বিশ্বকাপের কালো ঘোড়া বেলজিয়াম

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৬ মে ২০১৮, ০০:৫৭

উপল বড়ুয়া

রেড ডেভিল নাম উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চোখের সামনে চলে আসে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তবে ক্লাব ফুটবলের বাইরে একটি দেশ ‘রেড ডেভিল’ নামে খ্যাত। আর তা হলোÑ ইউরোপ ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি বেলজিয়াম। উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের দেশটি এরই মধ্যে পরিচিত পেয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে নগরায়িত ও ঘনবসতিপূর্ণ হিসেবে।

বেলজিয়াম স্বাধীনতা লাভ করে ১৮৩০ সালে, নেদারল্যান্ডস থেকে পৃথক হয়ে। সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের দেশটি পরবর্তীতে বিশ্বে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে। পাশের দেশ ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফুটবলটা শুরু করে বেলজিয়াম।

পরে দেশটি ফুটবলকে উন্নতির লক্ষ্যে গঠন করে ‘রয়াল বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।’ যেটি ১৯০৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেলজিয়াম জাতীয় ফুটবল দলকে প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। 
বেলজিয়ামের জাতীয় দলটি প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্ট অংশগ্রহণ করে ০১ মে ১৯০৪ সালে, ইভান্স কপি ট্রফি প্রতিযোগিতায়। প্রথম ম্যাচেই তারা ৩-৩ গোলে ড্র করে ফ্রান্সের বিপক্ষে। পরবর্তীতে বেলজিয়ামকে সঙ্গে নিয়েই ফিফা গঠন করে ফ্রান্স। ফিফার সাত জনকের মধ্যে বেলজিয়াম একটি।
দেশটি তাদের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছে জাম্বিয়া, সান মারিনো ও জিব্রাল্টারের বিপক্ষে। তিন দলকেই তারা হারিয়েছে ৯ গোলের ব্যবধানে। বড় হারটা তারা পেয়েছে ইংল্যান্ড থেকে। ১৯০৯ সালে লন্ডনের ম্যাচটিতে ২-১১ হেরেছিল বেলজিয়াম।
বেলজিয়াম প্রথম বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে ১৯৩০ সালে। ফিফার আমন্ত্রণে খেলতে এসেছিল দেশটি। আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপ দিয়ে তারা ১৪তম বিশ্বমঞ্চে নামবে। প্রথম বিশ্বকাপের স্মৃতিটা তাদের মোটেও ভালো ছিল না। প্রথম রাউন্ড থেকেই ঘরে ফিরতে হয়েছিল তাদের। পরবর্তী দুই বিশ্বকাপেও একই ফল বরণ করতে হয়েছিল রেড ডেভিলদের। ১৯৫০ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও শেষ মুহূর্তে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল তারা।
১৯৫৪ বিশ্বকাপে খেলতে এসে তাদের আরেকবার স্বপ্ন শেষ হয় প্রথম রাউন্ডে। এরপর ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬ টানা তিন বিশ্বকাপে বাছাইপর্ব উতরাতে না পারায় বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি বেলজিয়াম। ১৯৭০ বিশ্বকাপে ফিরলেও তাদের সঙ্গী হয় প্রথম রাউন্ড থেকে ছিটকে যাওয়ার মনোবেদনা। ১৯৭৮ বিশ্বকাপে তাদের আরেকবার কপাল পুড়ে বাছাইপর্বে। এরপর যেন সগর্বে ফিরে আসে দেশটি। ১৯৮২ বিশ্বকাপে ফিরেই গ্রুপ পর্বের বাধা পার হয়ে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোতে খেলে তারা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপ তাদের অতীত যন্ত্রণা ভুলিয়ে দেয়। এবার তারা সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলে দৌড় শেষ করে চতুর্থ হয়ে। 
ছিয়াশির পারফরম্যান্সটা তারা টেনে আনতে পারেনি পরের দুই বিশ্বকাপে। ১৯৯০ ও ১৯৯৪ বিশ্বকাপে তাদের অভিযান শেষ হয় দ্বিতীয় রাউন্ডেই। ১৯৯৮ সালে তাদের আরেকবার সঙ্গী হয় গ্রুপ পর্বের ফাঁড়া। ২০০২ বিশ্বকাপে আরেকবার শেষ ষোলো খেলা দলটি পরের দুই বিশ্বকাপ দেখে দর্শক হয়ে। ২০১৪ বিশ্বকাপে এসে দ্বিতীয়বারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে বেলজিয়াম। 
এবারের ২১তম রাশিয়া বিশ্বকাপে বেলজিয়াম খেলবে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে। ইউরোপা মহাদেশে খেলা বিধায় ফেবারিটের তকমাটা তাদের গায়ে সেঁটে দিয়েছে। তার কারণ হচ্ছে, বর্তমানে তাদের উন্নতির গ্রাফটা। বর্তমান ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে দেশটি আছে ৩ নাম্বার স্থানে। গত দুই বছর আগে এক নাম্বার স্থানটিও দখল করে নিয়েছিল তারা। তবে মুদ্রার অপর পিঠটাও তারা দেখেছে। ২০০৭ সালে দেশটি নেমে চলে গিয়েছিল ৭১ নাম্বারে। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে আসন্ন বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদারও তারা। 
বিশ্বকাপের শিরোপা অধরা থাকলেও এবারের কালো ঘোড়ারা ইউরোপ সেরার মুকুটা ঠিকই মাথায় তুলেছিল একবার। পাঁচবার ইউরো খেলা দেশটি ১৯৭২ সালে শিরোপা জিতেছিল। এছাড়া ১৯৮০ সালে হয়েছিল রানার্সআপ। 
ফেবারিট বেলজিয়াম রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলবে কোচ রবার্তো মার্টিনেজের অধীনে। আর্মব্যান্ড থাকবে চেলসি মিডফিল্ডার এডেন হ্যাজার্ডের হাতে। দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৯৯ ম্যাচ খেলেছেন ইয়ান ভের্তোনগেন। জাতীয় দলের জার্সিতে গোলদাতাদের মধ্যে শীর্ষে আছেন বর্তমান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরওয়ার্ড রোমেলু লুকাকো। 
আসন্ন বিশ্বকাপে কালো ঘোড়াদের সব খেলোয়াড়ই খেলে ইউরোপের নামকরা ক্লাবগুলোতে। তারকাবহুল দলটির মধ্যে যে কেউ এনে দিতে পারেন সাফল্য। হ্যাজার্ড, লুকাকো, কেভিন ডি ব্রুইন, রাদজা নেইনগোলান, মারউয়েন ফেলাইনি, ভিনসেন্ট কোম্পানি, মোসা ডেম্বেলে, অ্যাক্সেল উইটসেল, ড্রাইয়েস মারটেন্স, গোলরক্ষক কৌর্তুজরা এরই মধ্যে ক্লাবে খেলে আলো ছড়িয়েছেন। 
আসন্ন বিশ্বকাপে বেলজিয়াম ‘জি’ গ্রুপে পেয়েছে পানামা, তিউনিশিয়া ও ইংল্যান্ডকে। ১৮ জুন শোচিতে পানামার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে মার্টিনেজের শিষ্যরা।
    সুত্র: উইকিপিডিয়া, ফিফা ডটকম