নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অভিযোগ

সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে সরকার

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৮, ০০:০০

খুলনা প্রতিনিধি

সরকার খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ভবিষ্যৎ নগরপিতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেছেন, কেসিসি নির্বাচন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি পরীক্ষা হলেও এরই মধ্যে তারা ফেল করেছে। তিনি ভীতিমুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে নগরপিতা নির্বাচিত করার পরিবেশ তৈরি করতে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।

গণগ্রেফতার ও পুলিশের হয়রানির প্রতিবাদে রোববার সকাল সাড়ে ৮টায় নগরীর মিয়াপাড়ায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি গত কয়েক দিন ধরে সংবাদ সম্মেলন করে একই অভিযোগ করে আসছেন। ভোট ডাকাতির নির্বাচনের আয়োজনে ভোটারদের উৎসাহ-উদ্দীপনা ভেস্তে যেতে বসেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নগরীর খালিশপুর, দৌলতপুর, টুটপাড়া, লবণচরা ও বানিয়াখামারসহ বিভিন্ন এলাকায় ভোট ডাকাতির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, চরমপন্থী-সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিরা এসব এলাকায় মোটরসাইকেল মহড়া দিচ্ছে। আগে থেকেই ব্যালট বাক্স ধরে রাখা, ভোটের আগের রাতে বোমাবাজি করে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং নেতাকর্মীদের ওপর আরো কঠিন আঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা মহানায়কের ভূমিকা পালন করছে। সরকার বিএনপিকে বাইরে রেখে এক দলীয় নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে নজরুল ইসলাম মঞ্জু কেসিসির শতভাগ ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এখনো সময় আছে। সব ভোট কেন্দ্রে সেনাবাহিনী এবং একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করুন। প্রতিটি কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, তিনি নিজেও ৭ দিন ধরে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। শনিবার রাতেও হাজার হাজার কর্মীর বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। নতুন করে আরো ১১ জনসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্বাচনী এজেন্ট এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীল সিনিয়র নেতাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

বিএনপির নেতাকর্মীরা গত ১০ দিনে ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার। ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। অনেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন মহিলা পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে নেতাকর্মীদের পরিবারের নারী সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।

এজন্য সরকার, পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশনকে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। কেউ দায় এড়াতে পারবে না। সাংবাদিকদের একটি অংশ আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণায় নামায় তিনি ‘জাতির বিবেকদের কাছে এ ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাত কাক্সিক্ষত নয়’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

"