স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আবেগাপ্লুত শেখ হাসিনা

চলার পথ দেখিয়েছে মানুষের ভালোবাসা

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩৭ বছর আগের ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ দিনে স্বদেশে ফিরে আসার স্মৃতি রোমন্থন করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সেদিন প্রচ- ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে আমাকে বরণ করে নেওয়ার জন্য মানুষের যে ঢল আমি দেখেছি, মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি তা আমাকে এখনো আপ্লুত করে। মা-বাবা, ভাই, পরিজনদের হারিয়ে বাংলার মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সেই ভালোবাসাই আমাকে চলার পথ দেখিয়েছে, প্রেরণা জুগিয়েছে। তাদের আশ্রয়েই আমার

রাজনৈতিক জীবনের শুরু। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনের নেতারা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে এলে তিনি এ কথা বলেন।

এদিকে একইদিন জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) আয়োজিত প্রতিনিধি সম্মেলন উদ্বোধন করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সরকারের অর্জনগুলো জনগণের মাঝে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে নেগেটিভ কথাবার্তা বেশি প্রচার করা হয়। কারো কাছে দয়া দাক্ষিণ্য চাই না। দেশের জন্য যদি ভালো কিছু করে থাকি সেটুকু ভালোভাবে পত্রপত্রিকায় বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার করা হলে কৃতার্থ থাকি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মেলন উদ্বোধন করতে প্রেস ক্লাবে এসেছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘গণতন্ত্রের একটা নীতিমালা আছে। সাংবাদিকতারও একটা নীতিমালা আছে।’ এ দুইটি মনে রাখলে আমরা অনেক সমস্যা সমাধান করতে পারব।

বিএফইউজে সভাপতি ও একুশে টিভির সিইও মনজুরুল আহসান বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব ওমর ফারুক।

গণভবনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে ক্ষমতা ক্যান্টনমেন্টে চলে গেছে তা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং দেশের গণতন্ত্রায়ন ও নিরন্ন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তার রাজনীতির লক্ষ্য।

প্রথমে দলের সিনিয়র নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিম-লীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ও ডা. দীপু মনিসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে একে একে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এবং মহিলা শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রীকে।

১৯৭৫ এর বিয়োগান্তক অধ্যায়ের পর শেখ হাসিনা প্রবাসে দীর্ঘদিন কাটাতে বাধ্য হওয়ার পর দল তাকে সভাপতি নির্বাচন করলে ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

"