দুদকের গণশুনানি

সরকারি অফিস হয়রানির মেকানিজমে পরিণত হয়েছে

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর কমিশনার নাসির উদ্দীন আহমেদ বলেছেন, সরকারি অফিসগুলো জনগণকে হয়রানি করার মেকানিজমে পরিণত হয়েছে, এটি দুঃখজনক। দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্তÑ গণশুনানিতে বারবার বিষয়টি উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুর্নীতি প্রতিরোধবিষয়ক ফলোআপ গণশুনানির প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাসির উদ্দীন এসব কথা বলেন। রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে এই গণশুনানির আয়োজন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ভূমিবিষয়ক গণশুনানির ফলোআপ হিসেবে আজকের গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে অংশ নেন ঢাকার কোতোয়ালি, গুলশান ও তেজগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনাররা (ভূমি)।

শুরুতে দুদকের গণশুনানির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন দুদক কমিশনার নাসির উদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, সংবিধানে জনগণকে সব ক্ষমতার উৎস বলা হলেও জনগণ এখন গৌণ হয়ে গেছে। জনগণের করের টাকায় বেতন পেয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করবেন, এটা মেনে নেওয়া যায় না। শুনানিতে এসে সরকারি কর্মকর্তার সুন্দর সুন্দর কথা বলে গেলে হবে না, জনগণ দুর্নীতিমুক্তভাবে, সময়মতো সেবা পেল কি না, সেটি দেখতে হবে। এটি ছিল দুদকের ৯৪তম গণশুনানি আর ১৪তম ফলোআপ গণশুনানি। শুনানি পরিচালনা করেন দুদকের পরিচালক নাসিম আনোয়ার। মঞ্চের এক পাশে বসেন ভুক্তভোগীরা, অন্যপাশে বসেন তিন সহকারী কমিশনার, ভূমি (এসি, ল্যান্ড)।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কাজী আরেফ আহমেদের স্মৃতি রক্ষার্থে পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনে একটি জায়গা বরাদ্দ দেয় সরকার। কাজী আরেফ আহমেদের ভাই এবং কাজী আরেফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজী মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘গত ১০ বছর ধরে ঘুরছি। জমির দলিল এখনো বুঝে পাইনি। ২০১৫ সালের গণশুনানিতে উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। কোনো কাজই হয়নি।’

দুদক পরিচালক নাসিম আনোয়ার বলেন, প্রথম গণশুনানির পর আড়াই বছরের বেশি সময়ে পার হলেও এ ঘটনার সমাধান হয়নি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদ আক্তার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেবেন বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

আবুল বজল নামের এক ব্যক্তি বলেন, তার ভগ্নিপতির নামে থাকা দক্ষিণ গোড়ান এলাকার একটি জায়গা ২০০৩ সালে অন্যের নামে নামজারি করে ভূমি অফিস। এরপর থেকে তার ভাগ্নে এই জমির মালিকানা নিজের নামে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ২০১৫ সালের শুনানিতেও বিষয়টির সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে তেজগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শরিফুল আলম বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন। সমস্যাটি সম্পর্কে তিনি জানতেন না। ভুক্তভোগী ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তিনি সমাধান দেবেন।

দুদক পরিচালক নাসিম আনোয়ারের প্রশ্নের জবাবে শরিফুল আলম জানান, ২০১৫ সাল থেকে তেজগাঁও সার্কেলে চারজন সহকারী কমিশনার দায়িত্ব পালন করেছেন। নাসিম আনোয়ার বলেন, একজন ব্যক্তির ওপর সমাধান নির্ভরশীল হলে ভোগান্তি কমবে না। পুরো অফিসের পরিস্থিতি বদলাতে হবে। ব্যক্তি বদলি হলেও জনগণের সেবা পেতে যেন সমস্যা না হয়।

শুনানিতে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীদের সমস্যা ১৫ দিনের মধ্যে সমাধান করার নির্দেশ দেন দুদক কমিশনার নাসির উদ্দীন। তিনি দুর্নীতিবিষয়ক যেকোনো তথ্য দুদকের টোল ফ্রি ‘১০৬’ নম্বরে ফোন দিয়ে জানানোর জন্য অনুরোধ করেন। ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরীফ রায়হান কবীর বলেন, গণশুনানির একটি লিখিত কপি থাকলে সুবিধা হবে। আগের গণশুনানিতে যেসব অভিযোগ আসছে, সেগুলো লিখিতভাবে থাকলে কর্মকর্তা বদলি হলেও পরে যিনি আসবেন, তার কাজ করার সুযোগ থাকবে।

"