা। নতুন নেতারা কমিটি ঘোষণার দুইদিন পর রিজভী আহমেদকে ফুল দিতে পল্টনে যান। একই দিন বিদ্রোহী গ্রুপের নেতারা রিজভী আহমেদের কাছে অভিযোগ ও আল্টিমেটাম জানাতে যান। তারা কমিটি নিয়ে স্বজনপ্রীতি, আর্থিক লেনদেন এবং পকেট ভারী করার বিষয়ে অভিযোগ দিয়ে তিন দিনের একটি আল্টিমেটামও দেন। এ সময় বিদ্রোহী নেতারা পল্টন অফিসে মহানগর নেতা ও কাইয়ুমের বিশ্বস্ত এ জি এম শামছুলকে হেনস্থা করেন। পরে দুই পক্ষের কথা শুনে রিজভী আহমেদ কমিটি পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কমিশনার শামীম পারভেজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তার হোসেন ও সোহেল রহমানসহ মহানগর উত্তরের অর্ধেকের বেশি নেতা ঘোষিত কমিটির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এদিকে বিভিন্ন থানার নতুন কমিটি গঠনে আর্থিন লেনদেন, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছচারিতা এখন নগর নেতাদের মুখে মুখে। জানা যায়, নগরের ৪৩নং ওয়ার্ডে এমন দুজনকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে; যারা ১৫ আগস্ট ঘটা করে শোক দিবস পালন করে। উত্তরা পশ্চিম এবং বিমানবন্দর থানায় সভাপতি করা হয়েছে ওই অঞ্চলে আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতারা নিকট আত্মীয়কে। বিমানবন্দর থানার সভাপতি জুলহাস মোল্লা জাপা থেকে সদ্য বিএনপিতে এসে সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, গত ৭-৮ বছর আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি অনেক অনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িয়েছেন। উত্তরা পশ্চিম থানার সভাপতিকে মানেন না একই থানার প্রভাবশালী সাধারণ সম্পাদকসহ উত্তরার প্রায় সব পর্যায়ের নেতারা। মোটা অর্থের বিনিময়ে কমিটিতে এসেছেন বলে অভিযোগ তারই সাধারণ সম্পাদকের। আর এই অর্থের লেনদেনের অভিযোগ নগর সভাপতি কাইয়ুমের বিশ্বস্ত শামছুলের বিরুদ্ধে। তার রাজনৈতিক কোনো ক্যারিয়ার না থাকার চিত্রও ফুটে উঠেছে সম্প্রতি জিয়ার মাজারে ফুল দিতে যাওয়ার ঘটনায়। গত পরশু ফুল দিতে যাওয়ার সময় তিনি মাত্র তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে যান। এ নিয়ে মহানগর নেতাদের ক্ষোভও প্রকাশ পায়। পূর্ব থানার নতুন সভাপতিসহ অধিকাংশ নেতা মানেন না একই থানার নিস্ক্রিয় নেতা ও সদ্য নিযুক্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দনকে। পূর্ব থানার সাধারণ সম্পাদক এবং দক্ষিণখান থানার সভাপতি সাহাবুদ্দিন ১/১১ এর পর থেকেই রাজনীতিতে নিস্ক্রিয়। তাদের দুজনেরই বিএনপি ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল উত্তরার নেতাদের মুখে। এদিকে ঘোষিত কমিটি নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভের কথা জানান মহানগর নেতারা। মহানগর উত্তরের তিনজন সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে কথা জানা যায়, যে ধরনের লোকদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে তা খুবই অবমাননাকর। তাছাড়া সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক কারো সঙ্গে কোনো কথা না বলেই এককভাবে মনমতো কমিটি করেছেন।

ঢাকা-১২ আসনে (তেজগাঁও, শিল্পাঞ্চল, শেরেবাংলানগর ও রমনা) বিগত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ সাহাবউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, এই কমিটি কোথা থেকে, কীভাবে হয়েছেÑ তা তিনি বলতে পারছেন না।

রূপনগর থানা বিএনপির সভাপতি হিসেবে আবদুল আউয়াল এর আগে বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতা বা কর্মী ছিলেন না। বিগত দিনের আন্দোলন কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার কোনো অংশগ্রহণ না থাকলেও শুধু ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসানের অনুগত হিসেবে তাকে এই পদ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মজিবুল হক মোটা অঙ্কের লেনদেনের কারণে এই পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বলে এলাকার নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন।

"