সত্যের জয় হয়েছে : জাহাঙ্গীর

ইসিকে অভিনন্দন হাসানের

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৮, ০০:০০

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

উচ্চ আদালতের নির্দেশে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করায় নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট মেয়র পদপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। এদিকে, আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী বলেছেন, আদালতে আমি আপিল করেছিলাম, এরপর আদালত সুবিবেচনা করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে রায় দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন, সরকার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছিল। সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি একটি মিথ্যাচার এবং অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে চায়। সেই হিসাবে আমি বিশ্বাস করি সত্যের জয় হয়েছে। গতকাল রোববার বিকালে নির্বাচন কমিশন আগামী ২৬ জুন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করে।

আওয়ামী লীগের মনোনীত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বিএনপি কৌশলে ব্যারিস্টার মওদুদের মাধ্যমে মামলা করে। তারা চেয়েছিল সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতে আমি আপিল করি, এরপর আদালত সুবিবেচনা করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে রায় দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন, সরকার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছিল। সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে, বিএনপি একটি মিথ্যাচার এবং অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে চায়। সেই হিসাবে আমি বিশ্বাস করি, সত্যের জয় হয়েছে। আগামী ভোটের মাধ্যমেই প্রমাণিত হবে গাজীপুরের জনগণ আমাকে, নৌকাকে এবং আওয়ামী লীগকে ভালোবাসে। আগামী ২৬ জুন লাখো ভোটের ব্যবধানে নৌকার জয় হবে। ভোটের মাধ্যমেই জনগণ বিএনপির মিথ্যাচার ও দেশদ্রোহী যেসব কর্মকান্ড আছে, তা প্রতিহত করবে।’ গতকাল রোববার বিকালে নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক এবং রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে প্রতি বছরই পবিত্র রমজান মাসে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে থাকি। সেই অনুষ্ঠানগুলো বেশি বেশি করা হতে পারে। তাছাড়া প্রতিদিনই নেতারা এবং এলাকার গণমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় অব্যাহত আছে। তবে নির্বাচন কমিশনের বিধি মোতাবেক ১৮ জুন থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করব।’

অপরদিকে, হাসান সরকার সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রশাসন যেখানে ষড়যন্ত্র, অবিচার ও জুলুম করছে, সেখানে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’ তিনি আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।

‘একজন প্রার্থীর সমর্থক, গুণগ্রাহী এবং দায়িত্বশীল কর্মীদের যেভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে, বাড়িতে বাড়িতে পুলিশি তল্লাশি চালানো হচ্ছে, এসব ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন যদি ব্যবস্থা গ্রহণ না কওে, তাহলে আমি মহামান্য আদালতের শরণাপন্ন হব।’

‘মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে। তা না হলে আমি আইনের মাধ্যমে তা প্রতিহত করব ইনশাআল্লাহ।’ তিনি বলেন, ‘মানুষ যেভাবে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে সেভাবে নির্বাচনী বিধি-বিধান মেনে আমি প্রচারণা চালাব। প্রচারণায় জনগণের পছন্দনীয় কলাকৌশলে প্রয়োগ করব।’

হাসান সরকার অভিযোগ করে বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন করে এখনো মাইকে নৌকা প্রতীকের প্রকাশ্য প্রচারণা চলছে। গত শুক্রবার আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী টঙ্গী সরকারি কলেজ মসজিদে নগদ ২০ হাজার টাকার অনুদান দিয়েছেন।’

উল্লেখ্য, ১৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের নির্ধারিত তারিখ ছিল। মাঝপথে সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নির্বাচন স্থগিত করেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম উচ্চ আদালতে আপিল করেন। একই সময়ে নির্বাচন কমিশনও আপিল করেন। আপিল বিভাগ আগামী ২৮ জুনের মধ্যে নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশ দেন। গতকাল ১৩ মে নির্বাচন কমিশন নতুন করে ২৬ জুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। নতুন করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে প্রতিক্রিয়ায় জাহাঙ্গীর এসব কথা বলেন।

"