খুলনায় ২৮ কেন্দ্রে অবৈধভাবে ব্যালটে সিল : ইডব্লিউজি

প্রকাশ : ১৭ মে ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৮টি ভোটকেন্দ্রে অবৈধভাবে ব্যালটে সিল মারা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি)। তবে এসব ‘বিচ্ছিন্ন’ ঘটনার ব্যাপকতা বেশি না হওয়াতে ভোটের ফলাফল পরিবর্তনে কোনো প্রভাব ফেলেনি বলে দাবি করেছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক এ সংস্থাটি। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইডব্লিউজির পক্ষ থেকে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংস্থাটির পরিচালক আবদুল আলীম বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংসতা এবং নির্বাচনী অনিয়মের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও বেশ কিছু কেন্দ্রে নির্বাচনী ফলাফল পরিবর্তনের জন্য সহিংসতা ও নির্বাচনী অনিয়ম করার প্রচেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু বিচ্ছিন্ন ওইসব ঘটনার ব্যাপকতা বেশি না হওয়াতে তা ভোটের ফলাফল পরিবর্তনের কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

নির্বাচনের ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ইডব্লিউজি ১৪৫টি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষক দল ৩২ শতাংশ কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা দেখতে পেয়েছে। এর মধ্যে অবৈধভাবে ব্যালট পেপারে সিল মারা, ভোট কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে সংগঠিত সামান্য সহিংসতা, ভোটকেন্দ্রে অনুমোদিত মানুষের উপস্থিত এবং ভোটারকে ভোট দেওয়ায় বাধার মতো ঘটনা ঘটেছে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে ১৬টি সহিংসতা ও ২৮টি কেন্দ্রে অবৈধভাবে ব্যালটে সিল মারা হয়। এছাড়া ভোটারদের ভোট দেওয়ায় বাধার ঘটনা ১৮টি; ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে প্রার্থীদের সুবিধা দেওয়ার যানবাহনের ব্যবস্থার ১৭টি ঘটনা; অনিয়মে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার; ১০টি ভোটকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা এবং পরে সাতটিতে ভোট গ্রহণ; পর্যবেক্ষকদের কেন্দ্রে প্রবেশে না দেওয়ার চারটি ঘটনা; ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণার ১০টি ঘটনা এবং বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থানের চারটি ঘটনা ঘটেছে বলে জানান ইডব্লিউজির পরিচালক মো. আব্দুল আলীম। তবে এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্ধারিত সময়ে ভোট গণনা শুরু, ভোট গণনার সময় পোলিং এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ নিশ্চিত করা, গণনার আগে সব ব্যালট বাক্সে নিরাপত্তা সিল লাগানো ছিল বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ভোট গ্রহণের সময় সব ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা গেছে। ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর পোলিং এজেন্টে এবং ৮৮ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে বিএনপি মেয়র প্রার্থীর এজেন্টদের দেখা যায়।

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা কেমন ছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল আলীম বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ২১ জনের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত ছিল। তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। তবে যেসব ঘটনায় প্রার্থীদের পক্ষ অবলম্বন করেছে, সেগুলোর মাত্রা ছিল ছোট।

নির্বাচন একেবারে শান্তিপূর্ণ বা একেবারে বিশৃঙ্খল বলার সুযোগ নেই। সংবাদ সম্মেলনে ইডব্লিউজির আরেক পরিচালক ও জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদ- জানিপপের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, নির্বাচনে অনিয়মের বেশ কিছু ঘটনা আমরা হাজির করেছি, এসব ঘটনা তুলে ধরার অর্থ হচ্ছে ভবিষ্যতে নির্বাচনে যাতে এ ধরনের কোনো ছোট বা বড় কোনো অনিয়মের ঘটনা না ঘটে, সেই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ ঠিক রাখতে বা অনিয়ম ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, তাতে মনে হয়েছে তাদের শপথ তারা ভঙ্গ করেনি। সেসব কেন্দ্রে জাল ভোট হয়েছে সেগুলো তারা আমলে নিয়েছে এবং কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে। সংবাদ সম্মেলনে ইডব্লিউজির অংশীদার সংগঠন বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদের কো-অর্ডিনেটর আ হ ম ফয়সাল, আরেকটি অংশীদার সংগঠনের প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান জমাদার উপস্থিত ছিলেন।

"