মানহানির দুই মামলা

খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারে পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৮, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

ভুয়া জন্মদিন পালন ও মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ করার অভিযোগে মানহানির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারে পরোয়ানা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ভুয়া জন্মদিন পালন মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশীদ আলম ও মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ করার মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীব এ আদেশ দেন। আদালত আগামী ৫ জুলাই পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

এ দিন খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতকে বলেন, দুই মামলায় খালেদার জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। খালেদা চার মাস ধরে কারাগারে আটক রয়েছেন। পুলিশ চার মাসেও তার গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করতে পারেনি, তা তাদের ব্যর্থতা। সবকিছু বিবেচনায় খালেদার জামিন চাই।

অপরদিকে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু বলেন, দুই মামলায়ই খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। গ্রেফতারি পরোয়ানাটি এখনো কার্যকর করা হয়নি। আগে পরোয়ানা কার্যকর করা হোক, তারপর জামিন শুনানি।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত খালেদার গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার জন্য নির্দেশ দেন এবং জামিনের আবেদন নথিভুক্ত করেন।

এর আগে ২৫ এপ্রিল খালেদার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও জিয়া উদ্দিন জিয়া তার জামিনের আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য ১৭ মে দিন ধার্য করেন। অন্যদিকে খালেদাকে হাজির করানোর জন্য আবেদন করেন আইনজীবীরা। আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য একই দিন ধার্য করেন।

মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ করার অভিযোগে দায়ের মামলায় বলা হয়, ‘২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচিত হয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি রাজাকার-আলবদর নেতাকর্মীদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়ে তাদের বাড়ি ও গাড়িতে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকা তুলে দেন।’

২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী। আদালত ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। পরে ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা মহানগর হাকিম নুরনবী।

অন্যদিকে ভুয়া জন্মদিন পালনের মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একাধিক জন্মদিন নিয়ে ১৯৯৭ সালে দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর ম্যাট্রিক পরীক্ষার মার্কশিট অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একটি দৈনিকে তার জীবনী নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জন্মদিন ১৯৪৫ সালের ১৯ আগস্ট। তার বিয়ের কাবিননামায় জন্মদিন ১৯৪৪ সালের ৪ আগস্ট। সর্বশেষ ২০০১ সালে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট অনুযায়ী তার জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট।

বিভিন্ন মাধ্যমে তার পাঁচটি জন্মদিন পাওয়া গেলেও কোথাও ১৫ আগস্ট জন্মদিন পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় তিনি পাঁচটি জন্মদিনের একটিও পালন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর দিন জাতীয় শোক দিবসে আনন্দ-উৎসব করে জন্মদিন পালন করে আসছেন। শুধু বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্নের জন্য তিনি জন্মদিন পালন করেন।

"