পণ্যবাহী গাড়ির চাপেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট, দুর্ভোগ

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৮, ০০:০০

কুমিল্লা প্রতিনিধি

গত পাঁচ দিন ধরে যানজটে স্থবির হয়ে আছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ও ঢাকার শনির আখড়া থেকে দাউদকান্দির গোমতী সেতুর কাছাকাছি প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট দেখা গেছে। এমনিতেই এই মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেশি। তার ওপর পণ্যবাহী গাড়ির চাপে যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত রোববার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া মহাসড়কের এ অংশের যানজটের পঞ্চম দিন অতিবাহিত হলো বৃহস্পতিবার। তবে ঢাকামুখী কুমিল্লার দাউদকান্দি অংশে যানজট কমে এসেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মহাসড়কের দাউদকান্দির বলদাখাল থেকে সেতু পর্যন্ত ঢাকামুখে ২-৩ কিলোমিটার যানজট ছিল। পুলিশ সার্জেন্ট মো. আবু নোমান জানান, ঢাকামুখী দাউদকান্দির

অংশে গাড়ির চাপ কমলেও চট্টগ্রামমুখী বিপরীত অংশে মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া যানজট এখনো লেগেই আছে।

তিনি জানান, জেলা ও হাইওয়ে পুলিশ রাত-দিন যানজট নিরসনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। রমজানকে সামনে রেখে পণ্য পরিবহন অস্বাভাবিক বেড়েছে। পণ্যবাহী যানগুলো সাধারণত ধীরগতিতে চলাচল করে।

সার্জেন্ট আবু নোমান বলেন, কাঁচপুর সেতু চার লেন হলেও মেঘনা ও গোমতী সেতু দুই লেনের। আর মহাসড়ক চার লেনের। চার লেনে চলাচলকারী গাড়িগুলো মেঘনা ও গোমতী সেতুর কাছে এসে ভিড় জমায়। এ থেকেই মূলত যানজট বাড়ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সামিয়া রহমান জানান, তিনি বুধবার দাউদকান্দির যানজটে আটকে কুমিল্লা ফিরে এসেছিলেন। বৃহস্পতিবার আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে মেঘনা গিয়ে পৌঁছাতেই ৭ ঘণ্টা লাগে। ঢাকার একটি পত্রিকা অফিসে কর্মরত কামরুল ইসলাম সুমন জানান, ভোর সাড়ে ৪টায় কুমিল্লার মুদাফফরগঞ্জ থেকে রওনা দিয়ে ঢাকায় পৌঁছতে তার ১৬ ঘণ্টা লেগেছে বলে জানান তিনি।

দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ বাড়ায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী যানজট স্বাভাবিক হতে আরও এক-দুই দিন সময় লাগতে পারে।

এদিকে দাউদকান্দিতে পণ্যবাহী যানবাহনের ওজন মাপতে প্রতিটির জন্য ১০-১৫ মিনিট সময় লাগে। বৃহস্পতিবার দাউদকান্দি অংশের যানজট মূলত সে কারণেই লেগেছে। গত বৃহস্পতিবার থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী ফতেহপুর ওভারপাস এলাকায় যানজট তীব্র হয়। রোববার ওই যানজট কমতে শুরু করে। আর ওই দিন গভীর রাত থেকেই কুমিল্লার দাউদকান্দি অংশে যানজট তীব্র হতে শুরু করে।

"