ইফতারসামগ্রী নিতে গিয়ে প্রাণ গেল ৯ জনের

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৮, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একটি ইস্পাত কারখানার পক্ষ থেকে ইফতার সামগ্রী বিতরণের সময় হুড়াহুড়িতে প্রাণ গেল নারী ও শিশুসহ ৯ জনের। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ২৫ জন। পুলিশ বলছে, অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোকে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে সাতকানিয়ার নলুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম গাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে কেএসআরএম কারখানায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেনÑ সাতকানিয়ার খাগরিয়া গ্রামের ইসমাইলের স্ত্রী হাসিনা আক্তার (৩৫), খাগরিয়া রসুলপুর মহাজন পাড়ারনূর হোসেনের স্ত্রী রশিদা আক্তার (৫৪), দক্ষিণ ঢেমশা রাস্তার মাথা এলাকার হাসান ড্রাইভারের স্ত্রী রিনা বেগম (৩২), উত্তর ঢেমশা মোবারক হোসেনের মেয়ে সাকি (২২), লোহাগাড়ার কলাউজান গ্রামের আবদুস সালামের মেয়ে টুনটুনি বেগম (১৫), উত্তর কলাউজানের আলাউদ্দিনের মেয়ে নূরজাহান (১৮) এবং কলাউজানের রসুলবাদ গ্রামের আব্দুল হাফেজের স্ত্রী জোসনা আকতার (৫০), চন্দনাইশ উপজেলার পূর্ব দোহাজারীর নূর ইসলামের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৬০) এবং বান্দরবান জেলার সুয়ালক এলাকার ইব্রাহিমের স্ত্রী নূর আয়শা (৬০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কেএসআরএম শিল্প গ্রুপের মালিকের গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়ার নলুয়া ইউনিয়নের ঘাটিয়া ডাঙ্গায়। তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতি বছর রোজার আগে স্থানীয় দুস্থদের মধ্যে ইফতারি তৈরির বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ বছর ছোলা, সেমাই, চিনি, পেঁয়াজের মতো বিভিন্ন পণ্য মিলিয়ে ২০ হাজার মানুষের জন্য প্যাকেট তৈরি করা হয়েছিল। সোমবার সকাল ৮টা থেকে নলুয়ায় ওই মাদ্রাসার মাঠে ইফতার সামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা হলে সকাল থেকে প্রায় ৪০ হাজার লোক জড়ো হয়। এ সময় কেএসআরএম’র এমডি মো. শাজাহান ওই মাঠে উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই ওই দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল পরিদর্শ করেছেন জেলা প্রশাসক ইলিয়াছ হোসেন ও জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বলেন, কেএসআরএম গ্রুপের পক্ষ থেকে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছিল। অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোকে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ এ পর্যন্ত নয়জনের লাশ উদ্ধার করেছে। আর কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে কেএসআরএম-এর সিইও মো. মেহেরুল করিম বলেন, বিগত বছরগুলোতে এ গ্রামের লোকজনদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছিল। এ বছর আশপাশের অন্য কয়েকটি গ্রামের লোকজন চলে আসায় ভিড় বেড়ে গেছে। আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে আগেই জানিয়ে রেখেছিলাম। পুলিশ এসেছিল, আমাদের নিজস্ব সিকিউরিটির ১০০ জনের বেশি লোক ছিল। একটা মেডিকেল টিমও রাখা হয়েছিল মাঠের পাশে। এর পরও একটি দুর্ঘটনা ঘটে গেছে।

তিনি বলেন, মারা যাওয়া প্রত্যেকের পরিবারকে তিন লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার কোম্পানির পক্ষ থেকেই বহন করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কেউ যদি কেএসআরএম-এ চাকরি করতে চায়, সে ব্যবস্থাও করা হবে।

এদিকে সাতকানিয়ায় ভিড়ের চাপে মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাশহুদুল কবীরের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে সাতকানিয়ার ঘটনায় আহত মোস্তফা খাতুন নামের এক নারীকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি সাতকানিয়ার আমিলাইশ গ্রামের সৈয়দ আহমদের স্ত্রী। চমেক পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম বলেন, বিকাল ৪টার দিকে মোস্তফা খাতুনকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি আগে থেকে কথা বলতে ও শুনতে পান না। তাকে ২৮ নাম্বার ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

"