নার্সিং কলেজ উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী

স্যাটেলাইট নিয়ে বিশ্বে মর্যাদায় বাংলাদেশ

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছেছে। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে এ দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছে। আবার নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছিল বলেই আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে পেরেছে। আর সরকার গঠন করে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপকভাবে কাজ করেছে। আর সেই কাজের ফলেই আমরা বাংলাদেশকে আজকে মহাকাশ পর্যন্ত নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি।’ গতকাল শনিবার আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মুগদায় ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড নার্সিং এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে’র (এনআইএএনইআর) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় দেশে রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগ নির্ণয়ের আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, রোগ নির্ণয়ের ব্যাপারে কোথায় যেন একটা বিরাট ভুল হয়ে যায়। এখনকার যন্ত্রপাতি অনেক উন্নত হলেও সেগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ লোকের অভাব রয়েছে। কেউ অসুস্থ হলেই সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, থাইল্যান্ড, ভারতে দৌড়াতে হবে কেনÑ ওইসব দেশ যদি উন্নত চিকিৎসা দিতে পারে তাহলে আমরা কেন পারব না। আমাদেরও পারতে হবে। সমমানের সমমর্যাদার চিকিৎসাসেবা আমরাও দিতে পারব। সেই অভিজ্ঞতা, সেই শক্তিটা আমাদেরও অর্জন করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ অত্যন্ত সফলভাবে হয়েছে। বাংলাদেশ এখন মহাকাশে অবস্থান করছে। স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে আমরা অর্জন করেছি উচ্চ মর্যাদা। ক্ষমতার ধারাবাহিকতা ছিল বলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। মহাকাশে উপগ্রহ পাঠানোর তালিকায় ৫৭তম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান। এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে শুধু যে বিনোদন মাধ্যম উন্নত হবে তা নয়, এটি আমাদের সার্বিকভাবে কাজে লাগবে। এই স্যাটেলাইট বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনগণ ব্যবহার করতে পারবে। দেশের শিক্ষা, বিনোদন, চিকিৎসাসেবা, এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশবাসী এখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এখন বাংলাদেশে প্রত্যন্ত অঞ্চল, পাহাড়ি অঞ্চল, চরাঞ্চল ও দ্বীপাঞ্চল থেকে শুরু করে গোটা দেশে সেবা পৌঁছে দিতে পারব। সেই সঙ্গে বিশ্বের আরো কয়েকটি দেশকে এখান থেকে কিছুটা স্পেস ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করার সুযোগ আছে।

এ সময় দেশে রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগ নির্ণয়ের আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চিকিৎসক ও সেবিকাদের সেবা দেওয়ার মনোভাব নিয়ে কাজ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের নার্স, ডাক্তার তাদের ভেতর এই কথাটা সব সময় থাকতে হবে.. মানুষ যখন রোগী হয়ে আসে, তখন ওষুধের থেকেও ডাক্তার বা নার্সদের ব্যবহার, তাদের কথাবার্তা, তাদের একটা সহানুভূতিশীল মনোভাব থেকেই অর্ধেক রোগী ভালো হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসক ও সেবিকাদের একটু সংযত হওয়া দরকার বলেও প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন। চিকিৎসকদের সরকারি চাকরির বাইরেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার ক্ষেত্রে নিজের শারীরিক ও মানসিক শক্তির ওপর চাপ না দেওয়ার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে রোগীর সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। সে তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা কম। ডাক্তারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের কাজের ক্ষেত্রে সংযত হওয়া দরকার। কারণ সারা দিন সরকারি চাকরি করবেন আবার রাতের বেলায় প্রাইভেট চিকিৎসা করবেন তাতে তো মেজাজ এমনিতেই খিটমিটে হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর আগে বক্তব্যে ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী তার সংসদীয় এলাকায় একটি নার্সিং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুরোধ করেন। সাবের হোসেনের এই বক্তব্যে পূর্ণ সমর্থন দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম তার বক্তব্যে।

সাবের হোসেনকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, আমি তাকে অনুরোধ করব; উনি তার নিজের অর্থায়নে একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করবেন। তার জন্য অনুমতিও দিয়ে দেব, সব ব্যবস্থাও আমরা করে দেব। এখানে বেসরকারি খাতে হয়ে যাক। উনি পারবেন, এটা কোনো অসুবিধা হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি বিষয় আমরা দেখি রোগ নির্ণয়ের (ডায়াগনসিস) ব্যাপারে কেন যেন কোথায় একটি বিরাট ভুল হয়ে যায়। যদিও যন্ত্রপাতি এখন অনেক উন্নত। তবে সেগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ লোকের অভাব রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, অনেক মডার্ন মেশিন এখন সেগুলো চালানোর মতো বা সেগুলো রিডিং করার মতো বা সেগুলো দেখার মতো সেই ধরনের স্কিলড মানুষ তৈরি করা প্রয়োজন। সেখানে কী করতে হবে, আমার মনে হয় আপনারা সেভাবেই ব্যবস্থা নেবেন। আপনারা উদ্যোগ নিয়ে কী করতে হবে বলেন, আমরা করে দেব।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। এছাড়া কোইকা সহ-সভাপতি কিয়াংগুন সুল, কোইকার সাউথ এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর মহাপরিচালক ইয়ো ইয়ং কিং বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল হক খান।

 

"