বঞ্চিতদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি খালেকের

ফের গণগ্রেফতারের অভিযোগ মঞ্জুর

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৮, ০০:০০

খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও ১৪ দল সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী আলহাজ তালুকদার আবদুল খালেক বলেছেন, খুলনা সিটি করপোরেশন অনেক এলাকার মানুষ এখনো পরিপূর্ণ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য। এদিকে আবারো দলীয় নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতারের অভিযোগ করেছেন বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। এবারে নৌকা বিজয়ী হলে খুলনা সিটির দরিদ্র মানুষের জন্য সিডিসির পাশাপাশি নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে। দরিদ্র বস্তিবাসীদের স্যানিটেশন ব্যবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

আওয়ামী লীগ মেয়রপ্রার্থী বলেন, আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। একটি দল দীর্ঘদিন মেয়র পদে থেকেও খুলনার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করেনি। তিনি বলেন, ‘ঘুষ, দুর্নীতিমুক্ত কেসিসি গড়া এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা আমরা লক্ষ্য। এ জন্য তিনি নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

গতকাল শনিবার নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগকালে তালুকদার আবদুল খালেক এসব কথা বলেন। সকাল ৮টায় তিনি নগরীর মতিয়াখালী ব্রিজ থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। এরপর শিপইয়ার্ড, মতিয়াখালী মৌজা, মোল্লা বাড়ি, লবণচরা, জিন্নাহপাড়া, হঠাৎ বাজার, বান্ধা বাজার, বোখারী পাড়া, মোক্তার হোসেন রোড সংলগ্ন এলাকায় প্রচারণা চালান।

গণসংযোগকালে মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, জাসদ খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি ও ১৪ দল নেতা রফিকুল হক খোকন, সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. মো. সাইফুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউল ইসলাম মন্টু প্রমুখ।

খালেকের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত মঞ্জু

খুলনায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থীর আলহাজ তালুকদার আবদুল খালেকের নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, তালুকদার আবদুল খালেকের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পাগলের প্রলাপ বকছেন। তিনি উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। গতকাল শনিবার দুপুর ২টায় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, তালুকদার আবদুল খালেকের প্রধান সমন্বয়কারী, সাবেক ছাত্রনেতা ও আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেনসহ নির্বাচন সম্পর্কে নানা ধরনের বিরূপ মন্তব্য করছেন। ৭৫’র পরবর্তী সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে খুলনার ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এস এম কামাল হোসেন। তখন তিনি খুলনা সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গ্রামের বাড়ি হিসেব করলে খুলনা থেকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর বাড়ির চেয়ে এস এম কামালের বাড়ি অনেক নিকটে। তিনি অতিথি পাখি বা উড়ে এসে জুড়ে বসেননি।

তিনি আরো বলেন, এই শহরের মানুষ জানেন মঞ্জু সর্বহারাদের নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি জঙ্গিদের নেতা এটা তার কথায় নতুন করে প্রমাণিত হলো। তার আচরণের সঙ্গে বিএনপির বিতর্কিত নেতা যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদেরের অনেক মিল আছে।

পুলিশ আতঙ্কে নেতাকর্মীরা ঘরছাড়া, ফের গণগ্রেফতারের অভিযোগ মঞ্জুর

‘বাড়ি থেকে বের হলেই ডিবি, বের হলেই পুলিশ। গণগ্রেফতার অব্যাহত। কর্মীরা বাড়িতে ঘুমাতে পারছেন না। আত্মগোপনে থেকে গণসংযোগ করতে হচ্ছে। ভোটার সিøপ বিতরণ করতে দিচ্ছে না পুলিশ। অফিস থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার বিকেল থেকে শনিবার রাত ৩টা পর্যন্ত আরো ২১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার এড়াতে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের লুকিয়ে রাখা হয়েছে। পুলিশ আতঙ্ক রয়েছে দলীয় কর্মী এবং সাধারণ ভোটাররা। নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে’।

পুলিশের গণগ্রেফতার এবং হয়রানির ফের অভিযোগ করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশন-কেসিসি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৮ টায় নগরীর মিয়াপাড়ায় নিজ বাস ভবনে প্রেস ব্রিফিং করেন তিনি।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু একটি অর্থবহ, অংশগ্রহণমূলক ও ভীতিহীন নির্বাচনের জন্য আবারও সেনা মোতায়েনের দাবি জানান। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সরকারকে খুশি করতে চায়। এ কারণে বারবার সেনা বাহিনী নিয়োগের দাবি জানানো হলেও তারা এড়িয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পুলিশ জঘন্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। শুরুর দিকে শুধু কর্মীদের গ্রেফতার করা হলেও এখন নেতাদের গ্রেফতার করা শুরু করেছে। এ পর্যন্ত দেড়শ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার রাত ৩টা পর্যন্ত আরো ২১জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মধ্যে সাতক্ষীরার তিনজন এবং ২১নং ওয়ার্ডের একজনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি পুলিশের কাছে তাদের সন্ধান দাবি করেন।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সরকার এবং সরকারি দল আতঙ্ক ছড়িয়ে বিএনপিকে মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। কিন্তু তা সফল হয়নি। বরং তিনি গণসংযোগে বেরোলে জনতার ঢল নামছে। আর গণসংযোগ শেষ হলেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি অফিস ভাঙচূর করা হয়েছে। ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি অফিসে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য করতে দেওয়া হচ্ছে না- এমনকি অনেক নেতাকর্মীর পরিবারকে ঘর-বাড়িও ছাড়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু কেসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এই শহরে সন্ত্রাসের মেয়র হয়ে আপনার সম্মান বাড়বে না। এভাবে গণগ্রেফতার, অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে যদি জিতেও যান তবে নগরবাসীর সামনে মুখ দেখাতে পারবেন না, অবিলম্বে পুলিশকে গণগ্রেফতার বন্ধ করতে বলুন’। তিনি তালুকদার আবদুল খালেককে সন্ত্রাসের পথ পরিহার করে ভোটের রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

মাত্র ২৮ দিনের প্রচারণায় ৩১টি ওয়ার্ডের সকল এলাকা এবং সকল ভোটারের কাছে পৌঁছাতে না পারায় তিনি নগরবাসীর কাছে ক্ষমা চান। প্রতিদিন তাকে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের খবর নিতে হচ্ছে। তাদের পরিবারের খোঁজখবর নিতে হচ্ছে। প্রেস ব্রিফিং করতে হচ্ছে। জানান তিনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহপ্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, জামায়াতের মহানগর শাখার সহকারী সেক্রেটারি অ্যাড. শাহ আলম, নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফকরুল আলম, অ্যাডভোকেট বজলার রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

"