দশম সংসদে ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটেনি : টিআইবি

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) মনে করে দশম জাতীয় সংসদ বর্জন ও ওয়াকআউটের সংস্কৃতি অতীত থেকে বেরিয়ে এসেছে। ‘পার্লামেন্টওয়াচ’নামে সংসদ বিষয়ে চতুর্দশ থেকে অষ্টাদশ অধিবেশনের ওপর তাদের এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, নবম জাতীয় সংসদের তুলনায় দশম জাতীয় সংসদে সদস্যদের গড় উপস্থিতিও বেশি ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির নিজস্ব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন রিসার্চ ও পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোরশেদা আক্তার, নিহার রঞ্জন ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার অমিত সরকার। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী নবম সংসদে সদস্যদের উপস্থিতি ছিল ৭৭ শতাংশ, যা বর্তমান দশম সংসদে ৮৮ শতাংশ। নবম সংসদে বিরোধী দল বা জোট ওয়াকআউট করেছে ১৪ বার এবং সংসদ বর্জন করেছে ৮৩ শতাংশ কার্যদিবস। অথচ দশম জাতীয় সংসদে সংসদ বর্জন ও ওয়াকআউটের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী দশম জাতীয় সংসদের প্রথম থেকে অষ্টাদশ অধিবেশন পর্যন্ত প্রতি কার্যদিবসে সদস্যদের গড় উপস্থিতি ছিল ৭২ শতাংশ, সংসদ নেতার উপস্থিতি ৮৩, বিরোধীদলীয় নেতার উপস্থিতি ৬১, নারী সদস্যদের উপস্থিতি ৬৯ শতাংশ, প্রতিটি বিল পাসের গড় সময় লেগেছে ৩১ মিনিট। প্রতিবেদনে সংসদকে অধিকতর কার্যকর করার জন্য দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক এ প্রতিষ্ঠান ১৪টি সুপারিশও উপস্থাপন করেছে।

টিআইবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দশম জাতীয় সংসদে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সংসদের ১৪তম থেকে ১৮তম অধিবেশন পর্যন্ত মোট কার্যদিবস ছিল ৭৬টি। এ সময়ে ২৬০ ঘণ্টা ৮ মিনিট সংসদ চলেছে। প্রতিদিন গড়ে ৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিট সংসদ চলেছে। এসব অধিবেশনে গড় উপস্থিতি ছিলেন ৩০৯ জন সদস্য। এ সময়ে ২৪টি সরকারি বিল পাস হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায়। এ কাজে ৬৬ শতাংশ সময় ব্যয় হয়েছে। এ সময় সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের সংসদে দেওয়া বক্তব্যে আর্থিক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির উল্লেখ করাসহ বাজেটে প্রস্তাবিত বিষয়ের ওপর গঠনমূলক আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে টিআইবি।

"