বদলে গেছে নগরজীবনের চিত্র

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৮, ০০:০০

পাঠান সোহাগ

আজ প্রথম রোজা। এরই মধ্যে পাল্টে গেছে নগরীর স্বাভাবিক চিত্র। ফুটপাতের বাজার থেকে শপিং মলে নতুন চিত্র। চোখে পড়বে নতুন সাজসজ্জা। বদলে যাবে দিন ও রাতের চেনা দৃশ্য। প্রতিদিনের অভ্যাসও বদলে যাবে। কিছু নতুন কাজ যোগ হবে। বাদও যাবে কিছু। ঘুম থেকে শুরু করে খাবারেও আসবে পরিবর্তন। কর্মচঞ্চল শহর ও ব্যস্ত রাস্তাঘাট

সন্ধ্যার পর থেকেই নীরব হয়ে আসবে। শহরের মোড়ে মোড়ে ও রাস্তার দুই পাশের চায়ের টংদোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁর সামনে ঝুলবে পর্দা। বিকেল হতেই সেই শহর ম ম করবে ইফতারের ঘ্রাণে। স্থায়ী হোটেল-রেস্তোরাঁর পাশাপাশি অস্থায়ী দোকান বসবে শহরজুড়ে। বিক্রি হবে মুখরোচক নানা ইফতারসামগ্রী। দুপুরের পর থেকেই শুরু হবে বিক্রিবাট্টা। চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

ইফতার তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করবেন গৃহিণীরাও। পাড়া-প্রতিবেশীরা নিজেদের মধ্যে ইফতার দেওয়া-নেওয়া করবে। দুপুরের পর থেকে সব কাজকর্ম শেষ করে পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে বাসার দিকে সবাই ছুটবে। আবার কেউ রাস্তার পাশে কোনো রকম সেরে নেবেন ইফতার। এ নানারকম দৃশ্য দেখা যাবে পবিত্র রমজান মাসে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারাও প্রস্তুত এ পরিবর্ততের সঙ্গে। বাঙালি মুসলমান সময়ের সঙ্গে তালমিলিয়ে চললে কোনো সময় পিছিয়ে নেই। সব কিছু মানিয়ে নিতে পারে। রাজধানীল বিভিন্ন জায়গায় স্থায়ী হোটেল-রেস্তোরাঁর পাশাপাশি অস্থায়ী দোকানে ইফতারি বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা সামিয়ানা টানিয়ে নানা মুখরোচক ইফতার বিক্রির মনোরম পরিবেশ তৈরি করছেন। রূপনগরের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট আবদুস সামাদ বলেন, ‘প্রতি বছরই রোজা রাখি, এবারও রাখব। প্রথম কয়েক দিন আগের অভ্যাস পরিবর্তন করতে কষ্ট হবে। তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে। দেখতে দেখতে চলে যাবে একটি মাস।’ শ্যামলীর চা দোকানি রবিন বলেন, ছোট ব্যবসা করি। এ দোকানের ওপর নির্ভর করে পাঁচজনের থাকা-খাবার চালাতে হয়। প্রথম রোজা থেকে মানুষ কম আসবে দোকানে। বেচা-কেনাও কম হবে। দোকান বন্ধ রাখব না। তবে চারপাশে লাল কাপড় টানিয়ে দেব। ভেতরে দোকান চালু থাকবে।’

অবশ্য দিন যত গড়াবে রোজার দৃশ্যপটে বদল আসবে আরো। মধ্য রমজানে রোজার সঙ্গে যোগ হবে ঈদের আনন্দ। তখন কেনাকাটায় দেখা যাবে ভিন্ন ব্যস্ততা ও আমেজ। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপ্রতি মো. আবদুল হামিদ পৃথক বাণী দিয়েছেন। পবিত্র রমজানের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যাবতীয় ভোগবিলাস, হিংসা-বিদ্বেষ, উচ্ছৃঙ্খলতা ও সংঘাত পরিহার করে ব্যক্তিগত ও সমাজজীবনে শান্তি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘রমজান আত্মসংযম, অনুকম্পা ও ক্ষমা লাভের মাস। এ মাসে ত্যাগ স্বীকারের শিক্ষার মাধ্যমে আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটে ও সর্বশক্তি মান আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ হয়।’

"