রোহিঙ্গাদের আরো ৪৪ মিলিয়ন ডলার দিল যুক্তরাষ্ট্র

২০ কোটি ডলার দেবে এডিবি

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৮, ০০:০০

কক্সবাজার প্রতিনিধি

বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য আরো ৪৪ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মঙ্গলবার কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন শেষে ইউএসআইডি প্রশাসক মার্ক গ্রিন এ নতুন অর্থসহায়তার ঘোষণা দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাটসহ পদস্থ কর্মকর্তারা। একই দিন রোহিঙ্গাদের সহায়তায় সরকারকে ২০ কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ম্যানিলাভিত্তিক এই উন্নয়ন সংস্থাটির বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি মনমোহন প্রকাশ। কোন কোন খাতে এই সহায়তা দেওয়া হবে, তা ঠিক করতে তার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গতকাল কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়কেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

ইউএসআইডি প্রশাসক মার্ক গ্রিন বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আপৎকালীন জরুরি সহায়তা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র পূর্ব ঘোষণার অতিরিক্ত এই আর্থিক সহায়তা দিল। ফলে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে সৃষ্ট এ সংকটে মিয়ানমার ও বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াল ২০৭ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে মিয়ানমার থেকে আগত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য মোট মানবিক সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯৯ মিলিয়ন ডলার। নতুন তহবিলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কক্সবাজার ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি খাদ্য এবং পুষ্টি সহায়তা, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সাহায্যও দেবে।

২০১৭ সালের আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রদত্ত ২০৭ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতরের পপুলেশন, রিফিউজিস এবং মাইগ্রেশন (পিআরএম) ব্যুরো প্রায় ১২৮ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা দিয়েছে।

আসছে বর্ষা ও ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুমে জীবনহানি থেকে রক্ষা, আশ্রয় ও অত্যাবশ্যকীয় সেবা নিশ্চিত করতে শরণার্থীদের প্রস্তুতি গ্রহণে সাহায্য করছে ইউএসআইডি।

এডিবির আবাসিক মনমোহন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে এক মিলিয়ন রোহিঙ্গার সহায়তার জন্য আমরা (এডিবি) একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অনুদান দেব। একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এবং বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে এই সহায়তা দেওয়া হবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং এডিবির কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে ২০ কোটি (২০০ মিলিয়ন) ডলার অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এডিবি প্রতিনিধিদল কক্সবাজারে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে ফিরে এসে তারা রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য কী ধরনের প্রকল্প দেওয়া প্রয়োজনÑ তা ঠিক করা হবে বলে এডিবি কর্মকর্তারা জানান।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা সফরের সময় এডিবির প্রেসিডেন্ট তাকেহিকো নাকাও বলেছিলেন, বাংলাদেশ সরকার চাইলে এডিবি রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এগিয়ে আসবে।

তারই ধারাবাহিকতায় এডিবি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় ২০ কোটি ডলার অনুদান দিচ্ছে। অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশকে ৪০ কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

গত ১৮ থেকে ২১ এপ্রিল ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তরে সংস্থাটির বসন্তকালীন সভায় এ অনুদান প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে বলে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব মাহমুদা বেগম জানিয়েছেন।

মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় চার লাখ মানুষ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছে। এর মধ্যে গত বছর আগস্টে রাখাইনে তাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন শুরু হওয়ার পর আরও সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। বিপুলসংখ্যক এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে কক্সবাজার ও বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

"