কোটা সংস্কার

আন্দোলনকারীদের হত্যার হুমকির অভিযোগ জাবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশ : ১৭ মে ২০১৮, ০০:০০

ঢাবি প্রতিনিধি

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার চেয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হত্যার হুমকির অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক। তিনি বলেছেন, ‘মঙ্গলবার রাতে ছাত্রলীগ নেতারা আমাদের হত্যার হুমকি দেন। আমরা এ বিষয়ে শাহবাগ থানায় জিডি করতে গেলে, পুলিশ তা নেয়নি। আধঘণ্টা বসিয়ে রেখে তারা বলেছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া জিডি নিতে পারব না।’ গতকাল বুধবার বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে নুরুল হক এ কথা বলেন। এদিকে কোটা আন্দোলনের দুই নেতাকে ‘হত্যার’ হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

নুরুল হক বলেন, ‘প্রথমত আমি রাষ্ট্রের একজন নাগরিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। আমাদের জিডি না নিয়ে পুলিশ দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে। গণতান্ত্রিক দেশে আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।’ হুমকি বা হয়রানিতে আন্দোলন থামবে না জানিয়ে সংগঠনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হলেই কেবল আমরা আন্দোলন থেকে সরে আসব।’

আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, ‘নিরাপত্তা না দিয়ে পুলিশ যে আচরণ দেখিয়েছে, তা আমরা ভালোভাবে নিইনি। আমাদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশের কর্তব্য।’ কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন থাকবে বলে জানান তিনি। হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে রাশেদ খান বলেন, ‘মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ইমতিয়াজ বুলবুল বাপ্পী, হাজি মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী ও চারুকলা অনুষদের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম ইসলাম লিমন তাকে ও নুরুল হককে হত্যার হুমকি দেন।’

জাবিতে বিক্ষোভ : জাবি প্রতিনিধি জানান, কোটা আন্দোলনের দুই নেতাকে ‘হত্যার’ হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জাবি ইউনিট বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘হুমকি দিয়ে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না’ এ ধরনের সেøাগানে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে সংগঠনটির আহ্বায়ক শাকিল-উজ্জামান বলেন, ‘ছাত্রলীগের কোটাধারী কিছু দুষ্কৃতকারীর কারণে পুরো ছাত্রলীগ বিতর্কিত হচ্ছে। আপনারা এগুলো নিজরাই দমন করেন। তা না হলে বাংলার ছাত্র সমাজ তাদেরকে দমন করতে বাধ্য হবে। আন্দোলনরত কোনো ভাইকে যদি হামলা-হয়রানি করা হয়, তাহলে বাংলার ছাত্র সমাজ তা প্রতিহত করবে।’ মুখপাত্র আরমানুল ইসলাম খান প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছাত্র সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান। মিছিলে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

"