আসছে আশাজাগানিয়া বাজেট

৫০ হাজার পরিবারকে ঘর করে দেবে সরকার

৫ হাজার ভূমিহীন পরিবারের জন্য ব্যারাক হাউস নির্মাণের প্রস্তাব * প্রতিটি পরিবারকে দেওয়া হবে ৩০ লাখ টাকা করে ঋণ

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৮, ০০:০০

শাহ্জাহান সাজু

আসছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য আশা জাগানিয়া বাজেটই দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আসন্ন বাজেটে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় রেখে অনগ্রসর পল্লীবাসীর জীবনমান উন্নয়নে পল্লী অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ এখনো গ্রামে বসবাস করেন। তাই ভোটার তুষ্টির আগামী বাজেটে এই গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রণয়ণ শাখা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরের বাজেটে ‘যার জমি আছে ঘর নেই’, উপ-খাত প্রকল্পের আওতায় এমন ৫০ হাজার পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণ করে দেবে সরকার। এর পাশাপাশি পাঁচ হাজার গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবারকে ব্যারাক হাউস নির্মাণের মাধ্যমে পুনর্বাসন করা হবে। এ ছাড়া পাঁচ হাজার পরিবারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রত্যেক পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা করে ঋণ প্রদান করা হবে। অন্যদিকে, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, আত্মকর্মসংস্থান ও বাজার সংযোগ সৃষ্টি, জীবনমান উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ইত্যাদি কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৫ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে এক হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় এসব কাজ করা হবে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দিয়ে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় অন্তর্ভুক্তি এবং অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরের কর্ম-পরিকল্পনায় রয়েছে, নিজ জমিতে ৫০ হাজার পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এছাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর মধ্যমেয়াদি সংস্কার কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে চিঠি বলা হয়েছে, ২০২১ সালের মধ্যে আড়াই লাখ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রকল্প মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে।

সূত্র জানায়, আসছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, আত্মকর্মসংস্থান ও বাজার সংযোগ সৃষ্টি, জীবনমান উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৫ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে এক হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী বাজেটে এ খাতে তিন গুণের বেশি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। তাছাড়া বৃহত্তম ফরিদপুরের চরাঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় গবাদি পশুর জাত উন্নয়ন ও দুধের বহুমুখী ব্যবহারের জন্য ৩৪৪ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে পরিচালনা ব্যয়। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ৬২৪ কোটি টাকা। সব মিলে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে ৫ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। তবে অর্থ বিভাগ আগামী বাজেটে এ খাতে প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ দিয়েছে ২ হাজার ৭৪ কোটি টাকা। বাড়তি ৩ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা চাওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করে যৌক্তিকতা যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিবেচনায় নিয়ে গ্রামীণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে বিশেষ দৃষ্ট্রি রাখছে সরকার। এর আলোকেই চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বর্তমানে লাখ লাখ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া পণ্যের বাজার সংযোগ সৃষ্টি, দুগ্ধ উৎপাদন ও বহুমুখী সমবায় কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামবাংলা মানুষের অবস্থা উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।

জানা যায়, আগামী ৭ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর প্রায় ছয় মাস পর অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সে জন্যই গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে আস্থায় নিতে আসছে বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে গ্রামীণ জনজীবন উন্নয়নে।

"